ওয়ার্ড পরিক্রমা ৪৩: কিরণ না টুটুল?

ইফতেখার রায়হান, টঙ্গী (গাজীপুর)
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৮, ২১:৩১

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। এই শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার প্রচার। স্বল্প সময় থাকার কারণে দিন-রাত ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন ৪৩নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা। সব প্রার্থীর মুখেই জনগণের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাগাড় এলাকা ও বিসিক শিল্প নগরীর কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ৪৩নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে রয়েছে চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আসাদুর রহমান কিরণ (ঘুড়ি প্রতীক), আজমিরি খাঁন টুটুল (ঠেলাগাড়ী প্রতীক), মনির হোসেন (লাটিম প্রতীক) বিএনপি সমর্থিত মাহবুব আলম (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক)। এদের মধ্যে আজমিরি খাঁন টুটুল ও মনির হোসেন আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ।

স্থানীয়রা মনে করেন, ভোটের মূল লড়াই হবে আসাদুর রহমান কিরণ ও আজমিরি খাঁন টুটুলের মধ্যে।

৪৩নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৮৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ৪৭০ জন, মহিলা ১৮ হাজার ৮৭৩ জন, মোট ভোট কেন্দ্র ১৩টি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪৩নং ওয়ার্ডটি টঙ্গী বিসিক শিল্প নগরীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে গঠিত হওয়ায় এখানে আবাসিক বসবাসের থেকে কল কারখানার শ্রমিক ভোটারের সংখ্যা বেশি। এই এলাকায় গত পাঁচ বছরে রাস্তাঘাটের বেশ উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের পেছনে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের ব্যাপক অবদানের কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাছাড়া মেধা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে কিরণ। টঙ্গী পৌরসভা থাকাকালীন তিনবার ও সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর একবারসহ টানা চারবার এই এলাকার জনপ্রতিনিধি আসাদুর রহমান কিরণ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২৮ মাস দায়িত্ব পালন করার সুবাধে তিনি নিজের ওয়ার্ডকে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তর করেছেন। এই ওয়ার্ডের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

অপরদিকে তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় আজমিরি খাঁন টুটুল। মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের কাছের মানুষ হওয়ায় টুটুলের রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। তাছাড়া ওয়ার্ডের তরুণ ভোটারদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় টুটুল। তাই এখানকার জনগণ অভিজ্ঞ কিরণ নাকি তরুণ টুটুলকে বেছে নেয় সেটি দেখার অপেক্ষায়।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসাদুর রহমান কিরণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকাকালীন এই এলাকায় রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ ও মাদক নির্মূলে ব্যাপক কাজ করেছেন।

অন্যদিকে আজমিরি খাঁন টুটুলও তরুণ, তাকে আমরা আমাদের সকল কাজে পাশে পাই। দুইজনই এই এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে মেধা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে টুটুলের চেয়ে অনেকাটাই এগিয়ে কিরণ। গত নির্বাচনেও এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আসাদুর রহমান কিরণ জানান, আমি টঙ্গী পৌরসভায় তিনবার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচণে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসীর দাবি পূরণ করেছি। এছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মতো বৃহৎ একটি এলাকার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দীর্ঘ ২৮ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সুবাধে এই ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরের জন্য নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আশা করি, এবারের নির্বাচনেও জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আবার আমাকে জয়ী করবে।

অপর কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আজমিরি খাঁন টুটুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়েছি। এলাকার ভোটাররা আমাকে সৎ মানুষ হিসেবে ভালোবাসে। আমি আশাবাদী, জনগণ তাদের উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত