‘তুরস্কের নির্বাচনে কারসাজি হয়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুন ২০১৮, ২০:১৫ | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৮, ১৮:০৫

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কাউন্সিল। যদিও বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। গত ১৫ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এরদোয়ান।

সরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত করার আগেই এরদোয়ান নিজেকে জয়ী বলে ঘোষণা দেন।

সোমবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কাউন্সিলের প্রধান সাদি গুভেনে এরদোয়ানের জয়ের খবর নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সব বৈধ ভোটে নিশ্চিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন।’ বাকি ব্যালটের ফলাফল দরকার নেই বলে তিনি জানান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদুলো এজেন্সির খবরে বলা হচ্ছে, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, এরদোয়ান ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাররেম ইনজি পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল মুহাররেম ইনজি ও তার দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)’র জন্য একটি বড় আঘাত। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গত বছর এরদোয়ানের সংবিধান পরিবর্তন গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন মাত্র ব্যক্তি তুরস্কের আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের প্রধান হচ্ছেন। আর এটি দেশ বেঁচে থাকার জন্য গভীর উদ্বেগ ও হুমকি।’

‘তুরস্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে গেছে এবং তুরস্কের সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে গেছে। যা আগে ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন একক শাসনের অধীন। এই অবাধ শাসন প্রতিরোধের কোনো পদক্ষেপ নেই।আমরা চলমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কাছে মুহাররেম ইনজি বলেছেন, তুরস্কের নির্বাচনী বোর্ড ফলাফল নিয়ে কারসাজি করেছে।

তুরস্কের নির্বাচনপদ্ধতি অনুযায়ী এরদোয়ান যদি সার্বিকভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পান, তাহলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আর প্রয়োজন হবে না।

গতকাল রবিবার একই দিনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তুরস্কে।এবারের নির্বাচনে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ভোটার নিবন্ধিত ছিল।

এরোদয়ান বলেছেন, এরমধ্যে ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। যা যেকোনো নির্বাচনের জন্য অনেক বেশি।

এর আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, ৯৬ শতাংশ ভোটের মধ্যে এরদোয়ান ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তারা আরো বলেছে, একেপি-এমএইচপি জোটি ৯৮ শতাংশের বেশি ভোটের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

ভোট গণনার সময়, বিরোধীরা অভিযোগ করে যে ব্যালট বাক্স খোলার আগেই সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু ফলাফল ঘোষণা করে দেয়।

সিএইচপি বলছে, লাখ লাখ ভোট যখন গণনাই করা হয়নি, সেসময় একমাত্র যে সূত্রটি খবর দিচ্ছিল, সেই আনাদোলু সংবাদ সংস্থা প্রেসিডেন্টের আঙ্গুলের ইশারায় চলে।

অন্য যে সব মিডিয়া নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কিত খবর দিত, তাদেরকে সেনা অভ্যুত্থানের পর গত দু বছরে হয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, নয় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

তবে সরকার এবং আনাদোলু তাদের বিরুদ্ধে কারচুপি করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এরদোয়ান মন্তব্য করেছেন, ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীরা ফলাফলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এরদোয়ানের সমর্থকরা কোনোভাবেই তাদের নেতার পরাজয় মেনে নিত না। রক্ষণশীল, ধর্মভীরু তুর্কিদের কাছে এরদোয়ানই একমাত্র ভরসা। কারণ একসময়কার 'ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে' এরা কথা বলতে পারতেন না।

তাদের কাছে, টুইটার বন্ধ করে দেয়া বা বা একজন সাংবাদিককে জেলে পোরার মত ঘটনার কোনো গুরুত্বই নেই।

বরঞ্চ, এরদোয়ানের ১৫ বছরে তৈরি রাস্তা-ঘাট, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল তাদের অনেকের জীবনকে বদলে দিয়েছে। যে কারণে প্রেসিডেন্টের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রশ্নাতীত।

এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির(একেপি) মাহির উনাল বিরোধী দলের অভিযোগ অস্বীকার করে করে বলেছেন, কোনো ধরনের উসকানির পরিণতি খারাপ হবে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগ বা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

সূত্র: সিএনএন ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/এসআই)  

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত