পাকিস্তানি তরুণীতে সাহস পেলেন ‘হতাশ’ ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৮, ১৮:২৬

এক পাকিস্তানি তরুণীর জীবন কাহিনি পড়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন ‘হতাশ’ হয়ে পড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই পাকিস্তানি তরুণী কঠিন পরিবেশে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন যেভাবে, ফখরুলের বিশ্বাস বাংলাদেশেও বিএনপি একইভাবে কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবদিক ইউনিয়নের একাংশের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল।

পাশের চেয়ারে বসা আমার দেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে বসে অনেক কথা হচ্ছিল, তিনি মাঝে মাঝে ফ্রাসট্রেশনে (হতাশায়) ভোগেন, আমিও ভুগি। আমরা সবাই কিন্তু কমবেশি ভুগি।’

পাকিস্তানি তরুণীর কাহিনি তুলে ফখরুল জানান, তার বিশ্বাস জেগেছে, খারাপ পরিস্থিতিই শেষ কথা নয়। বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে একটা সোশ্যাল মিডিয়াতে পাকিস্তানি এক মেয়ের তার জীবনের কথা শুনছিলাম। মেয়েটা পঙ্গু হয়ে গেছে একটা কার অ্যাক্সিডেন্টে (দুর্ঘটনায়)। তার বিয়ে হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস আগে। কার অ্যাক্সিডেন্টে তার স্বামী বেঁচে যায়, কিন্তু সে পঙ্গু হয়ে যায়। পঙ্গু হওয়ার পরে, সে কীভাবে সংগ্রাম করে, লড়াই করে টিকে আছে এবং সে আজকে পৃথিবীতে মোটামুটি লড়াকু মহিলা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেটা দেখার পর থেকে আমার মনে হয়েছে, না হতাশাই শেষ কথা নয়। মানুষ অবশ্যই লড়াই করবে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচতে হবে।’

‘আমরা রাজনীতিক দল হিসেবে, একটা মধ্যপন্থী দল হিসেবে উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময় গণতন্ত্রের রাস্তাটা খুঁজি। একটা পরিসর খুঁজি, স্পেস খুঁজি। ডেমোক্রেসির একটা স্পেস থাকলে আমরা একটু কমফোরটেবল ফিল করি; আমি একটা বক্তৃতা করব, আমি মাঠের মধ্যে একটা জনসভা করব, আমি রাস্তায় মিছিল করব, আমার বক্তব্যগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরব। জনগণ একসময় আমাদের সঙ্গে আসবে। এটাই আমরা অতীতে দেখেছি।’

‘এখনকার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। একটা ভীতি, ত্রাসের ফোবিয়া ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। গত কয়েক বছরে তাদের নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, শিশুকে আটকে রেখে ব্লাকমেইল-কী না হয়েছে?’

‘গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব খালেদার’

বিএনপি মহাসচিবের দাবি, স্বাধীন বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের জন্য যদি কাউকে সবচেয়ে কৃতিত্ব দেয়া যায়, তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। বলেন, ‘সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে আসা। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই বয়সেও তিনি কারাগারে।’

‘এই সরকারকে কী বলব, বলার ভাষাই নেই আমাদের। নিলর্জ্জ! তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। ভাবখানা এমন যদি এভাবেই শেষ হয়ে যায় তাহলে আপদ গেল। কারণ ক্ষমতায় আসার প্রধান বাধা হলো খালেদা জিয়া।’

খালেদা জিয়া এখনও জনপ্রিয় নেত্রী উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি যে বাঁশি বাজাবেন সেই বাঁশিতে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথে নামবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং এটা ঘটবে, এজন্য তারা এভাবে তাকে আটকে রেখেছে।’

‘এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, মানুষের মধ্যে সাহস জাগানো। আর তরুণদের কাছে আমি সব সময় যে কথাটা বলি, জেগে উঠতে হবে। পৃথিবীর যে কোনো দেশে, যে কোনো সমাজে তরুণরা ছাড়া সমাজকে জাগাতে পারবে না। তরুণদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’

‘আমরা ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব, ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব, আমরা ভালো কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব কিন্তু দেশ যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তার দিকে তো ঘুরে তাকাতে হবে। তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 (ঢাকাটাইমস/২১জুন/এমএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত