বুলবুলের ইশতেহার না পেয়ে হতাশ নগরবাসী

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ০৮:২২
ফাইল ছবি

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে গত ১০ জুলাই। ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে পারেননি বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। লিটনের ১৫ দফার ৮২টি প্রতিশ্রুতির সেই ইশতেহার ইতিমধ্যে নগরবাসীর মাঝে সাড়া ফেলেছে।

সদ্য সাবেক মেয়র বুলবুল ২০১৩ সালের নির্বাচনে ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। সে নির্বাচনে তিনি জিতেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০ দফা ইশতেহারের তেমন কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এ অবস্থায় বুলবুলের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রুতি আসে তা নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইশতেহার ঘোষণা না করে শুধু গণসংযোগেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি বুলবুল। আর তার ইশতেহার ঘোষণা না হওয়ায় হতাশ নগরবাসী।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ইশতেহারের মাধ্যমেই একজন প্রার্থীর যোগ্যতা ফুটে ওঠে। প্রকাশ পায় তার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সামর্থ্যও। আর কোনো নির্বাচনে জয়ের পরও সেই নির্বাচনের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করতে পারলে পরের নির্বাচনে প্রার্থীর কাছে জবাবদিহিতা আদায়ের সুযোগ থাকে। এই মুহূর্তে বুলবুলেরও তেমন অবস্থা। কিন্তু তিনি নিজের ইশতেহারই ঘোষণা করতে পারেননি। এ নিয়ে আমরা হতাশ।

রাজশাহী কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিমি খাতুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন তার ইশতেহারে রাজশাহীকে নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। আমরা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলেরও ইশতেহার জানতে চাই। তারপর দুটোর মধ্যে তুলনা করেও দেখতে চাই। যে প্রার্থীর ইশতেহার গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবায়নযোগ্য মনে হবে তাকে ভোট দেব। কিন্তু প্রার্থী বুলবুল তার ইশতেহার ঘোষণা না করায় আমি সেই তুলনা করতে পারছি না।

ভোটাররা বলছেন, আগের নির্বাচনী ইশতেহারের কানাকড়িও বাস্তবায়ন করতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বরং তার আগের মেয়াদের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের হাতে গড়া পদ্মাপারের এই পরিচ্ছন্ন শহর ভাঙা রাস্তাঘাট, যানজট ও ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয় বুলবুলের আমলেই। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ আছে। এ অবস্থায় এবারের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিতে মন গলবে না ভোটারদের। তাই ইশতেহার না দিয়ে প্রচারের মাধ্যমেই ভোটারের মন জয়ে মনোযোগী বুলবুল।

তবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুলবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একটা খসড়া ইশতেহার লেখা হয়েছে। সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আশা করছি, দুই-একদিনের মধ্যে ইশতেহার ঘোষণা করতে পারব।’ ইশতেহার প্রস্তুত হলে সংবাদ সম্মেলন করেই তা প্রকাশ করে হবে বলে জানান রাজশাহী সিটির সাবেক এই মেয়র।

এদিকে গত নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র ২২ মাস। এই সময়ের মধ্যেই ওয়াদার ৮০ শতাংশই পূরণ করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না থাকলে সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।’

তবে ইশতেহার বাস্তবায়ন না হওয়ায় বুলবুলেরই ব্যর্থতা আছে বলে মনে করেন নগরবাসী। তার ব্যর্থতার কারণে দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। নগরবাসী বলছেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী হওয়ায় ইশতেহার পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন বুলবুল। আর দলীয় কর্মকাণ্ডের কারণেই তাকে জেল খাটতে হয়েছে, বরখাস্ত হতে হয়েছে মেয়রের পদ থেকে।

আগামী ৩০ জুলাইয়ের রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, ভোটে মূলত আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যে লড়াই হবে। তাই এই দুই প্রার্থীর ইশতেহার নিয়েই তাদের আগ্রহ বেশি।

অন্য দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন সমর্থিত মুরাদ মোর্শেদ জানিয়েছেন, শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন গড়ে তোলাসহ ১৬-১৭টি প্রতিশ্রুতি থাকবে তার ইশতেহারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলামের ইশতেহারও এখনও প্রস্তুত হয়নি। দলটির জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন সাঈদ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারাও তাদের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণার চেষ্টা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/আরআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত