জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের গোপন সমঝোতা ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ জুন ২০১৮, ১৫:০২ | প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৮, ১৪:৫৬

জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া গোপন সমঝোতা স্মারকে রোহিঙ্গাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাওয়া ও নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি মিয়ানমার সরকার। এমনকি তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেয়ার ব্যাপারেও কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি সেই চুক্তিতে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

গত ৬ জুন অনেকটা না জানিয়েই বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সমঝোতা স্মারকে সাক্ষর করে জাতিসংঘ ও মিয়ানমার। সে সময় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই সমঝোতাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেওয়া হলেও গোপন রাখা হয় সমঝোতার ধারাগুলো।

সমঝোতা চুক্তির পর বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া পর দেশটির অন্য নাগরিকদের মতই সুযোগ সুবিধা পাবে, স্বাধীনতা ভোগ করবে, দেশটির আইন অনুযায়ী যেকোনও স্থানে ভ্রমণ করতে পারবে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরির অঙ্গীকার করেছে দুইপক্ষ।

কিন্তু ফাঁস হওয়া স্মারকের খসড়ায় দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বর্তমান আইন ও প্রচলিত বিধানই বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় রাখাইনে ফিরলে আবারও জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হবেন নিপীড়িত রোহিঙ্গারা,  শঙ্কা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের।

শুক্রবার (২৯জুন) জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সমঝোতা চুক্তির একটি কপি রয়টার্সের কাছে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরে চুক্তির খসড়াটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

রয়টার্স বলছে, রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা, দেশের প্রচলতি আইন রোহিঙ্গাদের জন্য প্রযোজ্যতাসহ কোনও নিশ্চয়তা চুক্তিতে দেয়া হয়নি। চুক্তির কপিতে এমনটিই দেখেছে রয়টার্স।

রোহিঙ্গা নেতা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই চুক্তি রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে। গত বছরের আগস্ট থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যারা মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর দ্বারা জাতিগত নিধনের স্বীকার।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মায়ানমারের গবেষক লৌহা হে বলেন, এটা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ের আনার অর্থ হলো তাদেরকে একটি বর্ণবিদ্বেষের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা। যেখানে তারা কোথাও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না। স্কুল, হাসপাতাল বা কোনও কাজেও যেতে পারবে না।

লৌহা বলেন, এই চুক্তিতে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই যাতে করে এই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর মিয়ানমারের সঙ্গে এই চুক্তির পর এটাকে ‘মিয়ানামার সরকারের সঙ্গে সহযোগীতার কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হয়। 

এ বিষয়ে জানার জন্য মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ্য তে এবং সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী উইন মিয়াতকে রয়টার্স থেকে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন এবং জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার যিনি এই চু্ক্তির জন্য কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করেছেন, তিনি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জিততে পারেননি। বিশেষত নাগরিকত্বের মূল বিষয়গুলি এবং চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর।

জাতিসংঘের একজন মখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের পলিসি হলো ফাঁস হওয়া তথ্যে মন্তব্য করা যাবে না।

একজন মুখপাত্র মেইলের মাধ্যমে রয়টার্সকে জানান, ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমার সরকার সমঝোতা চুক্তিটি প্রকাশ্যে আনার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/৩০জুন/একে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত