রাজশাহী সিটি নির্বাচন

অভিমানে জামায়াত, বেকায়দায় বুলবুল

রিমন রহমান, রাজশাহী
| আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৫ | প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৮, ১০:১২
মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বুলবুল

রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে ‘অভিমান’ করেছে শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। মেয়র পদে প্রার্থী না দিলেও কাউন্সিলর পদে জামায়াতের নেতাদের বিএনপির ‘ছাড়’ না দেওয়াটাই এই অভিমানের কারণ।

এই অভিমানের জেরে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের আশপাশে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যাচ্ছে না। তবে বুলবুল বলছেন, পুলিশের ভয়েই তারা আসছেন না।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার একেবারেই শেষ মুহূর্তে রাজশাহীতে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু অনেকই আগেই এখানে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি তাদের মহানগর কমিটির সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসেনকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে।

তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে দলের নেতারা বৈঠকে বসলে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার হন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান ও মহানগরের সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসেনসহ ১২ নেতা। সেই থেকে সিদ্দিক কারাগারে থাকলেও থেমে থাকেনি নির্বাচনের প্রস্তুতি। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকের মনোনয়নপত্র তোলা হয়নি।

জামায়াতের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের মেয়র পদের প্রার্থিতা থেকে সরে আসার কারণ বুলবুলকে সমর্থন দেওয়া। এর বিনিময়ে তারা বিএনপির কাছে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের আশা ছিল, যেসব ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে, সেসব ওয়ার্ড থেকে মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।

জামায়াত নেতারা নগরীর সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলিয়ে মোট ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দুই জন প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। দাবি ছিল, তাদের সবাইকে সমর্থন দিতে হবে বিএনপিকে। কিন্তু তা হয়নি। এ নিয়ে অভিমান করেছেন জামায়াতের তৃণমূলের কর্মীরা। তারা কোনোভাবেই বিএনপি প্রার্থী বুলবুলের জন্য মাঠে নামতে চাইছেন না।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মহানগর জামায়াতের আমির আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ‘শহরের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টিতে আমাদের ১৪ জন নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। একজনের প্রত্যাহার করার কথা। তিনি প্রত্যাহার করলেও ১৩ জন থাকে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন দুই জন। এসব ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থীরা আমাদের ছাড় দেয়নি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিমান হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

মঙ্গলবার সিটি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। লিফলেট বিতরণ করে ভোটারদের কাছে ভোট চান ধানের শীষ প্রতীকে। এ দিন তার সঙ্গে বিএনপির শরিক কয়েকটি দলের নেতাকর্মীদের দেখা গেলেও জামায়াতের কাউকে দেখা যায়নি।

এ নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ‘বুলবুলকে সমর্থনের ঘোষণা এসেছে ঢাকা থেকে। আমরা এখনও স্থানীয়ভাবে কোনো ঘোষণা দেইনি। সে জন্য আমরা মাঠেও নামিনি। তবে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের জেতাতে আমাদের কর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ করছেন।’

জামায়াতের প্রার্থীদের বিএনপির সমর্থন না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম বলেন, ‘অধিকাংশ ওয়ার্ডেই তিনজন পর্যন্ত বিএনপি নেতা প্রার্থী হয়েছেন। দুই জনের নিচে কোথাও নেই। বিএনপি তাদের বুঝিয়ে একক দলীয় প্রার্থী পর্যন্ত করতে পারেনি। সেখানে সব প্রার্থীকে বসিয়ে জামায়াতকে সমর্থন দিবে কীভাবে? নিজেদের প্রার্থী নিয়েই বিএনপি বেকায়দায় আছে।’

জামায়াত নেতাদের মান ভাঙাতে না পারার কারণেও বেকায়দায় পড়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কারণ, রাজশাহীতে যে কোনো নির্বাচনে বিএনপি বা ছাত্রদলের নেতারা ভোটকেন্দ্রের আশপাশে যেভাবে থাকেন, তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এবার সিটি নির্বাচনেও জামায়াত-শিবিরকে পাশে চান মহানগর বিএনপির সভাপতি বুলবুল। তবে এখন পর্যন্ত বুলবুল তাদের কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘জামায়াতের নেতারা গ্রেপ্তারের ভয়ে গণসংযোগে আসছেন না। পরিস্থিতি ভালো হলে হয়তো আসবেন। কারণ, তারা আমাদের শরিক দল।’

তবে বুলবুলের পক্ষে কবে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মহানগর জামায়াতের আমির আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ‘সেটা সময় হলেই জানতে পারবেন।’

আগামী ৩০ জুলাই যে তিন মহানগরে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে কেবল বরিশাল নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিভেদের খবর পাওয়া যায়নি। সিলেটে তো বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর বিপরীতে মেয়র পদে জামায়াত তার দলের নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি লড়বেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকে।

ঢাকাটাইমস/১১জুলাই/আরআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত