‘কেউ প্রেমে, কেউ ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে গুম হয়ে যান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৮, ২৩:২০ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৫:২২

দেশে কোনো গুম হচ্ছে না- সাফ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, ‘যেগুলোকে আপনারা গুম বলছেন, সেগুলো আসলে গুম না।’

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে মন্ত্রী যতগুলো বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন, তার একটি ছিল গুমের অভিযোগ।

গত কয়েক বছর ধরেই মানবাধিকার সংগঠন আর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই অভিযোগ নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গুম হচ্ছে আমরা কিন্তু তাদের ধরে সামনে আনছি। কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গুম হয়ে যান, কেউ ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে গুম হয়ে যান।’

‘আবার দুইজনের মন মিল হয়ে গেলে এক হয়ে যান। এই ধরনের গুম আপনি উদ্ধার করবেন কোথা থেকে? তারপর আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের জানা মতে, বেশিরভাগ গুমই এরকম।’

‘বিচারবহির্ভূত কোনও হত্যা আমরা করি না’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিকরা কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের প্রসঙ্গ তুলেন। মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে র‌্যাবের গুলিতে নিহত এই সাবেক যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীরাও ক্ষুব্ধ।

প্রকাশ হওয়া একটি অডিও রেকর্ডের সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, র‌্যাব ধরে নিয়ে একরামুলকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই বিষয়ে তদন্ত হবে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি আপনারাও ততটুকু জানেন। তদন্ত হচ্ছে, যেই এটার সঙ্গে জড়িত আছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা নেব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এইটুকু, যে অন্যায় করবে তার বিচার হবে। সবার জন্য আইন সমান।’

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব কেন?

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারীকে অস্ত্রের মুখে তুলে এনে বিয়ের অভিযোগ এবং পরে এক সংবাদ পাঠিকা ও তার স্বামীকে কেটে টুকরো টুকরো করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী।

মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও ব্যবস্থা নিতে দেরি কেন হচ্ছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। আমি এটুকু বলতে পারি তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং যদি প্রয়োজন পড়ে বিচারিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এখানে আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।’

‘আমরা আপনাদেরকে এই কথা বলতে পারি, যে তদন্তের রুল অনুযায়ী তার ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন হবে। আপনারা দেখবেন খুব শিঘ্রই সেই ব্যবস্থাটা হচ্ছে।’

‘আপনারা জানেন আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না, আপনারা এও জানেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। কাজেই আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না এটা আমরা জোর গলায় বলতে পারি।’

মাদক নিয়ে পুলিশকেও ছাড় দিচ্ছে না সরকার

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী। জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা জড়িত আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। দুই একজনকে কাগারের অন্তরীণ করা হয়েছে। আপনারা যদি প্রমাণ চান আমি প্রমাণ দিতে পারি।’

‘পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে মাদকের গডফাদারদের তালিকা করেছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। গডফাদার যেই হোক সে পার পাবে না। আমাদের তথ্য দরকার, আপনাদের কাছেও যদি তথ্য থাকে তবে আমাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। মাদকের বিরুদ্ধে যে যদ্ধ চলছে, সেই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে।’

‘পুলিশ এমনকি সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা এমন কিছু করতে চাই না যাতে নিরীহ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়’

‘না বললে ঢাবিতে যায় না পুলিশ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপর হামলাকারীদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- এমন প্রশ্নও ছিল মন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান না করলে সেখানে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায় না।’

‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখনই ইনভাইট করে তখনই আমরা সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিছুদিন আগে কোটা আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে কীভাবে হামলা করা হলো, আপনারা সেটা ভুলে যান কেন?’

‘হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে শনাক্ত করছি, ওইখানের ক্যামেরাগুললো ভেঙে দিয়েছে। আশেপাশের ক্যামেরা থেকে শনাক্ত করে তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করছি।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ যখন আমাদের আহ্বান না করেছে ততক্ষণ কিন্তু তখনও আমরা সেখানে যাই নাই। সেদিন (৮এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টায় আমাকে জানিয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী ১১ টার দিকে সেখানে গিয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন ওয়ারেন্ট ছাড়া, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া নির্বাচনের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় না। আগের অভিযোগ ছাড়া, নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এবং এটা ভবিষ্যতে হবে না।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গ

বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ- এই  কথাটি ঠিক না।

‘কারণ, প্রতিদিন আমাদের কারাগারে যে ডাক্তার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। আমি আমাদের আইজি প্রিজনকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করি যে তার শারিরীক অবস্থা কী।’

‘আমি যতটুক জানি তিনি এমন কোনও নতুন রোগে আক্রান্ত হয় নাই, যার জন্য তার স্বাস্থ্যহানি হয়েছে। তিনি যে সমস্ত রোগে আক্রান্ত সেগুলো তার আগের অসুখ।’

‘আমরা একদিন তাকে বিএসএমএমইউতে নিয়ে গিয়েছিলাম, তার পরে তিনি আর সেখানে যাবেন না বলেছেন। এরপর সিএমএইচে নিয়ে যেতে চাইলাম সেখানেও তিনি যাবেন না বলেছেন। সরকারিভাবে এর চেয়ে বড় ব্যবস্থা আর নাই, সেখানেও তিনি যাবেন না বলেছেন।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার যে ডাক্তাররা সেবা দিয়ে থাকতেন, ডাক্তার আলী, মেডিকেল স্পেশালিস্ট তার সেবা দিয়ে থাকতেন, এই দুইজনকেও আমি পাঠিয়েছিলাম তার চিকিৎসার জন্য। এই দুইজন ছাড়াও বিএসএমএমইউ-এর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাকে দেখেছেন। প্রয়োজন হলে আবার যাবেন তারা। তিনি যদি বিএসএমএমইউতে এবং সিএমএইচ-এ ডায়াগনোসিস করতে না চান, তাহলেতো আমাদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খুনি কে কোথায় আছে তার প্রায়গুলিই শনাক্ত হয়েছে। সে দেশের আইন এবং আমাদের দেশের আইন এগুলো মিলিয়ে আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছি, তার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করি খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারব।’

‘আফ্রিকায় পলাতক খুনির বিষয়ে… সে দেশের মন্ত্রী আমার কাছে সেই খুনির পার্টিকুলার চেয়েছিলেন, আমি তা পাঠিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের একজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি কাজ করছেন। তিনি সিরিয়াসলি এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন, খুব শিঘ্রই এ বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।’

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/জিএম/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত