যেমন আছে আর্টিজানে নিহত রবিউলের পরিবার ও স্কুল

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ থেকে
| আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৯ | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০১৮, ০৮:২২

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিমের পরিবারে এখন আর আর্থিক অসচ্ছলতা নেই। রবিউল করিমের স্ত্রী সরকারি চাকরি পেয়ে তার পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবেই জীবনযাপন করছেন, মানসিকভাবে ভালো আছেন। তবে রবিউল করিমের হাতে গড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত বিদ্যালয়টির ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত উম্মে সালমা।

রবিউল করিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার হাতেগড়া ব্লুমস বিদ্যালয়ের কার্যকরী কমিটি ও এলাকাবাসী।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে জঙ্গিরা। খবর পেয়ে জিম্মিদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মানিকগঞ্জের সন্তান রবিউল করিম। এ সময় জঙ্গিদের হামলায় তিনিসহ নিহত হন ২০ জন, এর মধ্যে বিদেশি নাগরিক ১৭ জন। অভিযানে অংশ নেয়া ছয় জঙ্গিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়।

গতকাল শনিবার রবিউল করিমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাত বছরের বড় ছেলে সাজিদুল করিম তার দুই বছর বয়সি একমাত্র বোন কামরুন নাহার রায়নাকে নিয়ে বারান্দায় খেলা করছে। সাংবাদিক আসার কথা জেনে বাড়ির দোতলা থেকে নেমে আসেন প্রয়াত রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা।

দিন কেমন কাটছে, জানতে চাইলে রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা শাখায় আমার চাকরিটি হওয়ায় মানসিকভাবে অনেকটাই ভালো আছি। নতুন নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো সময় পার করছি। রবিউল করিমের স্ত্রী হওয়ায় সবাই সম্মানের সাথে কথা বলেন, শ্রদ্ধা করেন। অনেকে রবিউল সম্পর্কে জানতে চান।’

স্বামীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু একজন স্বামী হারাইনি, হারিয়েছি একজন ভালো বন্ধু। যে বন্ধুর সাথে আমি সবকিছু শেয়ার করতাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি ওর ছিলাম, ওর আছি, আর ওরই থাকবো।’

সন্তানদের সম্পর্কে উম্মে সালমা বলেন, ‘আমার সাত বছরের বড় ছেলে সাজিদুর করিম দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট মেয়ে কামরুন নাহার রায়নার বয়স এখন ২৩ মাস। সে সবেমাত্র হাঁটা শিখেছে।’

বাবা হারানো দুটি সন্তানকে রবিউল করিমের আদর্শে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলাই তার প্রধান কাজ বলে জানান উম্মে সালমা। 

প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেন, ‘রবিউল করিমের মৃত্যুর পর তার শোক কাটিয়ে উঠলেও তার হাতে গড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত বিদ্যালয়টির ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।’ রবিউল করিমের শেষ ইচ্ছা পূরণে এলাকাবাসীর পাশাপাশি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা চান স্ত্রী উম্মে সালমা।

এদিকে জঙ্গি হামলায় বড় সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধা মা করিমুননেছা অনেকটাই চুপ হয়ে গেছেন। বাড়িতে সাংবাদিক বা কেউ এলে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রয়াত রবিউল করিমের মা। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দুইটি বছর পার হয়ে গেল আমার সন্তানের সাথে কথা হয় না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুটি অন্যরকম। যে মৃত্যু মেনে নেওয়া একজন মায়ের জন্য কষ্টের।’

রবিউলের মা বলেন, ‘আমার এক সন্তান হারিয়ে আরেক সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আমার দাবি, বড়ভাই থাকলে ছোট ভাইয়ের জন্য যে দায়িত্ব পালন করতো আমার ছোট সন্তানকে একটি চাকরি দিয়ে প্রশাসন সেই দায়িত্ব পালন করুক।’

প্রয়াত রবিউল করিমের হাতে গড়া বিকনিং লাইট অরগানাইজেশন অব ম্যানকাইন্ড অ্যান্ড সোসাইটি (ব্লুমস) এর সদস্য সচিব শামসুজ্জামান সামস ঢাকাটাইমসকে জানান, রবিউল করিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার হাতেগড়া বিদ্যালয়ের কমিটি ও এলাকাবাসী। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে থাকবে শোকর‌্যালি, রবিউল করিমের কবর জিয়ারত ও তার জীবনীর ওপর আলোচনা।

(ঢাকাটাইমস/০১জুলাই/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত