‘খেলাটা শুরু হবে নির্বাচনের তিন মাস আগে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৫:২৪

আগামী অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। মূলত তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন নিয়ে মূল খেলাটা শুরু হবে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদ। কে নির্বাচনে কীভাবে আসছে সেটা তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করেন এই রাজনীতিক।

সোমবার রাতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আজকের বাংলাদেশে ‘সরকার ও রাজনীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন খালেদ মহিউদ্দিন।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সরকার হিসেবে দায়িত্ব হবে উন্নয়ন, মানুষের নিরাপত্তা দেয়া, নির্বাচন কমিশনকে আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সহযোগিতা করা।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। তাহলে কি খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করবে না- উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘আসলে রাজনীতির এই বিষয়টি সময় বলে দেবে। রাজনীতিতে সময় সময় ফুল ফুটে। আবার সময় সময় ফুল ঝরে যায়। তবে এতো আগে এটা নিয়ে বলা যাবে না। আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, এরপর নির্বাচন। এখন তার মুক্তি কীভাবে হবে সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু এটা রাজনৈতিক মামলা তো, এই ধরনের মামলায় মুক্তি দুইভাবে হয়। হয় পর্দার আড়ালে আলোচনা করে মিউচুয়াল হয়। এসব মামলায় ফয়সালা কোর্ট কাচারিতে হয়নি। এখন সরকারকে বিএনপি বারবার আলোচনার কথা বলছে। কিন্তু সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে নির্বাচনের তফসিল হয়ে যাচ্ছে অক্টোবরে। তাই খেলাটা শুরু হবে নির্বাচনের তিন মাস আগে। তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে কোন দল আসবে, কারা কীভাবে নির্বাচন করবে।’

পর্দার আড়ালে আসলেই কোনো আলাপ আলোচনা হচ্ছে কি না – এমন প্রশ্নে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আসলেই সেইভাবে পর্দার অন্তরালে সেইভাবে না, তবে নানা অনুষ্ঠানে, সামাজিক অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়, আলাপ আলোচনা, মত বিনিময় হয়। সেটা নিয়েও আমরা কথা বলি।’

মত বিনিময় অন্য কোনো দিকে যাচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না এমন কোনো দিকে যাচ্ছে না। আমরা বারবার যেটা বলছি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকারের ফর্মুলা কি সেটা আমরা এখনো জানি না। তারা কোথায় রেখেছেন, চাবি কার কাছে সেটাও আমরা জানি না। তবে আমার মনে হয় সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, নির্বাচন কমিশন সেই অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করবে। সরকার তখন ক্ষমতায় থাকবে।’

‘বিএনপির ভারতমুখিতায় আ.লীগের ভয় কেন?’

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ফ্যাক্টর কি না- এমন প্রশ্নে জয়নুল আবদিন বলেন, ‘ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। আমরা সেই অবদান অস্বীকার করি না। করবোও না। কিন্তু ইদানীং বিএনপির কেউ ভারত গেলে বলা হয়, এই ভারতের সঙ্গে প্রেম করতে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ভয় পায়। কেন যে ভয় পায় বুঝি না।’

‘কিন্তু সম্প্রতি এইচটি ইমাম ভারত গেছেন, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের নেতারা গেলেন কেন গেলেন সেটাও আমরা জানি না। এইচটি ইমাম এসে বললেন, ভারত আমাদের পক্ষেই আছে।’

ভারত পাশে থাকায় সরকার এখনো ক্ষমতায় আছে বিএনপির এমন বক্তব্যের বিষয়ে দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘আসলে ক্ষমতায় রাখার মালিক হলো জনগণ। আমরাও বলি, আপনারাও বলেন, সংবিধানও একই কথা বলেন।’

ফিরোজ রশীদের কাছে উপস্থাপক জানতে চান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেকটা ভারতের ওপর নির্ভরশীল কি না? উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্ভরশীলতা কিছুটা তো থাকবেই। কারণ ভারত হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, অকৃত্রিম বন্ধু্, ৭১ সালে এই বন্ধুত্বটা শুরু হয়েছে।’

ভারত চাইলে রাজনৈতিক ক্ষমতা- বিষয়টি কি এমন? আবদুর রাজ্জাকের কাছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কোনোক্রমেই না। জনগণ হলো ক্ষমতার ‍উৎস।’

‘রাজনীতিতে সময়ই সব বলে দেবে’

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘জামায়াত আজকে বাংলাদেশে বড় একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই জানতে চায় বিএনপি কেন জামায়াতকে ছাড়ে না। ছাড়লেই তো আমরা বিএনপিতে আসতে পারি। এই দেখেন সিলেটে যেই লোক জামায়াতের দাঁড়িয়েছেন একটা রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব কিছু ভাবনা থাকে। দেখেন গাজীপুরে যখন তাদের নেতা হাসান সরকারকে সমর্থন দিলো সেদিন তাদের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হলেন। আপনি কি চান সিলেটেও তাদের নেতাকর্মীরা কারাগারে যাক?’

জামায়াতকে তাহলে আপনারা বাঁচান, বের করে দেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জামায়াত তাদের নিজস্ব পরিকল্পনায় রাজনীতি করে। জামায়াত নিয়ে চিন্তা করার কারণ নেই। রাজনীতিতে সময় সব বলে দেবে।’

‘কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি কেন সাংসদরা’

কোটা সংস্কার বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য কোটা দরকার৤ জেলা কোটা দরকার৤ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোটা দরকার।’

তার এই বক্তব্যের পর ফ্লোর পেয়ে জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) এখন বললেন, এদের জন্য কোটা দরকার৤ কিন্তু যখন সংসদে প্রধানমন্ত্রী বললেন কোনো কোটারই দরকার নেই, কোটা থাকবে না, তখন রাজ্জাক ভাইসহ কোনো সংসদ সদস্য কি এর প্রতিবাদ করেছেন? বলেছেন কি-এই এই ক্ষেত্রে কোটা দরকার। কই তখন তো কেউ বলেনি। আসলে তারা যে কী ধারণ করেন সেটা বোঝা মুশকিল। আর আমাদের মতো যাদের মেধা কম তাদের বোঝা তো আরও কঠিন।’

গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, ভিসিরা কিন্তু মুখ খুলেননি।’

উপস্থাপক বলেন, তখন ভিসিদের বাড়িতে আগুনও দেয়া হয়নি। জবাবে জয়নুল আবদিন বলেন, ‘আগুন দেয়া হয়নি ঠিক। তবে এরপর কিন্তু অনেকবার ভিসির বাড়িতে হামলা হয়েছে। ওই সময় ভিসিদের চুপ থাকার কারণ ছিল- সারাদেশের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে ছিল। ছাত্ররাই গণঅভ্যুত্থান করেছিল। কোটা আন্দোলনের সময়ও কিন্তু সারাদেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিকে। বাড়িতে আগুন দেয়ার পরও কিন্তু ভিসি আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তবে দুষ্কৃতিকারীদের কথাও বলেছিলেন।’

জয়নুল আবদিন বলেন, ‘আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ গত কয়েক দিন ধরে জঙ্গি আতঙ্কে ভুগছে। ভিসি সাহেবও আতঙ্কের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এখন জঙ্গি কানেকশনের কথা বলছেন। আন্দোলনের সময় যখন প্রধানমন্ত্রী দাবি মেনে নেয়ার কথা বললেন তখন তো তিনি বললেন না এখানে জঙ্গি কানেকশন আছে, এই দাবি মানা হবে না।’

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কোটা সবসময় ছিল, চলে আসতেছিল। আন্দোলনটা আমাদের কাছে ভালো লাগেনি। কারণ গোটা শহর বন্ধ করে দিয়ে কোটা বাতিল চাইলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, তোমরা যেহেতু চাও না ঠিক আছে কোটাই থাকবে না। তখন আমরা বলেছি না অনগ্রসর মানুষ আছে, নারী আছে। তারপরও এখন পর্যন্ত আবার যাচাই-বাছাই করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন।’

 (ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত