খালেদাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যঙ্গোক্তি অমানবিকতা: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৫ | প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৩:১২

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তার অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। কিন্তু সরকার সেই খবর তার স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের জানতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপরন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ব্যঙ্গোক্তি’ করছেন বলে অভিযোগ তার।   

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন রিজভী। সেখানে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটুকু গুরুতর সে খবর জানতেও দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। গত পরশু দিন পরিবারের সদস্যরা তার সাথে দেখা করতে গেলে কারাকর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। অসুস্থতার খবর জানতে পারার পরও তার পরিবারের সদস্যদের কারা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি।’

রিজভী বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে শুধু উদাসীনই নয়, সরকারের নির্দেশে কোনো ভয়ঙ্কর মাস্টার প্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে কি না তা নিয়ে জনমনে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বেশ কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, বেগম জিয়া ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিং অ্যাটাকে (টিআইএ) ভুগছেন। বারবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়টি শুধু এড়িয়েই যাচ্ছে না বরং জাতীয় সংসদে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন।’

‘যিনি প্রায়ই জ্বর আর পা’য়ের ব্যথায় হাঁটতে পর্যন্ত পারছেন না, দেশনেত্রী কিছুদিন আগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, এর ওপরেও তিনি নানাবিধ রোগে আক্রান্ত, অসুস্থতা নিয়ে তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ১৬ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠিত রয়েছেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন বেগম জিয়ার অসুস্থতা না কি বাহানা।’

প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার দলীয় নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘৭৩ বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ নারীর প্রতি নারী প্রধানমন্ত্রীর এধরনের ব্যাঙ্গোক্তি করা নারী জাতির জন্য কলঙ্ক। তার অসুস্থতা এতটাই গুরুতর যে, তিনি নিচতলায় অপেক্ষমাণ স্বজনদের কথা জানতে পেরেও দোতলার নিজ কক্ষ থেকে নেমে আসতে পারেননি। অথচ এর আগে দোতলায় দেশনেত্রীর পাশের কক্ষে দেখা করার অনুমতি দিতো, কিন্তু এবার কারাকর্তৃপক্ষ সরকারের হুকুমে পরিবার-পরিজনদেরকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করলো। বেগম জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা সবাই জেনে যাবে বলেই তার সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। এটি সরকারের দয়ামায়াহীন চরম অমানবিকতা।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের এই নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে সুচিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।’

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে রিজভী যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা মূলত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর। গত ১৪ জুলাই পাবনার এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদৌ অসুস্থ কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন কৃষিমন্ত্রী। বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব কথা তার দলের নেতা এবং চিকিৎসকরা বলছেন তাকে বাহানা হিসেবে দেখছেন তিনি।

খালেদা জিয়া আদৌ অসুস্থ কি না, সে প্রশ্ন তুলে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ওনার চিকিৎসার কথা বলা হয়, ওনি নাকি হাঁটতে পারেন না, ওনি একটুতেই হেলে পড়েন। আমি বলতে চাই, আপনি যখন আপনার স্বাস্থ্য চেকআপের জন্য বঙ্গবন্ধুতে এসেছিলেন, তখন তো আপনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ছিল, কিংবা হুইল চেয়ার ছিল, আপনি সব কিছু থুইয়া দিয়ে গটগট কইরা গিয়া লিফটে উঠলেন।’

‘ও লিফটে ওঠার সময় আপনার পায়ে ব্যাথা হয় না, আর যখন আপনি খানার জন্য কাইন্দ্যা মরেন, তখন আপনি অসুস্থ, আপনার পার্টির লোকেরা বলে আপনি অসুস্থ!’

ঢাকার কর্মসূচি সারাদেশে
খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঢাকার সঙ্গে সারাদেশে পালনের ঘোষণা দেন রিজভী।
রিজভী বলেন, শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় অথবা প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির উদ্যোগে বেলা ৩টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই দাবিতে ওইদিন দেশব্যাপী সব জেলা, মহানগর ও উপজেলা সদরে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সমাবেশ সফল করার জন্য অনুরোধ করেন দলটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এই নেতা।
এর আগে শনিবার সকালে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে আগামী শুক্রবার সমাবেশ করার ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

(ঢাকাটাইমস/১৬জুলাই/বিইউ/জেবি)

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত