বগুড়ায় ‘গোলাগুলিতে’ তুফান-মতিনের ভাই নিহত

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৪:০৯ | প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৭
ছবি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল থেকে পাওয়া

বগুড়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবলীগ ও শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কৃত আলোচিত মতিন সরকার ও তুফান সরকারের ভাই নিহত হয়েছেন। তার নাম পুতু সরকার।

৪৫ বছর বয়সী পুতুকে স্থানীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ‘মাদকের গডফাদার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

বৃহস্পতিবার রাত তিন টার দিকে শহরের ভাটকান্দী সেতুর কাছে পুতু নিহত হন। তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, ‘দুই দল মাদক বিক্রেতার’ গোলাগুলিতে নিহত হন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম বদিউজ্জামান বলেন, ‘ভাটকান্দি সেতুর কাছে দুই দল দুষ্কৃতকারীর সংঘর্ষের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে পুলিশ সেখানে যায়। কাছে যেতেই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।’

পরে সেখান থেকে পুতুকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানশুটার গান, একটি পাইপগান, আটটি গুলি ও ৫০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুতুর বিরুদ্ধে বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। কিন্তু গত মে মাসে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা।

পুতুর ভাই মতিন সরকার জেলা ট্রাকমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাদের আরেক ভাই তুফান সরকার ছিলেন শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক।

গত বছরের ১৭ জুলাই কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়ার কথা বলে তুফান সরকার বাসায় ডেকে নিয়ে একটি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। তুফানের স্ত্রী ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি এবং তার মা রুমী বেগম ওই কিশোরী ও তার মায়ের উপর নির্যাতন চালায় এবং এক পর্যায়ে দুই জনের মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

এই ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তোলপাড় হয়। আর তুফানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে শ্রমিক লীগ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তুফানের নানা ‍কুকীর্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে থাকলে তার ভাই মতিন সরকারের বিষয়টিও সামনে চলে আসে।

মতিন সরকার চারটি হত্যা মামলাসহ নয়টি মামলার আসামি। তিনি প্রকাশ্যে থাকলেও তাকে পলাতক দেখিয়ে নয় বছর আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করেনি পুলিশ। আর এই সময়ে মতিন সরকারের আর্থিক অবস্থা ফুলে ফেঁপে উঠে।

গণমাধ্যমে দুই ভাইকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদনের পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মতিন। আর তার জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। আর গত ১ নভেম্বর তিনি জামিন পান।

আর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে গত ৩০ জুলাই তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে এবং ১ আগস্ট মতিনকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তুফান ও মতিনের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে অনুসন্ধান শেষ হয়েছে কি না সেটি এখনও জানা যায়নি।

তুফান এখনও কারাগারে আছেন বলে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান।  

ঢাকাটাইমস/১৩জুলাই/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত