বেনাপোল বন্দরে দ্বিতীয় দিনও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৯:২২

যশোরের বেনাপোল বন্দর অভ্যন্তরে কাস্টমস ওয়েব্রিজে বিজিবি স্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে।

গত রবিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দর থেকে  সব ধরনের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে গত দুই দিনে সরকারের  ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য মাপার ওয়েইং স্কেলে বিজিবি প্রত্যাহারের দাবিতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো। আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকায় দুদেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবোঝাই ট্রাক। বৈধ রুটে আমদানি পণ্য চালানে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমের বাইরে বিজিবির কাস্টমস আইন বহির্ভূত হস্তক্ষেপের ফলে বেনাপোলের সামগ্রিক বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান।

সোমবার দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট ও রপ্তানি টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দেশের বন্দর এলাকায় শত শত আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে যত্রতত্র।

বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং অ্যাজেন্ট  অ্যাসোসিয়েশনের এমদাদুল হক লতা জানান,  সুপ্রিম কোর্টের রায়,জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আইন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনা বিজিবি উপেক্ষা করে বন্দর ও কাস্টমস ওয়েইং স্কেলে বসে আমদানি পণ্য চালানের ওজন পরিমাপ করা শুরু করলে বিজিবি,কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শনিবার থেকে  বিজিবির কয়েকজন সদস্য বন্দর ও কাস্টমস ওয়েইং স্কেলে বসে আমদানি পণ্য চালানের মালামাল নিজেরাই ওজন করতে থাকেন। বিজিবি বন্দর এলাকায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করায় ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আদায়।

বিজিবি বলছেন, তারা জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক বন্দর ও চেকপোস্টসমূহে আমদানিকৃত মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে। 

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনে বলা হয়েছে- আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদনে উল্লিখিত আইন, প্রজ্ঞাপন ও বিধি বিধান উপেক্ষা করে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে বিজিবির এহেন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। 

এ দিকে ৪৯ বিজিবির  কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস ও বন্দরের দুটি ওয়েইং স্কেলে আমদানিকৃত মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬জুলাই/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত