‘ময়লা পরিষ্কারের কথা বললে কমিশনার হাসে’

কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০৮:২০

কামরঙ্গীচর এলাকার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ। খালি জায়গাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লার ফেলার জায়গা হিসেবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বারবার জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

মুন্সিহাটি এলাকার বাসিন্দা টেইলার্স মাস্টার আনসার উদ্দিন সিকদার ঢাকাটাইমসকে জানান, ময়লা স্থানীয় বাসিন্দারাই ফেলে। সিটি করপরেশনের কর্মীরা নিয়মিত ময়লা নিতে আসেন না। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ময়লা ফেলতে হয় এসব খালি জমিতে।

আনসার উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এই সমস্যা আজকের না, আমি পাঁচ বছর ধরে একই অবস্থা দেখছি। কমিশনার মাঝে মধ্যে এ দিকে আসে। অনেকবার তাকে বলা হয়েছে। আমিও বলেছি। সে বিষয়টা কানে নেয় না। ময়লা পরিস্কারের কথা বললে কমিশনার হাসে। কিছুই বলে না।‘

একই চিত্র এলাকার মাজার গলিতে। সেখানেও ময়লা ফেলা হয় খালি জমিতে। এভাবে ময়লা ফেলার কারণ জানতে চাইলে সালেহা বেগম ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘ময়লা না ফেললে কি করব? ময়লা কি ঘরে রাখার জিনিস? ময়লা নেয়ার গাড়িই তো আসে না। তাই এখানে ফালাইয়া যাই। আমি তো একা ফালাই না, সবাই ফালায়।‘

সিটি করপোরেশনের ময়লা নেয়ার গাড়ি যে একেবারেই আসে না, এ তথ্য ভুল। দুই থেকে তিন দিন পর দেখা মেলে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা এসব কর্মীদের। নিয়মিত ময়লা না নেয়ায় বিরক্ত ও বাধ্য হয়ে নিজেরাই ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় খালি পরে থাকা জমিগুলো।

একই অবস্থা হাসান নগর, জাউলাহাটি মোড়ে। রাস্তার মুখের খালি জমিটি স্থানীয় ময়লা ফেলার স্থান। ময়লার দুর্গন্ধের বিরক্তির চাইতে সিটি করপোরেশনের ময়লা নেয়ার কর্মীদের গাফিলতি বেশি বিরক্তের বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীর হোটেল ব্যবসায়ী রুবেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ময়লাগুলা ফালায় আমার হোটের পাশে। কাউরে কিছু বলতে পারি না। আমি নিজেও ফালাই। সিটি করপোরেশনের গাড়ি আসলে তো গাড়িতেই ময়লা দিতাম। এরা আসে তিন-চার দিন পর পর।’

‘ময়লা তো আর তিন-চার দিন রাখা যায় না। এই ময়লা বাতাসে এদিক-ওদিক যায়। হোটেলের মধ্যে আসে। একটা কাস্টমার খাওয়ার টাইমে যদি ময়লা উইড়া আসে, তাইলে কেমনডা লাগে?’

সিটি করপোরেশন কর্মীদের গাফিলতিতে এমনটা ঘটছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। ৫৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরে আলম ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘তারা নিয়মিত ময়লা নেয় না। যে ইজারাদার এটা তার সমস্যা। আমি কাল সিটি করপোরেশনে যাবো। বিষয়টার সমাধান দরকার।’

‘রাস্তায় চলার সময় কে কি বললো, সব তো বোঝা যায় না। যে কোন অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে করতে হবে।’

‘বিষয়টা একদিক থেকে না, দুই দিক থেকেই সমস্যা আছে। আমাদের এখানে লোকজনেরও অনেক সমস্যা আছে। তারা যেখানে পারে সেখানেই ময়লা ফেলে। আমি কিছু জায়গা আগে পরিষ্কার করেছি। বাকিটা সিটি করপোরেশনে আলাপ আলোচনার পর একটা সমাধান দিতে পারব।‘

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত