খেলাপি ঋণ জিয়ার আমল থেকেই: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ জুন ২০১৮, ২০:৩০ | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৮, ২০:২৫

সাম্প্রতিক সময়ে তুমুল আলোচিত খেলাপি ঋণের ‘সংস্কৃতি’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয় বলে জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। বলেছেন, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে অর্থনীতির ক্ষতি হবে।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ বাজেট নিয়ে এক সংলাপে অংশ নিয়ে সিপিডি প্রধান এসব কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, ‘খেলাপিঋণ সংস্কৃতি পুরনো, এটা এই সরকারের সৃষ্টি নয়। এটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছে। সেই থেকে খেলাপি ঋণের পরিধি দিন দিন বেড়েছে। বর্তমানে সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’

এই সমস্যা সমাধান এখনই এর সুরাহা করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির জন্য বিপদজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ বাজেট নিয়ে এক সংলাপে অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ এসব কথা বলেন।

দেশের অন্যতম শীর্ষ এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এখন দুই অঙ্কের কোটা অতিক্রম করেছে, যা ব্যাংক খাতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

‘বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে প্রকৃত খেলাপি ঋণ হচ্ছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করা, যা পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে আর্থিক খাতের সংস্কারের পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। বলেন, ‘দেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

‘খেলাপি ‍ঋণ আমাদের আশঙ্কা নয়, বরং আর্থিক খাতের কাঠামোর ধরন নিয়েই আমাদের শঙ্কা।’

সিডিপির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা রহমান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘কর কাঠামোতে নতুন বিন্যাস না হলে মধ্যবিত্তের চাপ বাড়বে। বাধাগ্রস্ত হবে দারিদ্র্য বিমোচন। শুধু করের চাপই নয় মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে, যা নিম্নবিত্তকে আরও সংকটে ফেলবে। যাতে সংকটে নষ্ট হবে অর্থনীতি'র ভারসাম্য।’

ব্যাংক খাতে করপোরেট কর কমানোরও সমালোচনা করে সিপিডি। তাদের আশঙ্কা, এতে কর আদায় কমবে। কিন্তু এর সুফল নিশ্চিত করা সম্ভ হবে না। ব্যক্তি কর আয়সীমা পরিবর্তন দরকার বলে মনে করে সংস্থাটি। 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা উবার, পাঠাওয়ের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট নিম্ন এবং মধ্যবিত্তকে চাপে ফেলবে। এছাড়া ছোট ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করাতে চাপ বাড়বে। উৎপাদন ও ফার্নিচার ব্যবসায় করারোপ করায় চাপ তৈরি করবে।

গুড়ো দুধ আমদানিতে কর ছাড় এবং তামাক রপ্তানির সুবিধা দেয়ায় সংকট তৈরির আশঙ্কাও করছে সিপিটি। দেশীয় পোশাকের উপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব বিদেশি কাপড় আমদানিকে উৎসাহিত করবে বলেও আশঙ্কা সিপিডির। কর কাঠামোর বিন্যাসে তথ্য প্রযুক্তিখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থাটি।

মুক্ত আলোচনায় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের জিডিপি গ্রোথের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ছে না। এটার সমন্বয় না করতে পারলে ডায়াবেটিকস রোগীর মতো অথনীতি শক্তি হারিয়ে ফেলবে।’

‘২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার জরুরি। এটা করা না হলে দেশের অর্থনীতি ডায়াবেটিকস রোগীর মতো তিলে তিলে নিঃশেষের দিকে ধাবিত হবে।’

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো রওনক জাহান বলেন, ‘অনেকে এবারের বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট বলেছেন। দারিদ্র্য মানুষের জন্য প্রতিবার বরাদ্দ থাকে। সামাজিক সুরক্ষায় বাজেট বাড়ছে। এটি সত্য হলেও এদিয়ে ভোটার টানা যাবে না ‘

‘সরকারের ৯ বছরে সাধারণ মানুষের বৈষম্য বেড়েছে। ফলে এ বাজেটে ভোটার আকৃষ্ট করার কিছু নাই।’

এনজিও প্রতিনিধি খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেটে প্রতিবারই ৫ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ছে। কিন্তু ১৯৫৮ সালের কাঠামোতে এখন পর্যন্ত কোন পরিবর্তন আসেনি। তাই আকার বাড়ানোর সঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান,  সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৪ জুন/এনআই/ডব্লিউবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত