মেয়র পদ পুনরুদ্ধার করব: কামরান

সিলেট ব্যুরো প্রধান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৮, ০৮:৩২

পাঁচ বছর আগে হারানো সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ পুনরুদ্ধারের আশা করছেন দুইবারের মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান। আশা করছেন, তিনি জনগণ এবার আর তাকে ফেরাবেন না।

আগামী ৩০ জুলাইয়ের ভোটকে সামনে রেখে সাবেক মেয়রকেই আবার প্রার্থী করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কামরান ঢাকাটাইমসকে এ কথা বলেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের মেয়র বলেন, ‘দল যেহেতু আমারে ওপর আস্থা রেখেছে, সবার সহযোগিতায় মেয়রের পদটি পুনরুদ্ধার করতে চাই।’

সিলেটে ভোটে কামরানের জয়জয়কার ছিল ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। প্রথমে সিলেট পৌরসভার কাউন্সিলর এবং পরে চেয়ারম্যান হন কামরান। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরের বছর বিএনপি সরকারের আমলে হওয়া নির্বাচনেও বাজিমাত করেন তিনি।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগারে থেকেও জিতে পরপর দুইবারের মতো মেয়র হন কামরান। তবে ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক ৩৫ হাজার ১০০ ভোটে হারিয়ে দেন তাকে।

টানা জয়ের পর অপ্রত্যাশিত পরাজয়েও কামরান রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে সরে যাননি। আর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জানাচ্ছিলেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে আবার ভোটের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আর সেই মোতাবেকই কাজ করে গেছেন তিনি।

কামরানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পেছনে সে সময় রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উচ্ছেদে ব্যাপক প্রাণহানির গুজব ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়। হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও সে সময় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আবেগি বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়।

তবে সময়ের আবর্তে শাপলা চত্বরে কথিত গণহত্যার প্রচার গুজব হিসেবেই প্রমাণ হয়েছে। সেখানে বিপুল প্রাণহানির দাবি করা হলেও পরে কারও নাম দিতে পারেনি হেফাজত। আর ইদানীং সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আর ব্যাপক হত্যার অভিযোগ তুলছেন না।  

এর পাশাপাশি সে সময় আওয়ামী লীগের কোন্দলও কামরানের পরাজয়ের একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গত পাঁচ বছর এই বিষয়টি নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর কামরান কথা বলেন ঢাকাটাইমসের সঙ্গে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। দলীয় সভাপতি আমাকে বছরখানেক আগেই সিগন্যাল দিয়ে রেখেছিলেন এবং কাজ করতে বলেছেন। আমি সেই লক্ষ্যেই মাঠে ছিলাম। জনগণের সঙ্গে কাজ করে গেছি।’

কামরান বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে হারার পরও জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাইনি, সব সময় মনেুষের পাশে ছিলাম। আশা করি এবার আর জনগণ আমাকে ফেরাবে না।’

‘দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ এখন সিলেটে একাট্টা। সবাই নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করবেন।’

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে মোট সাত জন মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অন্যরা হলেন: আসাদ উদ্দিন, জাকির হোসেন, মাহিউদ্দিন সেলিম, ফয়জুল আনায়ার ও আজাদুর রহমান আজাদ।

ঢাকাটাইমস/২৩জুন/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত