মেসির টানে সাইকেলে কেরালা থেকে রাশিয়া!

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২১ জুন ২০১৮, ১৪:৩১ | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৮, ১৪:১২

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার যুবক ক্লিফিন ফ্রান্সিস সাইকেলে করেই তার বাড়ি থেকে পাড়ি দিয়েছেন রাশিয়ায়। চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসরে যোগ দিতে এমন কাজ করেছেন তিনি।

ঘটনার শুরুর কথা বলতে গিয়ে ক্লিফিন জানান, গত বছরের আগস্টে আমার বন্ধু আমার কাছে জানতে চেয়েছিলো আমি রাশিয়া বিশ্বকাপের খেলা কোথায় দেখবো। তখন আমি বলেছিলাম, ‘আমি রাশিয়াও চলে যেতে পারি খেলা দেখতে।’

তখন তিনি কিভাবে বিমানের টিকিট কাটতে হয় বা ভ্রমণের তেমন কিছুই জানতেন না। গণিতের ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষকতা করে আয় করেন দিনে তিন হাজারেও বেশি টাকা আয় করেন তিনি।

তিনি জানান, ‘আমি অনুধাবন করলাম রাশিয়ায় যাওয়া ও এক মাস সেখানে থাকার জন্য আমার যথেষ্ট টাকা নেই। তারপরেই নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকি যে কমদামে কি উপায় হতে পারে। আর এটার উত্তর ছিলো বাইসাইকেল।’

আর এতো কষ্টের চিন্তার একটাই কারণ সেটি হলো পুরষ্কার হিসেবে সেখানে মিলতে পারে লিওনেল মেসিকে দেখার সুযোগ। তিনি বলেন, ‘সাইকেল ভালোবাসি ও ফুটবল পাগল। শুধু এ দুটোরই সমন্বয় ঘটিয়েছিলাম আমি।’

প্রথমে পরিকল্পনা করেছিলেন যে পাকিস্তান হয়ে যাবেন কিন্তু পরে সেটি বাদ দেন ভারতে পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাকর সম্পর্কের কারণে।

ফুটবল এবং বলিউড

পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার জন্য কিছুটা মূল্যও দিতে হয় ক্লিফিনকে। যেমন দুবাইতে নিজের সাইকেল নিতে পারেননি বরং সেখানে আরেকটি কিনতে হয়েছে প্রায় সাতশ ডলার খরচ করে। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ১১ই মার্চ ইরানের বান্দার আব্বার বন্দরে প্রবেশ করেন।

ইরান সম্পর্কে ক্লিফিন বলেন, ‘এটা বিশ্বের চমৎকার একটি দেশ এবং মানুষগুলোও চমৎকার। ৪৫ দিন ওখানে কাটিয়েছি  অথচ এর মধ্যে হোটেলে ছিলাম মাত্র দু দিন'। ইরানের যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই স্থানীয়দের অতিথি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।’

তিনি জানান, ‘ইরান সম্পর্কে আমার ধারণাই বদলে গেছে। আসলে ভূ রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে কোন দেশ সম্পর্কে ধারণা করাই উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানীরা আমার কাছ থেকে কথা নিয়েছে যে রাশিয়ায় ইরান দলকে সমর্থন যোগাবো। আর তারাও বলিউডের সিনেমা পছন্দ করে। আসলে এটিই আমাকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করেছে।’

ইরান থেকে তিনি সাইকেল চালিয়ে যান আজারবাইজান। কিন্তু সেখানে তাকে সীমান্তে সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ পাসপোর্টে তার ছবি দেখে বিশ্বাস হচ্ছিলো না সীমান্ত পুলিশের। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘অতিমাত্রায় সাইক্লিং এর কারণে ততদিনে আমার ওজন প্রচুর কমে গিয়েছিলো। পাসপোর্টের ছবির মতো আমাকে দেখাচ্ছিলোনা। আট ঘণ্টা সময় নিয়ে পুলিশ আমার তথ্যাদি যাচাই করেছে। যদিও তারা বেশ ভালো আচরণই করেছিলো আমার সাথে।’

আজারবাইজানেও হোটেল এড়াতে নিজের বহন করা তাঁবুতেই অবস্থান করেছেন তিনি। এরপর যখন জর্জিয়াতে পৌঁছলেন, তখন ক্লিফিনকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিলনা। ফলে তার পরিকল্পনায় আরও কিছু পরিবর্তন আনতে হয়।

‘সব ডকুমেন্টস ছিলো আমার। তারপরও জানি না কেন আমাকে অনুমতি দিলো না তারা। তারা বিপদেই ফেলে আমাকে কারণ আজারবাইজানের জন্য আমার সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ছিলো।’

এরপর পুরো একদিন তিনি আটকে থাকেন জর্জিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে নো ম্যানস ল্যান্ডে। পরে জরুরি ভিসা পান আজারবাইজানে পুণরায় প্রবেশের জন্য।

‘পরে আরেকটি রুট বের করি রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য। লোকজন বলে আজারবাইজানের সাথে রাশিয়ার দাগেস্তান অঞ্চলের স্থল সীমান্ত আছে। সেখানেই যাই আমি। কিন্তু জায়গাটা ঠিক নিরাপদ মনে হলোনা। কিন্তু আমার ফিরে যাওয়ার উপায় ছিলোনা। ৫ই জুন দাগেস্তানে প্রবেশ করি।’

ইংরেজি না বুঝার কারণে ভাষা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো জানিয়ে ক্লিফিন বলেন, ‘একজন ভারতীয়কে সাইকেলে করে তাদের এলাকায় প্রবেশ করতে দেখে তারা অবাক হয়। এখানে আবার সেই ফুটবল আর সিনেমাই আমাকে তাদের সাথে সহজ করে তোলে।’

এরপর তিনি সেখান থেকে যান তামভবে যেটি মস্কো থেকে সড়কপথে ৪৬০ কিলোমিটার দুরে কিন্তু তাকে যেতে হবে মস্কো ২৬শে জুনের ফ্রান্স বনাম ডেনমার্কের খেলা দেখতে কারণ ওই একটি খেলার টিকেটই তার আছে।

তিনি জানান, ‘কিন্তু আমি সমর্থন করি আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসি আমার প্রিয়। তাকে পুজো করি আমি। তার সাথে দেখা করা আর তাকে আমার সাইকেলে একটা অটোগ্রাফ দেয়ার কথা বলাটাই আমার স্বপ্ন।’

ক্লিফিন ফ্রান্সিসের আশা একদিন তার দেশ ভারতও বিশ্বকাপ খেলবে আর সেটি হবে আগামী দু দশকের মধ্যেই। তিনি বলেন, রাশিয়ার পথে তার যাত্রার এ গল্প পড়ে যদি একটি শিশুও সাইক্লিং ও ফুটবল নিয়ে আগ্রহী হয় তাহলেই তিনি সার্থক।  সূত্র: বিবিসি

ঢাকাটাইমস/২১জুন/একে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত