ছেলেদেরকে আরও ছাড়িয়ে মেয়েরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫২ | প্রকাশিত : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৮

শিক্ষায় মেয়েদের উত্তরোত্তর উন্নতির আরেক প্রমাণ মিলল এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। ছেলেদের তুলনায় আবারও মেয়েরা ভালো ফলাফল করেছে। বরং গত কয়েক বছর ধরেই ভালো করার ধারাবাহিকতায় ছেলেদেরকে আরেকটু ছাড়িয়ে গেল মেয়েরা।

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার যেখানে ৬৬. ৬৪ শতাংশ, সেখানে মেয়েদের পাসের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।

প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে মেয়েরা ফলাফলের পাশাপাশি সংখ্যায় ছেলেদেরকে ছাড়িয়ে গেছে আগেই। উচ্চ মাধ্যমিকে যে সংখ্যাগত ব্যবধান ছিল, সেটাও এবার কমিয়ে এনেছে মেয়েরা। আর এতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিত আপ্লুত। বলেছেন, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের যে উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সেটিরই বাস্তবায়ন হচ্ছে।

‘মাইয়ারাও স্কুলে যাবে’ এমন কথা এখন আর কাউকে বলতে হবে না। তবে রক্ষণশীল বাংলাদেশে মেয়েদেরকে স্কুলে আনতে কম বিপত্তি কাটাতে হয়নি। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তো কিংবদন্তি হয়ে আছেন এই চেষ্টায়। তবে ৯০ দশক পর্যন্তও যে খুব বেশি এগুনো গেছে, সেটি বলার সুযোগ ছিল না।

ওই দশকের শেষ দিক থেকে টেলিভিশনে একটি কার্টুন প্রচার হতে থাকে যার নাম ছিল ‘মীনা’। এর প্রথম পর্বে মেয়েদেরও স্কুলে যাওয়ার অধিকার আছে, এটিই দেখানো হয়।

মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আপ্রাণ চেষ্টা আর পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ সমাজকেও নারী শিক্ষাকে উৎসাহী দিকে ধাবিত করেছে।

বৃহস্পতিবার চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০টি বোর্ডের প্রধান। এরপর ফলাফলের নানা পরিসংখ্যান দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই মেয়েদের আরও একটি সাফল্যগাঁথা রচনার প্রমাণ মেলে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভিকারুননিসার ছাত্রীদের আনন্দ-হুল্লোড়

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছাত্রদের মধ্যে পাসের হার হয়েছে ৬৩.৮৮ শতাংশ। কিন্তু মেয়েরা পাস করেছে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬৯.৭২ জন। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে পাসের হার বেশি ৫.৮৪ শতাংশ।

২০১৭ সালে এইচএসসিতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার বেশি ছিল ২.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ এবার এই ব্যবধান বাড়ল আরও বেশি।

এবার অবশ্য সামগ্রিকভাবে পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ। তবে এই খারাপ ফলাফলের জন্য মেয়েরা না যতটা দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী ছেলেরা।

কারণ এবার ছেলেদের পাসের হার কমেছে ৩.৭৩ শতাংশ। আর মেয়েদের পাসের হার কমেছে ০.৭১ শতাংশ।

গত বছর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬৭.৬১ শতাংশ। আর মেয়েদের পাস করার হার ৭০.৪৩ শতাংশ।

উচ্চ মাধ্যমিকে সংখ্যায়ও ব্যবধান কমিয়েছে মেয়েরা

প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে ছাত্রী সংখ্যা ছাত্রদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়া এবং মেয়েদের পরীক্ষায় ভালো করার প্রবণতা নতুন নয়। নারী-পুরুষের সাম্যের জন্য লড়াই করা বাংলাদেশে অভাবনীয় এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই কৌতুক করে বলেন, ‘ছেলেদেরকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। তাদেরকেও মেয়েদের মতো পড়াশোনা করতে হবে।’

তবে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় এখনও সংখ্যায় পিছিয়ে মেয়েরা। বাল্য বিয়েসহ নানা কারণে এই ঘটনাটি ঘটছে। যদিও এক্ষেত্রেও এবার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ছয় লাখ ৮০ হাজার ৮৮৪ জন। আর ছাত্রী ছিল ছয় লাখ সাত হাজার ৯০৯ জন। অর্থাৎ ছাত্রের সংখ্যা বেশি ৭২ হাজার ৯৭৫ জন।

তবে পাসের সংখ্যার দিকে ছাত্র এবং ছাত্রীর ব্যবধান মাত্র ১১ হাজার ৮২ জন। এখানে প্রায় সাম্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে মেয়েরা।

এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ছাত্র পাস করেছে চার লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৮ জন। আর ছাত্রী পাস করেছে চার লাখ ২৩ হাজার ৮৮২ জন।

আবার এবার ছাত্র ও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার পার্থক্য ৭২ হাজারের বেশি হলেও গত বছর তা ছিল ৮৬ হাজার ১৮০ জন। সে বছর পাঁচ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৯৫ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ছয় লক্ষ ২৪ হাজার ৭৭৫ জন।

পরীক্ষায় মেয়েদের ক্রগামতভাবে ভালো করে যাওয়ার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চ মাধ্যমেকেও তিন-চার বছরের মধ্যে সংখ্যায় সমতা আসবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অগ্রগতির জন্য শুরু থেকে যে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ছিল। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘মাধ্যমিক পর্যন্ত পারলেও উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েরা এখনও ছেলেদেরকে সংখ্যায় ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তবে আমরা আশা করছি এখানে সমতা শিগগির অর্জিত হবে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে।’

ঢাকাটাইমস/১৯জুলাই/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত