যাকে ইচ্ছা ভোট দিন, গাজীপুরবাসীকে কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুন ২০১৮, ২৩:৪৩ | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৮, ২০:০১

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে গাজীপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ভোটের আগের দিন সোমবার বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কাদের।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই নৌকা মার্কায় ভোট চাই। তবুও আমরা জনগণকে বলতে চাই, আপনারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন।’

গত ১৫ মে  খুলনার সঙ্গে গাজীপুরেও ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতে এক রিট আবেদনের কারণে ভোট পিছিয়ে ২৬ জুন নির্ধারণ হয়।

এরই মধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ। রাত পোহালে সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা অবধি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একজন মেয়র, ৫৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ১৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করবে গাজীপুরবাসী।

মোট সাড়ে ১১ লাখ ভোটারের মন হয়ে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী করেছে জাহাঙ্গীর আলমকে। তিনি মোকাবেলা করছেন বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার।

গাজীপুরের ভোট সুষ্ঠু হবে আশ্বাস দিয়ে কাদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোথাও কোন সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে গাজীপুরে। অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা ভোটারদের মাঝে।’

‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করছে না। একটি অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য  নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাবে।’

বিএনপি অভিযোগ করছে, গাজীপুরে ভোট ডাকাতির রেকর্ডের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন। তাদের এই অভিযোগেরও জবাব দেন কাদের। বলেন, ‘নির্বাচনের রেজাল্টের আগ পর্যন্ত নালিশ করা, অভিযোগ করা, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস।’

‘আপনি জিতলে নির্বাচন কমিশন ঠিক, হেরে গেলে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে। এটা তো কোণো কথা না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘কুমিল্লায় জিনেতেন। নির্বাচন কমিশনের কি ভূয়সী প্রশংসা! খুলনায় হেরে গিয়ে নির্বাচন কমিশন খারাপ। বিএনপিকে খুশি করতে হলে বিএনপিকে জিতিয়ে দেয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে।’

ইউনিয়ন নেতাদেরকেও ডাকছেন প্রধানমন্ত্রী

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদেরকে গণভবনে ডেকে বর্ধিত সভা করার পর এবার ইউনিয়নের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরকে ডাকতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। আর এই কথা জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কাদের বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্ধিত সভা করবো। খুব শিগগির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে বর্ধিত সভা করবো। ইউনিয়নে আমাদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, চেয়ারম্যান এই লেভেলটা সারা বাংলাদেশে আমরা এক সাথে যদি করতে যেতাম, তাহলে স্থান সংকুলান হত না। তাই বর্ধিত সভা দুই পর্যায়ে হবে।’

কাদরে জানান, দ্বিতীয় বর্ধিত সভা হবে আগামী ৩০ জুন সকাল ১১ টায়। যেখানে উপস্থিত থাকবেন চট্রগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এই পর্যায়ের নেতারা।

তৃতীয় বর্ধিত সভা হবে ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টায়। সেদিন উপস্থিত থাকবেন ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনা বিভাগের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

কাদের বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমরা এই খবরটি আমাদের তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চাই। আশা করি, আপনারা এই রিপোর্টগুলো প্রকাশ করবেন।’

বর্ধিত সভার উদ্দেশ্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু বলা না হলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সংগঠনকে গতিশীল করা ও তৃণমূল নেতাদের উদ্বুদ্ধ করাই এই বর্ধিত সভার উদ্দেশ্য। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি নেতাদেরকে দিক নির্দেশনা দেবেন এই সভায়।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ দলের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২৫জুন/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত