জোট বাড়াতে আ.লীগের উদ্যোগে আপত্তি শরিকদের

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৮, ২৩:৪০
ফাইল ছবি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের পরিধি বাড়াতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে আপত্তি আছে ১৪ দলের শরিকা। তারা মনে করে, জোটের নতুন দলের প্রয়োজন নেই।

বিরোধিতাকারী জোট নেতাদের মত, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। ভোটের চিন্তায় যাকেতাকে জোট ভুক্ত করা হলে আদর্শিক মূল্যবোধ নষ্ট হবে। তবে মহাজোটের মতো ভোটকেন্দ্রীক বোঝাপড়ায় গেলে আদের আপত্তি নেই।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের সভায় সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসলে আপত্তি তোলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, বাসদ একাংশের নেতা রেজাউর রহমানসহ আরও কয়েকজন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার বেলা ১২টায় আওয়ামী লীগ সভাতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। এরই সুত্র ধরে জোট নেতারা জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আপত্তি তোলেন।

নাসিম যেসব দলের সঙ্গে বসছেন তার মধ্যে আছে সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপিসহ আরও দল। এই বৈঠকে ১৪ দলের নেতাদেরকেও থাকতে অনুরোধ করেছেন নাসিম।

আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বৈঠকে তারা থাকবেন কিন্তু কোন মতামত জানাবেন না কেউ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে শরিক দলের অনেক নেতাই যাকে তাকে নিয়ে জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনী জোট হলে সেখানে আপত্তি থাকবে না আমাদের।’

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি যেখানে ২০ দলের বাইরেও নতুন ঐক্য নিয়ে চেষ্টা করছে, সেখানে আপনাদের আপত্তি কেন- জানতে চাইলে ১৪ দল নেতা বলেন, ‘যাকেতাকে দিয়ে জোট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে জোটের যে আদর্শিক ঐক্য আছে, তা নষ্ট হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা কোটা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে জাতীয় পার্টি  (জেপির) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির  আনিসুর রহমান মল্লিক, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ কয়েকজন মনে করেন এই আন্দোলনে বিরাট ষড়যন্ত্র রয়েছে। ফলে ইস্যুটি আমলাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দ্রুত তা শেষ করতে হবে।

শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘কোটা আন্দোলনকে খোঁচা দিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু করতে দেওয়া ঠিক হবে না। এটিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মোকাবেলা করা উচিত। কোর্ট-কাচারি ও আমলাদের হাতে ঠিক করার দায়িত্ব থাকা ঠিক হবে না।’  

আলোচনায় রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরণ রায় বলেন, রাজশাহী ও সিলেটে ভালো মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে বরিশালের প্রার্থীকে নিয়ে নানা কথা রয়েছে।

তবে অসিতের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বরিশালের প্রার্থী নিয়ে কী সেই নানান কথা? যেই ছেলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বজন হারিয়েছে, স্বজনদের রক্তাক্ত শরীর মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছে তার তো পাগল হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা।

পরে অসিত বলেন, নেতিবাচক অর্থে এই কথা বলা হয়নি।

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত