অভাবগ্রস্ত তোতার শিকল বাঁধা জীবন

মনোনেশ দাস, ময়মনসিংহ
| আপডেট : ২৪ জুন ২০১৮, ২২:১৯ | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৮, ২১:৫২

অর্থাভাবে সুচিকিৎসা হচ্ছে না তোতা মিয়ার। ছেড়ে দিলেও বিপদ। স্বজন এমনকি প্রতিবেশীদের ওপর চড়াও হওয়ার ভয়। তাই মানসিক ভারসাম্যহীন এক মধ্য বয়সী ব্যক্তিকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রাম এলাকার ওই পরিবারের দাবি, প্রতিবেশীদের নালিশ শুনতে শুনতে বাধ্য হয়ে এই পথ নিয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদারের আশ্বাস, দ্রুত ওই রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

ফুলবাড়ীয়ার ১০নং কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদের কাছেই বিদ্যানন্দ গ্রাম। সেখানেই বাড়ি তোতা মিয়ার। এখন বয়স প্রায় ৪০ বছর।

স্বজনরা বলছেন, তার মা বেঁচে থাকতে একবার মানসিক রোগে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ফের ছয়-সাত বছর ধরে সমস্যা দেখা দেয়। আগে তিনি পারিবারিক আয়ের উৎস দিয়ে সংসার চালাতেন। চিকিৎসায় জমি- জমা বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর থেকে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়। অভাবে তার স্ত্রী প্রতিবেশী কৈয়ারচালার বাসিন্দা হেলেনা বেগম তার পেটে থাকা মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছেন।

তোতার ভাইদের দাবি, আয় নেই। যা আছে তা দিয়ে স্ত্রী ও ছেলে- মেয়ে নিয়ে সংসার চলে। কিন্তু ভাইয়ের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি সংলগ্ন একটি ঝোঁপের পাশে একটি গাছে শিকল ও তালা দিয়ে পা বাঁধা তোতা মিয়া। লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পড়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। মাথার উপরে খোলা আকাশ।

তোতার একমাত্র মেয়ে কিশোরী বয়সের নাছিমা আক্তারের অভিযোগ, আমার বাবার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই চাচারা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

তোতার বড় ভাই নুরুল ইসলাম মৌলভীর দাবি, আমাদের মা বেঁচে থাকতে তোতার চিকিৎসায় ওর জমি-জমা বিক্রি করে দিয়েছেন। ‘আমাদেরও রোজগার কম। কোনও রকমে দুবেলা দু’মুঠো খেতে পাই। বাড়ি সারাই করতে পারি না। ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ জোটাব কী ভাবে?’

তিনি জানান, হাসপাতালে তোতার চিকিৎসা হয়েছে। কিন্তু সেখানে নিয়মিত নিয়ে যাওয়ার খরচ জোটাতে পারেন না। তাই টানা ছ’মাস বেঁধে রাখা হয়েছে তোতাকে। তা নাহলে সে কখনও বাড়ি লোকজনকে, কখনও প্রতিবেশীদের উপরে চড়াও হয়। তাই বাধ্য হয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছে। কষ্ট হলেও মেনে নিয়েছি। আমরা নিরুপায়।’

স্থানীয়রা জানায়, রাস্তা দিয়ে গেলেই তোতা আমাদের ডাকাডাকি করে। খুব খারাপ লাগে। প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা না নিলে ঠিক মতো চিকিৎসা হওয়া মুশকিল।

ইউএনও বলেন, এভাবে শিকল দিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা যায় না।

তিনি কথা বলেন স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে। তোতার খোঁজ নিতে ইউএনও এসেছেন শুনে ভিড় জমান আশপাশের মানুষজনও। তারা ওই মধ্যবয়সীকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সুচিকিৎসার দাবি জানান।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/ব্যুরো প্রধান/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত