দৌলতদিয়া ঘাটে এখনো কমেনি যাত্রী দুর্ভোগ

এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৮, ১৯:৩৯

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গত কয়েক দিনের তীব্র যানজট পরিস্থিতি রবিবার দুপুর থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু তাতেও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমেনি। মহাসড়কে ছোট যানবাহন বন্ধ থাকায় প্রায় আট-দশ কিলোমিটার ঘুরে ও পাঁচ-ছয় গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের ঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে। এর সাথে ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টি হওয়ায় গরমের সাথে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শনিবারের তীব্র যানজট পরিস্থিতি রবিবার দুপুর থেকে অনেকটা কমে এসেছে। আগের দুই দিন মহাসড়কে ৮/১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট ও দুঃসহ গরমে কর্মস্থলগামী যাত্রীরা ছিলেন নাকাল। তবে রবিবার দুপুরের পর থেকে আবার কিছুটা চাপ বাড়তে থাকে। বিকাল চারটা নাগাদ ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত ফোর লেন সড়কের পশ্চিম পাশে দুই সারিতে অন্তত ৩ শতাধিক যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। এরমধ্যে অন্তত ২ শতাধিক বাস রয়েছে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলো আটকে আছে ২/৩ দিন ধরে। তবে মহাসড়কের পূর্বদিকের লেন পুরো ফাঁকা। ফেরি থেকে নেমে বা ঘাট থেকে যে কোন যানবাহন নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে আসছে। তবে আটকে থাকা বাসযাত্রীদের অনেককেই দীর্ঘ সময় আটকে না থেকে ঘাটের উদ্দেশ্যে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

এদিকে ঘাট পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও পিকআপ, মাহেন্দ্র, অটোরিকশার মত ছোট যানবাহনগুলোকে গত কয়েক দিনের ন্যায় ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড হতে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এই যানবাহনগুলো প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার ঘুরে চর দৌলতদিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে। এই যানবাহনগুলো হতে গোয়ালন্দ মোড় থেকে যাত্রী প্রতি ১০০ টাকা এবং গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড হতে ৪০/৫০ টাকা করে আদায় করছে। যা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ৫/৬ গুণ বেশি।

অটোরিকশা চালক মজিবর রহমান, মাহেন্দ্র জয়নাল শেখ, হয়রত আলীসহ অনেকেই বলেন, গত কয়েক দিনের চেয়ে রবিবার ঘাটের অবস্থা অনেক ভালো। তবুও পুলিশ ঘাটে যেতে দিচ্ছে না। এতে করে তাদেরকে দীর্ঘপথ ঘুরতে হচ্ছে। যাত্রীদের সময় ও বেশি টাকা ব্যায় হচ্ছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মীর্জা একে আজাদ জানান, ঘাট পরিস্থিত সকাল থেকেই অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও ছোট গাড়িগুলোকে ঘাটে আসতে দেয়া হচ্ছে না। এ গাড়িগুলোকে সরাসরি ঘাটে ঢুকতে দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে ১৮টি ফেরি দিনে সার্বক্ষণিক চলাচল করছে। রাতে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও ইউটিলিটি ফেরি সন্ধ্যামালতি লোকবল সংকটে বন্ধ রাখা হচ্ছে। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে গত কয়েকদিন বাড়তি চাপের কারণে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হয়েছে। এজন্য কিছু পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে পারাপার করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত