ঋতুবতীরাও ঢুকতে পারবেন মন্দিরে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ২০:৪১ | প্রকাশিত : ১৮ জুলাই ২০১৮, ২০:৩৮

নারী-পুরুষ দুই-ই ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাহলে মানুষ কেন তাদের ক্ষমতায়নে ভেদাভেদ করবে- ভারতের কেরালা রাজ্যের সবরিমালা মন্দিরের দরজা সব বয়সের নারীদের জন্য খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রসহ পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

সবরিমালা মন্দিরে সব বয়সের নারীদের প্রবেশাধিকার দাবি করে একাধিক মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে গত বছরের অক্টোবরেই শীর্ষ আদালত সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ প্রশ্ন তোলে।

মন্দিরের এই ফরমানে ‘সবার জন্য সমানাধিকার’-এর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হচ্ছে কিনা, সেটা দেখতে মামলা যায় সাংবিধানিক বেঞ্চে।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, এ এম খানউইলকার এবং বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রাকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠিত হয়।

বুধবার এই বেঞ্চই রায় দিয়েছে, সব বয়সের নারীদেরই প্রবেশাধিকার দিতে হবে সবরিমালা মন্দিরে। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি চন্দ্রচুড় ‘নারী-পুরুষ ঈশ্বরের সৃষ্টি’ মন্তব্য করে বলেন, নারীদের কোনও মন্দিরে প্রবেশাধিকার না দেয়া তাদের প্রতি পূজা-অর্চনায় বৈষম্য সৃষ্টি করা।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী পূজা-অর্চনা, ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠান পালনে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। তার অর্থ এই অধিকার আইনগত নয়, সাংবিধানিক অধিকার।

বিচারপতি নরিম্যানের মন্তব্য, মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিচে ও ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স বেঁধে দেয়া ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং এর অর্থ- ঋতুস্রাব থাকাকালীন কোনও নারী মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

কেরালায় পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৬০ মিটার ওপরে একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত সবরিমালা মন্দির। চারদিকে ১৬টি পাহাড় বেষ্টিত গভীর অরণ্যের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সবরিমালা মন্দিরে। পেরিয়ার বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভিতর দিয়ে আয়াপ্পা স্বামীর এই মন্দিরে যেতে হয়।

প্রতিবছর দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে বহু পুরুষ ভক্ত ও পর্যটক এই মন্দিরে যান। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত সেখানে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এমনকী মন্দিরে ঢুকতে গেলে নারীদের বয়সের প্রমাণপত্র পর্যন্ত দেখাতে হত মন্দির কর্তৃপক্ষকে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আজকের নির্দেশের পর প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা সেই রীতির অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮জুলাই/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত