চুরির মোটরসাইকেল ফেরত দিতে চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৮, ১৭:৩১

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আটটি মোটরসাইকেল।  প্রকৃত মালিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার সময়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অভিযানের বর্ণনার সময় এ আহ্বান জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড প্রসিকিউশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের একটি টিম ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডেমরা থানা এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- মো. সালিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে  সবুজ (৩৫), মো. রনি (৩৫),  মো. টিপু (২৪), বাপ্পি সরকার (২৩) ও মো. সালাউদ্দিন ফকির (২৩)।

দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আসামি সালিম উদ্দিন আহম্মেদ সবুজের দেহ তল্লাশী করে দুইটি রিভলবার ও ২২ রাউন্ডগুলি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে আটটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রনি ও টিপু মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের নেতা দ্বীন ইসলাম (পলাতক) ও সালিম উদ্দিন আহম্মেদ সবুজ। তারা বিভিন্ন বাসা বাড়ি, পার্কিং এলাকায় রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলের লক ভেঙে অথবা রাস্তায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাই করে। পরবর্তী সময় চোরাই গাড়ির ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে এবং দালালের মাধ্যমে কম মূল্যে বিক্রয় করে। তাদের সহযোগী পলাতক দ্বীন ইসলামের নেতৃত্বে ডাকাতি ছিনতাইসহ চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল কেনা বেচা করে থাকে। দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, যাদের মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতি হয়েছে, তাদের মোটরসাইকেল উদ্ধারকৃত মোটর সাইকেলের মধ্যে থেকে থাকলে থানায় মামলা করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করে ফেরত নিয়ে যান।

পুলিশ আরো জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসা মাছের পিকআপ বা ট্রাক ডাকাতি চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ চক্রটি পরে পিকআপ দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারপর অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাছের পিকআপ থেকে মাছগুলো ডাকাতি করে নিজেদের পিকআপে করে নিয়ে যায়। পরে তারা সেই মাছগুলো তারা বিক্রি করে থাকে।

ওই সদস্যদের কাছ থেকে একটি চাপাতি, দুইটি ছোরা, একটি চাকু ও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার সময়ে ডেমরা থানার রাণীমহল সিনেমাহলের সামনে গলাকাটা ব্রিজের ওপর থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আমজাদ ওরফে আলমগীর, মো. মূসা মাতব্বর, মো. আলমগীর ও ওমর ফারুক।

ডিএমপির এই কর্মতকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা  জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আগত মাছের পিকআপ বা ট্রাককে টার্গেট করে তারা উদ্ধারকৃত পিকআপ দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারপর অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাছের পিকআপ থেকে মাছগুলো ডাকাতি করে নিজেদের পিকআপে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে মাছগুলো তারা বিক্রি করে থাকে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ অন্য একটি অভিযানে পশ্চিম শেওড়া পাড়া থেকে দুইটি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ এক জন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতের নাম- নূরুল আমীন। তাদের সকলের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক পৃথক মামলা রুজু হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/২৪জুন/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত