তুরস্কে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জুলাই ২০১৮, ০৮:৪১

টানা দুইবছর জারি থাকার পর তুরস্কের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বুধবার দিবাগত স্থানীয় সময় রাত একটার দিকে এরদোয়ান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসে। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার।

২০১৬ সালের ২০ জুলাই ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয় তুরস্কে। এর পাঁচদিন পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান প্রশাসন।

অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীরাসহ সেসময় প্রাণ হারান অন্তত আড়াইশ তুর্কি। আর এতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষ চাকরিচ্যুত বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশের প্রথম নির্বাহী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের নির্বাচনের মূল প্রতিশ্রুতিই ছিলো ক্ষমতায় এলে তিনি জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করবেন।

জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটির বিরোধী দল আর পশ্চিমাদের সমালোচনার মুখেও এর মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এর মাধ্যমে যারা সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার।

গত ২৪ জুন তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিয়ে এরদোয়ান দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে এবং প্রসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের ডিক্রি জারি করা হয়।

এর মাধ্যমে ১৯২৪ সালে আধুনিক তুরস্কের জনক খ্যাত কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে বলবৎ থাকা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যত বিলুপ্তি ঘটে। নতুন পদ্ধতিতে দেশটির নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন এরদোয়ান।

এদিকে ডিক্রি অনুযায়ী এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা তুরস্কের পার্লামেন্টের ক্ষমতা কমে গেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয় থাকবে প্রেসিডেন্টের অধীনে। প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং তিনিই সভাপতিত্ব করবেন। পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই মন্ত্রীদের নির্বাচন করা কিংবা ক্ষমতাচ্যুত করা, সরকারি চাকরিতে বেসামরিক নাগরিকদের বাদ দেয়ার ক্ষমতাও পাবেন প্রেসিডেন্ট।

অবস্থানগত কারণে বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে তুরস্কের। কারণ দেশটির একদিকে ইউরোপ, অন্যদিকে ইরাক আর সিরিয়ার সীমান্ত। এরমধ্যে বৃহৎ মুসলিম বিশ্বের এক নেতৃস্থানীয় দেশ তুরস্ক পশ্চিমা বিশ্বেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ন্যাটো জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য। তুরস্কের সেনাবাহিনী ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, কুর্দি সমস্যা, ইরাক-সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই, অভিবাসী সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকাটাইমস/১৯জুলাই/ডিএম

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত