‘ন্যায্য আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত থাকতে পারবে না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৮, ২০:০০ | প্রকাশিত : ১০ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫৮

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততা থাকলেও তাতে দোষের তেমন কিছু দেখছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে যেকোনো দল অংশ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে এ ধরনের আন্দোলন রাজনীতিমুক্ত না হলেও বাইরের রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ শ ম রেজাউল করিম। 

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন ইনডিপেনডেন্টের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। ‘আজকের বাংলাদেশ’ নামের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খালেদ মহিউদ্দিন।

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের হাতুড়িপেটা, নারীর ওপর আক্রমণের বিয়য়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন এখন রাজনীতির সাথে জড়িত এবং আমাদের কাছে এর তথ্য-প্রমাণ আছে। বিষয়টি একেবারেই রাজনীতির বাইরে যে হবে না তা নয়। তবে এখানে রাজনৈতিকভাবে ইন্ধন দেয়া হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।’

কোটা সমস্যার সমাধানে কোনো জটিলতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এটাকে বাতিল করলাম এবং তার সদিচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন। বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই সেখানে সহিংসতার রূপ দেয়া হচ্ছে। কখনও কখনও দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন স্টেটমেন্ট, কনভারসেশন, কখনও কখনও বাহিরের বড় দল বলছে, শুধু কোটা আন্দোলন না, সমগ্র আন্দোলন নিয়ে এগিয়ে আসেন। আবার কখনও কখনও কর্মসূচির ধরন দেখে মনে হয়েছে তা শুধু কোটা আন্দোলনের মধ্যে থাকছে নাকি এটাকে কেউ কেউ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে, এটাকে নিয়েই আলোচলার সৃষ্টি হচ্ছে।’

কোটা আন্দোলন সাধারণ মানুষের আন্দোলন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে মনে করেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘একটা কথা আমাদের সমাজে চালু হয়ে গেছে যে, এটা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। জামায়াত-শিবির এই আন্দোলনের সঙ্গে আছে। আমি ধরে নিচ্ছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত-বিএনপির কর্মীরাও আছে। বাংলাদেশের কোনো আইনে কি লেখা আছে যে, কেউ জামায়াত বা বিএনপি করলে কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে থাকতে পারবে না?’

‘এই আন্দোলন তো জামায়াত-বিএনপি’র আন্দোলন না। এটা প্রমাণ হয়েছে যখন আন্দোলনটা বেগবান ছিল, প্রধামমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন তখন ছাত্রলীগ বিজয় মিছিল করে বলেছে তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা মেশিনারিজ কি এতো দুর্বল যে, তারা বুঝতে পারে না এটা গণমানুষের আন্দোলন। এখানে যদি জামায়াত-বিএনপির ইন্ধন থাকেও তাড়াতাড়ি করে একটা সিদ্ধান্ত নিন। আড়াই মাস লাগল কেন কমিটি করতে। জামায়াত-বিএনপির ইন্ধন থাকলে তা কবর দিয়ে দেন।’

জাতীয়করণের পর এমপিওভুক্তির নেশা ঢুকেছে’

এমপিওভুক্তির দাবি করা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে যাদের স্কুলই নেই। বিভিন্ন সময়ে মাঠ পর্যায়ে লোক পাঠিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘দেশের কয়েক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হুটহাট করে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধিত করা হলো, তারপর তারা বললো জাতীয়করণ করতে হবে। এরপর তাদের মধ্যে এমপিওভুক্তির নেশা ঢুকল।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় দুই রাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার একাদশ দিনের মতো অনশন করছেন শিক্ষকরা। এবিষয়ে এখনো পর্যন্ত কর্ণপাত করেনি সরকার।

এবিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ঢালাওভাবে এমপিওভুক্তি করা হলে সেখানেও বিপদ আছে। কারণ অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্কুল করে, তাহলে সেই প্রতারণাকে উৎসাহিত করা হবে। আবার পুরোপুরি বাতিল করা হলে ঠিক হবে না। শিক্ষকদের মানবিক দিকও দেখতে হবে। অনেক স্কুল তো সত্যিই ভালো করছে। যে দেশে কোটি কোটি টাকা দুনীতি করতে পারি, হাজার কোটি টাকা পাচার করতে পারি, যে দেশে চার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে গেলে অর্থমন্ত্রী বলেন এটা কোনো টাকাই না, যতটা পারেন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন, কারণ তারা শিক্ষক।’

অসাধু আইনের প্যাঁচ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ‘পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে, আপিল বিভাগ তাকে শুনানিতে যে সময় নেয়া হয়েছে এবং যে রায় দিয়েছে তার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ন্যায়বিচারের জায়গা থেকে আপনি যখন দেখবেন একটা মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) শাস্তি পেয়েছেন, উচ্চতম আদালত মনে করছে তাকে জামিন দেয়া যায়। তারপর আপনি নিম্ন আদালত থেকে একের পর এক মামলার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়া বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতির শিকার যখন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তখন স্বভাবতই আইনের প্যাঁচ কতটা অসাধু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

আইনের এই শিক্ষক বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ঘটনা প্রমাণ করিয়ে দিয়েছে, সরকার কোনোভাবে উচ্চ আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করুক, এটা করতে দিতে চায় না। উচ্চ আদালত এরকম পরিস্থিতিতে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করার জায়গা রয়েছে।‘

আইনের অচলাবস্থার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দায়ী করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক আ স ম রেজাউল। বলেন, ‘এসকে সিনহা বাংলাদেশের আইন বিভাগের যে ক্ষতি করে গেছেন, সে ক্ষতি পোষাতে বাংলাদেশের আরও ২০ বছর লাগবে। স্বপ্নে বিভোর ছিলেন সিনহা। জর্জ হিসেবে তার কোয়ালিটিটাকে প্রাধান্য দিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল। কিন্ত ওখানে গিয়ে তিনি অতি উচ্চাভিলাসী হয়ে গিয়েছিলেন।’

এসকে সিনহা দোষী হলে তাকে বর্তমান আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া যেত বলে এ সময় মন্তব্য করেন ড. আসিফ নজরুল।

ডাক্তাররা আইনের ঊর্ধ্বে নন’

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়ম ও হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আপনি বেসরকারি হাসপাতাল করেন বা সরকারি ডাক্তার হন, আপনি যেখানে যা হন না কেন আপনি আইনের ঊর্ধ্বে না।‘

সরাসরি হাসপাতাল বন্ধ করা কিংবা ঢালাওভাবে চড়াও হওয়া যৌক্তিক মনে করেন না আসিফ নজরুল। হাসপাতাল তৈরি ও পরিচালনার নিয়ম মেনেই হাসপাতাল পরিচালনা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে চড়াও হলে কোনো সমাধান আসবে না। এখানে অনেক নিয়ম আছে। সেগুলো এক এক করে দেখতে হবে।’

(ঢাকাটাইমস/১০জুলাই/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত