মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করিনি: ট্রাম্পকে পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:৩৬ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:২৪

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্বেষ না করে সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান জানান ট্রাম্পের প্রতি।

সোমবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে প্রথমবারের মত মুখোমুখি বৈঠকে ট্রাম্পকে এ কথা বলেন পুতিন। তাদের এ বৈঠকে কেবল দোভাষীরাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিরিয়া থেকে শুরু করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিসহ কোরিয়া উপদ্বীপ নিয়েও কথা হয়েছে।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোজন পর্বের শুরুতে শীর্ষ কর্মকর্তা পরিবেষ্টিত একটি কনফারেন্স টেবিলে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প এ বৈঠককে শুভ সূচনা বলেন। “এ এক শুভ সূচনা। প্রত্যেকের জন্যই একটি শুভ সূচনা।” আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ এবং ভালোভাবে শেষ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ওদিকে, পুতিন বলেন, “অনেক সমস্যাই রয়ে গেছে। আমরা সব বাধা দূর করতে পারিনি... কিন্তু আমি মনে করি এ পথে আমরা প্রথম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পেরেছি।”

বৈঠক শুরুর আগে পুতিনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই সফলভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। এটি সেরা আয়োজনগুলোর অন্যতম ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পুতিনের পাশে বসে ঊষ্ণ বক্তব্য দিয়ে বৈঠক শুরু করেন ট্রাম্প। আর তখনই রাশিয়ার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক দিন থেকেই তিনি দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি আমরা একটি অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব। আমি সেটিই আশা করি। আমি একথাই বলে আসছি। আমি নিশ্চিত যে আপনারাও কয়েকবছর ধরে একথা শুনে এসেছেন। আমি প্রচার চালিয়ে বলেছি, রাশিয়ার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ভাল ব্যাপার, খারাপ কিছু না।”

অন্যদিকে পুতিন বলেন, “বিশিষ্ট প্রেসিডেন্ট, ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত। যদিও আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে...আমরা ফোনে কথা বলেছিএবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আমাদের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে।

“তবে অবশ্যই নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার এবং বিশ্বের সমস্যাপূর্ণ অনেকগুলো এলাকা নিয়ে আলোচনার এটাই সময়।”

বৈঠকে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হাত থাকার কথা পুতিন অস্বীকার করেন এবং ওই অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে তিনি রাজি বলেও ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।

পুতিন বলেন, “স্নায়ুযুদ্ধের যুগ শেষ হয়েছে। এখন আমেরিকা এবং রাশিয়ার একসঙ্গে মিলে সব সমস্যা সমাধান করা উচিত।”

                                                                    সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে পুতিন

২০১৪ সালে ইউক্রেইনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ মস্কোর দখল করে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়লাভে ক্রেমলিনের সহায়তার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

এছাড়াও সিরিয়ায় রাশিয়ায় সেনা অভিযান নিয়েও অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রশাসন। যার ফলে প্রেসিডেন্ট আসাদকে হটাতে পারেনি মার্কিন মিত্র জোট। একই কারণে আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র ইসরায়েলও অসন্তুষ্ট হয় রাশিয়ার প্রতি।

পুতিন বলেন, “বৃহত্তর পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ দায়িত্ব আছে। আর তাই আমি মনে করি এটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এবং এটি নিয়ে সংলাপ আয়োজনের জন্য আমরা আলোচনা করেছি।”

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর প্রশ্নে দু’নেতা একে অপরের দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে অবাধ যোগাযোগ রক্ষা করতে রাজি হয়েছেন।

সিরিয়া যুদ্ধে হাজারো নিরীহ প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার আরো সহযোগিতা কামনা করেছেন ট্রাম্প। সংঘর্ষ এবং বৈরিতার চেয়ে কূটনীতি এবং আলোচনার পথই বেছে নেওয়া ভাল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাছাড়া, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধেও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার এ প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত