গণসংবর্ধনায় ‘শক্তি’ দেখাবে আ.লীগ

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ১১:৪৩ | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ০৮:১৭
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের বছরে দলের সাংগঠনিক ও জনসমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরতে নেয়া হয়েছে উদ্যোগ।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ‘শোডাউনের’ জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজধানী থেকে দূরবর্তী বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন। ঢাকা ও আশেপাশের জেলার লোকজন সকাল থেকে আসা শুরু করবে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সর্বশেষ ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণে অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও তার উপস্থিত থাকার বিষয়টি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, দেশের অর্জন এবং উন্নয়নের ‘অধিনায়ক’ শেখ হাসিনা। তার দৃঢ় নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা সম্ভব হয়েছে।

সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলালীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে।

পুরো সোহরাওয়ার্দী মাঠ ও আশপাশে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে দলটির পক্ষ থেকে।

ঢাকার আশেপাশে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও মুন্সীগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরাও যোগ দেবে সংবর্ধনায়।

বাস, ট্রাক ও রেলপথে নেতাকর্মী ঢাকায় এসে বর্ণিল মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী ময়দানে সমবেত হবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সংসদ সদস্য ছাড়াও সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেবে।

বেলা তিনটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

এই সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম হতে পারে বিবেচনায় পুলিশও নগরীতে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে। দুপুর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং আশেপাশের বিভিন্ন সড়ক এড়িয়ে অন্য সড়ক ধরে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এই আয়োজন সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করেছে। প্রতি থানা-ওয়ার্ডেও হয়েছে প্রস্তুতি সভা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিত সংবর্ধনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

গত ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও মুন্সীগঞ্জের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আশপাশের জেলা-মহানগরের অন্তর্গত দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য নিয়ে যৌথসভা করেন। ওই সভায় সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলালীগসহ কয়েকটি সংগঠন নিজেদের প্রস্তুতি সভা করে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নেতৃত্বে মঞ্চ, মাঠ ও আশপাশের সাজসজ্জা উপকমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যান্য কাজের দায়িত্বও ইতোমধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সোহরাওয়ার্দী ময়দানসহ আশপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের তথ্যসংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানো হয়েছে ঢাকায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চিত্র শিল্পীরা এঁকেছেন শেখ হাসিনার নানা বয়সের ১৬টি ছবি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের দলীয় সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। পুরো নগরবাসীর সঙ্গে আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অনেক দিয়েছেন। বিনিময়ে কিছুই তিনি প্রত্যাশা করেন না। নগরবাসী এদিন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবে। আমরা চাই এদিন যেন সুশৃঙ্খলভাবে, যান চলাচল ব্যাহত না করে, পুরো রাজধানীই প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনাস্থলে পরিণত হয়।’

শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে রাজনীতিতে আমরা ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন করতে পেরেছি, অর্জন করতে পেরেছি যা দেশে-বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে, প্রশংসিত হচ্ছে এবং এ উন্নয়ন অর্জন মাত্র কয়েক বছরে এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। বাংলাদেশে এ সময়ে এ অর্জন প্রবৃদ্ধি সব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য অর্জিত হয়েছে।’

তিনি বলেন,‘এটা তো অভূতপূর্ব সাফল্য। সে কারণে এ সংবর্ধনা। কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী জাতির জনকের কন্যাকে সংবর্ধনা দিচ্ছি। আর লোক সমাগমের বিষয়টা আপনাদের ক্যমেরাই বলে দেবে।’

ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত