আনসার আল ইসলামের মিডিয়া সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৮, ২০:১২

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক খানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এসময় তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বিপুল পরিমাণ বই উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তাকে আটক হয়। বুধবার বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা যুবকদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে উগ্রবাদী বই দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এমন খবরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কাশিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক খানকে আটক করা হয়। তিনি সংগঠনটির মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। এছাড়া সংগঠনের পক্ষে উগ্রবাদী লেখনির মাধ্যমে যুবসমাজকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে কর্মী সংগ্রহ করতেন তিনি।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, ইসহাক রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। তার শিক্ষক আনসার আল ইমলামের আধ্যাত্মিক নেতা কারাবন্দি জসিমউদ্দিন রাহমানী। পরে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ইসহাক উগ্রবাদী প্রচারণা ও দাওয়াতে অংশ নিতে শুরু করে। এসময় খান প্রকাশনী নামে একটি নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থা খুলে সেখান থেকে উগ্রবাদী লেকচার ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘২০১৩ সালে জসিমউদ্দিন রাহমানী গ্রেপ্তারের পর ইসহাক আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতাদের বই সংকলন করে তা প্রকাশ করতেন। সেই বইগুলো যুবকদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন পেজে পোস্ট দিতেন। এছাড়া তার খান প্রকাশনী ও মাকবুল প্রকাশনী নামে দুটি প্রকাশনী খুলে সেখান থেকে বই প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সরবরাহ করতেন। ইসলামী টাওয়ার ও বাংলাবাজারে তার প্রকাশনী অফিসও রয়েছে এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় একটি মাদ্রাসা খুলেছেন। সেখান থেকেই ছাত্রদের মাঝে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাতেন। তার ভাই মো. আশরাফ আলী খান আনসার আর ইসলামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।’

বইগুলো কোন প্রকাশনী থেকে ছাপা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের নিজেদের খান প্রকাশনী থেকে বইগুলো প্রকাশিত হয়। সে আমাদের কাছে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছে যে, সে বাংলাদেশের প্রচলিত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সে এটাতে বিশ্বাস করে না। সে শরিয়া আইনে বিশ্বাসী এবং সে বলেছে তার পিতামাতা তাকে সমর্থন করেন না। তার পিতামাতা একাধিকবার তাকে এই পথ থেকে ফিরে আসতে বলেছিলেন এবং জিহাদি বই লেখা থেকেও বিরত থাকতে বলেছিলেন।

তার এক ভাই আনসার-আল-ইসলামের সদস্য ও আরেক ভাই হিজবুত তাহরীরের সদস্য। তার ভাইদের গ্রেপ্তার করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ভাইদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারবো বলে মনে করি।

জিহাদি বই জব্দের ব্যাপারে তিনি বলেন, আটকের পর মাঝরাত পর্যন্ত আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এরপর আমরা তার তথ্য অনুসারে বইগুলো জব্দ করতে সক্ষম হই। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবো। সে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পরিদর্শন করেছে তিন থেকে চারবার এবং তাদেরকে তার কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এক লাখ টাকাও দিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১১জুলাই/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত