স্বাধীনতাবিরোধী দল নিষিদ্ধের পক্ষে ইসলামী আন্দোলন

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৯ | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০১৮, ০৮:১৫

স্বাধীনতার বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধের দাবিতে একমত চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। সাম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে আলোচিত দলটির মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ ঢাকাটাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন। আজ থাকছে দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। 

স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি আছে, এটা সমর্থন করেন কি না?

যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের তো আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখতে পারি না। তাদের উচিত যদি স্বাধীনতা বিরোধী মন মানসিকতা থাকে তবে জাতীয়ভাবে ঘোষণা দিয়ে ফিরে আসা। আর তারা যদি তা না করে তবে দেশের মানুষ তাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখবে না।

কোন দেশে যদি স্বাঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধী হয়, তবে রাষ্ট্রীয়ভাবেই তাদের রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকে না। যদি কেউ স্বাধীনতার বিরোধিতা করে, তবে তাদের নিষিদ্ধের দাবির সাথে আমরাও একমত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অন্যান্য অনেক দলের মতো আপনাদেরও অবস্থান স্পষ্ট না, অথচ ধর্মকে ব্যবহার করে তারা ৭১ সালে এই দেশের মানুষদের হত্যা, নির্যাতনে সহায়তা করেছে, আপনারা কেন প্রকাশ্যে জোরেশোরে এর বিচার চান না?

যুদ্ধাপরাধের দায়ে প্রকৃত দোষী যারা, এটা তদন্ত সাপেক্ষ্যে তাদের বিচার হওয়া উচিত, আমরাও তাদের বিচার চাই। সেটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। এমনকি সরকারের মধ্যেও যদি যুদ্ধাপরাধী থাকে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে বাস্তবকে আড়াল করে যদি কোন বিচার হয় তবে সেটার বিরোধিতা আমাদের থাকবে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার আমরা চাই।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সঙ্গে আপনাদের দলের কি কখনও কোন সম্পর্ক ছিল? থাকলে সেটা কী ধরনের ছিল?

আমাদের প্রতিষ্ঠালগ্নেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল। ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ শাপলা চত্ত্বরে একটা সমাবেশ ছিল, সেখানে তার আসার কথা ছিল। বুজুর্গ মুরুব্বিয়ানরা অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি আসেননি; ওমরার কথা বলে চলে গেলেন।

তার পরে থেকে ওনার ওপর অনেকের যে আস্থা ছিল, সেটা আর নাই। অনেক বুজুর্গদের ওনার প্রতি মন খারাপ, আমরাও তার বিষয়ে সতর্ক আছি।

জামায়াতের সম্পর্কে আপনাদের ঘোর আপত্তি আছে দীর্ঘ দিন ধরেই, এর কারণ কী?

আকিদাগত কারণে জামায়াত নিয়ে আমাদের ঘোর আপত্তি আছে। কেননা মওদুদী সাহেবের যে লেখনী, ওই সময় থেকেই আলেম ওলামারা অনেক আপত্তি তুলেছেন। তো ওই সময় এটা সংশোধন করে নিলে অনেক সহজ হতো। সংশোধনী যেহেতু আনেনি সেহেতু এ দেশের কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন আলেম ওলামা তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়নি। এটা যদি আলেম ওলামাদের সাথে সমন্বয় হয়ে যায় যে, আমরা সংশোধন করে নিচ্ছি, তাহলে আমরা তাদেরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখব।

হেফাজতের প্রসঙ্গে আসি। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের অংশ ছিলেন আপনারা। কী নিয়ে দ্বন্দ্বে আপনারা সেখান থেকে সরেছেন?

সবাইকে তো দায়ী করা যাবে না, ওখানে হয়তো অশুভ ইশারায় আমাদেরকে স্থান দেয়া হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদের সঙ্গে থাকার। তবে এটা নিয়ে ওই হেফাজতেরই অনেকে কষ্ট পেয়েছে। এটাতে জাতির কাছে ভালো কোন বার্তা যায়নি।

হেফাজত যেভাবে চিন্তা করছে, এই অবস্থানকে সমর্থন করেন কি না?

হেফাজত কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা নির্বাচন করে না। তবে যারা হেফাজতের সাথে আছে তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন হেফাজত নামটা ব্যবহার করে কোন রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করতে না পারে।

এখন হেফাজতের অবস্থান অস্পষ্ট, তাদের কীভাবে আমরা সমর্থন করি? বিভিন্ন নির্বাচনে অনেক রকম কথা আসছে, যে হেফাজত ফ্যাক্টর হবে। হেফাজত যদি রাজনীতিতে না আসে তবে তাদের প্রতি সমর্থন থাকবে, আর যদি রাজনীতিতে আসে তবে তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে না।

শাপলা চত্ত্বরে যা হয়েছিল সেখানে কোন পক্ষের কী ভুল ছিল বলে মনে করেন?

শাপলা চত্বরে যারা এসে ছিল তারা অনেকেই অনভিজ্ঞ, এ সম্পর্কে কোন ধারণা রাখে না। রাজধানীতে সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করার ধারণা তাদের ছিল না। যারা ওলামায়ে কেরাম তার এ বিষয়গুলি না জানার কথা। সেখানে নেতিবাচক একটা কিছু হতে পারে সেটা চিন্তা করলে, এতা বড় একটা ঘটনা ঘটত না।

ধর্মভিত্তিক অন্য দলগুলোর নেতারা আপনাদের দোষারোপ করেন আপনারা গোপনে আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন?

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকে, প্রতিপক্ষের নিকট থেকে অনেক ইতিবাচক কথা আসে, নেতিবাচক কথাও আসে। রাজনৈতিকভাবে যদি কেউ দেউলিয়া হয়ে পরে, তখন একটু দিশেহারা হয়ে পরে, তখন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন দিন দিন ভালো করছে, সে জন্য অনেকের মনোকষ্টের কারণ হতেই পারে। তবে আমাদের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের যোগাযোগ নাই।

ঢাকাটাইমস/০১জুলাই/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত