চার দিনেও খোঁজ মিলেনি শেলটেকের স্থপতি মাহফুজের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ২০:১৭ | প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৮, ১৯:১৮

চার দিনেও সন্ধান মিলেনি বেসরকারি আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান শেলটেকের স্থপতি মাহফুজ নবীনের। রবিবার ভাসানটেকের বাসা থেকে অফিসের যাবার পথে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন তিনি সর্বশেষ কচুক্ষেত এলাকায় একটি ব্যাংকের বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তোলেন। এরপর দারুস সালাম এলাকায় এসে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন। তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানায় খোঁজ নিয়েও নবীনের কোনো তথ্য পায়নি তার পরিবার।

নিখোঁজ নবীনের স্ত্রী জান্নাতুল এশা বুধবার দুপুরে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গত ১ মার্চ শেলটেকের প্রধান স্থপতি হিসেবে তিনি যোগ দেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে ভাসানটেকের বাসা থেকে কলাবাগানে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হন। পরে এসএমএস করে জানান- তার ফোনে চার্জ শেষ। অফিসে গিয়ে দুপুরে কল দেবেন। কিন্তু দুপুরেও তার কল না পেয়ে অফিসে কল দিই। সেখান থেকে জানানো হয়, তিনি অফিসে আসেননি। ওই দিন (রবিবার) সারাদিন বিভিন্ন থানা ও হাসপাতালে খোঁজ করেও তার সন্ধান না মিললে সোমবার ভাসানটেক থানায় একটি জিডি করা হয় এবং বিষয়টি ঘটনা র‌্যাব-৪ কে জানানো হয়।’

পারিবারিক কোনো কলহ বা জঙ্গিবাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নে এশা বলেন, ‘আমরা দুইজনই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছি। ও কেমন মানুষ আমি জানি। আমাদের তিন বছর বয়সী ছেলে ‘নিহান’ও প্রতিবন্ধী। কিছুদিন আগে আমরা সেটা জানতে পেরেছি। এছাড়া নবীনের আম্মাও শারীরিকভাবে অসুস্থ। এসব মিলিয়ে ওর মানসিক অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছিল না। আর জঙ্গিবাদী কোনো সংশ্লিষ্টতাও ওর সঙ্গে নেই।’

নবীনের কর্মস্থল শেলটেকের তথ্য বিভাগের কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অফিসে তার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা ছিল না। তিনি গত তিন মাস আগে এই অফিসে যোগদান করেন। যতটুকু শুনেছি আগের দিনও তিনি স্বাভাবিকভাবেই অফিস করেছেন।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাসানটেক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। ঘটনার দিন নবীন ভাসানটেকের ধামালকোটের বাসা থেকে কলাবাগানের অফিসের উদ্দেশে বের হন ১২টা ২০ মিনিটে। কচুক্ষেত এলাকায় একটি ব্যাংকের বুথ থেকে তার কার্ড ব্যবহার করে ২০ হাজার টাকা তোলেন। এরপর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তার সর্বশেষ অবস্থান জানা যায় দারুস সালাম। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।’

ভাসানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি ছাব্বীর আহম্মদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি আর মোবাইল খোলেননি। তাই এখনও তার অবস্থান চিহ্নিত করতে পারিনি। তবে বুথের ভিডিও ফুটেজ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেয়েছি। সেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বুথে প্রবেশ করছেন এবং স্বাভাবিকভাবে বের হচ্ছেন। আশপাশে তেমন কাউকে দেখা যায়নি।’

ওসি বলেন, ‘ভাসানটেক থানা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ তার খোঁজে নেমেছে। আমরা পরকীয়া, আত্মগোপন, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা এবং অপহরণ সব বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছি।’

(ঢাকাটাইমস/১১জুলাই/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত