বাংলাদেশ ব্যাংক ভল্ট কাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি মোশাররফের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৮:০২ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৬:৪৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনার চাকতি ২২ ক্যারেটের জায়গায় কীভাবে ১৮ ক্যারেটের হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেছেন, ‘জমা রাখা হয়েছিল সোনার চাকতি, তা হয়ে আছে মিশ্র ধাতু।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম পেয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও এনবিআর বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার নিশ্চুপ। এই বাংলাদেশে রিজার্ভ লুট হয়েছে, এই টাকার কিছু অন্য দেশে গেছে। সেই দেশ তাদের বিচার করেছে। এ দেশে এ নিয়ে যে তদন্ত করা হয়েছে, তার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।’

এর দায় সরকারের এমন অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই সরকারের আমলেই রিজার্ভ লুট হয়েছে। এবার এই ঘটনা ঘটল।’

‘রিজার্ভের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সরকারের ওপরের মহলের লোকজন জড়িত নন, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বলেছে, এ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকজন জড়িত। এ জন্য এখানে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, বিচার হয়নি। এই স্বাধীন দেশে মানুষের যেমন নিরাপত্তা নেই, তেমনি ব্যাংকগুলোতেও কোনো নিরাপত্তা নেই। এগুলো ন্যক্কারজনক।’

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। রিজার্ভ চুরির মতো ভল্টের কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়া হলে একদিন জনগণের কাছে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যায়িত করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন গঠনে শুরু থেকেই সরকারের গলদ রয়েছে। গঠনের সময় লোক দেখানো আলোচনা করে তারা তাদের পরীক্ষিত লোকদের এখানে স্থান করে দিয়েছে।।’

‘বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনতার মঞ্চের নেতৃত্বদানকারী। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে।’ ‘ইততিমধ্যে তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) যে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করেছেন প্রত্যেকটি জায়গায় জনগণের পাশে না থেকে সরকারের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করে তাদের ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করেছেন–বলেন মোশাররফ।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার সকল কর্মকাণ্ড করছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তারা আরও একটি পাতানো সাজানো নির্বাচন করে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে চায়। শেখ হাসিনার অধীনে কখনও সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে না।’

সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করাই এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এমন মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তেমন নির্বাচন আমাদেরকে আদায় করে নিতে হবে।’

‘জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এই স্বৈরাচারি সরকারের পতন ঘটিয়েই জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মোশাররফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন কোনও কোটাই থাকবে না। সরকার কতোটা ভীতু, ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে দাবিয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রতারণা করলেন।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিংকন,  বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/বিইউ/ডিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত