রাজশাহীতে আলোচনায় দুই ওয়ার্ড

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
| আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৩:০২ | প্রকাশিত : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১২:১২

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের পাশাপাশি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন নতুন কিছু মুখ। প্রচার নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে নগরীর নয় ও দশ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের দামামা একটু বেশি। এই দুই ওয়ার্ডেই ছয়জন করে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১২জন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।   

নয় নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার। এ ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হলেন, রাসিকের সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র রেজাউন নবী দুদু ( প্রতীক টিফিন ক্যারিয়ার), বর্তমান কাউন্সিলর একেএম রাশেদুল হাসান (ঠেলাগাড়ি), সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান বাবলু (ঘুড়ি), যুবদল নেতা মো. রুবেল (ট্রাক্টর), মো. মহসিন (লাটিম) এবং তরুণ প্রার্থী সাইফুল্লাহ শান্ত (করাত)।

এদের মধ্যে দুদু, রাশেদুল, শান্ত এবং বাবলুর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুদু বিএনপির সাবেক নেতা। বর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন। ১৯৮৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুদু বলেন, একটানা ২০ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলাম। এ সময় এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছি। পড়া-মহল্লার ভেতরের রাস্তাও আমার সময়ে তৈরি  হয়েছে।

বর্তমানে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা উল্লেখ করে দুদু বলেন, মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। নতুন ড্রেন নির্মাণ এবং পুরাতন ড্রেন সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতায় পড়েছেন মানুষ।

পদ্মার পাড় আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। এগুলো সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমার জীবনের এটাই শেষ নির্বাচন। ভোটাররা যদি আমাকে আর একবার সুযোগ দেন তাহলে দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে  নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব।

বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবলু এ ওয়ার্ডে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সময় রাজশাহী মহানগরীর সর্বোচ্চ উন্নয়ন হয়েছে। ওই সময় কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করায় আমিও এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার। তাই ভোটাররা আমাকে ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকার সময় এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন নির্মাণ করেছি। এছাড়া পদ্মাপাড়কে মনোরম স্থান হিসাবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছি। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে নাগরিক দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্তমান কাউন্সিলর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অতীতের বিষয়টি স্মরণ রেখে ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে থমকে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আবারও শুরু করা হবে।

বর্তমান কাউন্সিলর রাশেদুল হাসান বলেন, আমি মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আর গত নির্বাচনে মেয়র হলেন বিএনপির নেতা। এ কারণে তিনি কোনো ধরনের সহায়তা করেননি। তাই এলাকায় সেভাবে উন্নয়ন করতে পারিনি। এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র এবং আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন দেখিয়ে দেব।

এ ওয়ার্ডে নতুন প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মাঝে বেশ ভালো সাড়া ফেলেছেন সাইফুল্লাহ শান্ত। শান্তর বাবা এএইচএম মাকসুদুল করিম এই ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার। তার মা রোজিটি নাজনিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এবং রাজশাহী ওমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি। যুক্তরাজ্য থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে আসা শান্ত এলাকার মানুষকে মাদক ও দুর্ভোগমুক্ত এক ওয়ার্ডের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। শান্ত বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করব।

এই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী আরও দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রুবেল ও মো. মহসিনের নামও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে। তবে তা খুব বেশি নয়। পাঠানপাড়া এলাকার ভোটার তরিকুল ইসলাম বলেন, রুবেল এবং মহসিন নতুন প্রার্থী। তাদের ব্যাপারে ভোটাররা চিন্তা-ভাবনা করছেন।

এদিকে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডেও চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ছয়প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। তারা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার (ঘুড়ি), সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ উদ্দিন আহমেদ মানিক (লাটিম প্রতীকে), মো. শাহজাহান (রেডিও), জামায়াত নেতা ফোজলুল করিম (টিফিন ক্যারিয়ার) এবং সাবেক ক্রিকেটার সাইদুল ইসলাম (ঠেলাগাড়ি)।

বর্তমান কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার বলেন, ২০১৩ সালের জুনের নির্বাচনে আমি বিজয়ী হবার পরে ওয়ার্ডটির রাস্তাঘাট সংস্কারের চেষ্টা করেছি। এখনও কয়েকটি মহল্লায় সংস্কারের কাজ চলমান। পরিকল্পনা রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের মানুষকে সাথে নিয়ে মাদক এবং ছিনতাইমুক্ত এলাকা গড়ে তুলব।

সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ মানিক বলেন, আমি ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ছিলাম। এবার আবার নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা দূর এবং রাস্তাঘাটের সংস্কার করব। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং ছিনতাই নির্মূলে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য প্রার্থীরাও আলোচনায় রয়েছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, মূল আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান এবং সাবেক কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার ও সিরাজ উদ্দিন আহমেদ মানিক। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে বেশ ভালো লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ওয়ার্ডের হেতেমখাঁ গোয়ালপাড়া মহল্লার স্কুলশিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, বিপদে আপদে যাকে পাশে পাব এবং যিনি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন তাকেই ভোট দিব। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক ভোট পাবে না। ভোট এসেছে, যোগ্য প্রার্থীকেই আমরা নির্বাচিত করব।

(ঢাকাটাইমস/১৯জুলাই/আরআর/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত