রাশিয়া বিশ্বকাপের অদেখা অর্জনগুলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ১২:১৭

গত হয়ে গেল এক মাসের বিশ্ব কাঁপানো ফুটবল উৎসবের। বিশ্বসেরা হওয়ার এই প্রতিযোগিতায় ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে দ্বিতীয়বারের মত সোনালী শিরোপা জেতে ফ্রান্স। শিরোপা ছাড়াও গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল বা গোল্ডেন গ্লাভস’ জিতেছে রাশিয়া মাতানো ফুটবলাররা। কিন্তু কিছু কিছু পুরস্কার দৃশ্যমান না হলেও চোখে পড়েছে সবারই। এমনই সব অদৃশ্য অর্জনের তালিকা করেছে জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যা বিশ্বকাপের সেই অদৃশ্য পুরস্কারগুলো-

সেরা একক নৈপুণ্য

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বলা যায় স্পেন বনাম পর্তুগালের ম্যাচটিকে। আর সেই ম্যাচটি ছিলো দুই দলেরই আসরের প্রথম ম্যাচ। সেই ম্যাচে নিজের একক নৈপুণ্যে দলকে হার থেকে রক্ষা করেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। করেছেন তিনটি গোল।

তার হ্যাটট্রিকসহ সেদিনের ম্যাচের অসাধারণ নৈপুণ্যই এই বিশ্বকাপের সেরা একক নৈপুণ্য৷

সবচেয়ে দৃঢ়চরিত্র খেলোয়াড়

ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচের হৃদয় যেন তাঁর জার্সিতেই৷ ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে তিনি সারা মাঠে দৌঁড়েছেন। কি মিডফিল্ড, কি ডিফেন্স কিংবা ফরোয়ার্ড সব জায়গাতেই সব উজাড় করে দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন৷ আবার নিজেও পড়ে গিয়েছেন৷ কিন্তু বারবারই উঠে দাঁড়িয়েছেন৷ বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর জয়সূচক গোলটি বাঁচিয়ে দিয়েছে দলকে৷ ফাইনালে আত্মঘাতী গোল করে দলকে বিপদে ফেলে আবার পরে সেটাও শোধ করেছেন।

বিশ্বকাপের ইন্টারনেট তারকা

এবারের বিশ্বকাপে তো ব্রাজিল সুপাস্টার নেইমার হলেন ইন্টারনেটে ট্রলের নায়ক। নিজের পারফর্ম নিয়ে যতটা না আলোচিত এই তারকা তার চেয়ে বেশি আলোচিত গড়াগড়ি নিয়ে। তাই বলাই যায় তিনিই আমাদের এ বিশ্বকাপের ইন্টারনেট তারকা৷

সবচেয়ে বেশি বিনোদন দেয়া দল

কয়েকজন এলিট খেলোয়াড় দিয়ে সাজানো দল ছিল বেলজিয়াম দলটি৷ আক্রমণাত্মক ফুটবলের অসাধারণ প্রদর্শন তাদের এ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দলে পরিণত করেছে৷ বিশেষ করে এডেন হ্যাজার্ড ও ডে ব্রুয়নে তাঁদের নৈপুণ্য দিয়ে মাতিয়েছেন রাশিয়ার ভেন্যুগুলো৷ হ্যাজার্ডের ৪০টি সফল ড্রিবল এ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ৷ আর ডে ব্রয়নের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ পাস এবারের আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ৷

সবচেয়ে বিব্রতকর মুহূর্ত

ইরানের মিলাদ মোহাম্মাদি পাবেন এই পুরস্কার৷ স্পেনের বিপক্ষে ফ্রন্ট ফ্লিপ কায়দায় থ্রো-ইন (ডিগবাজি দিয়ে) করতে গিয়ে তা করতে ব্যর্থ হন তিনি৷ এরপর অবশ্য আবার থ্রো-ইনটি করেন তিনি, তবে স্বাভাবিকভাবে৷

বিশ্বকাপে শুধুই বিসর্জন যাঁদের

বিশ্বকাপে আগের বারের চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি, এমনটি প্রথমবার হয়নি৷ শেষ পাঁচবারের চারবারই এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিন দলটির কাছ থেকে এমন আশা করেনি কেউ৷ এমনকি তারা এমন দু’টি দলের কাছে হেরেছে (মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া), যাদের কাছে আগে কখনোই কোনো বড় টুর্নামেন্টে হারেনি৷ গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে আসরের সবচেয়ে বড় অঘটন টা ছিলো তারাই।

সবচেয়ে দুর্ভাগা দল

সেনেগালের গ্রুপটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ৷ গ্রুপ এইচ-এ তাদের সঙ্গে ছিল কলম্বিয়া, জাপান ও পোল্যান্ড৷ গ্রুপের তিন ম্যাচ শেষে জাপানের সঙ্গে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যায় সমান ছিল তারা৷ কিন্তু দুর্ভাগ্য ছিল তাদের যে, দলটির খেলোয়াড়রা দু’টি হলুদ কার্ড বেশি পেয়েছিলেন৷ দুর্ভাগা দল!

সবার মন জয় করেছে যারা

৪০ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যা ক্রোয়েশিয়ার৷ কিন্তু দলের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা যেন উপচে পড়ছিল৷ শুধু তাঁরা নন, ফুটবলপ্রেমী সাধারণ দর্শক সমর্থকরাও তাঁদের ভালোবেসেছেন৷ ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে গেলেও মন জয় করেছেন সারাবিশ্বের৷

ভাগ্য সহায় ছিল না ক্রোয়েশিয়ার। দুটি গোল খেতে হয়েছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। ওই দুটি গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়, কাল হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত। তবে ফাইনাল হয়েছে ফাইনালের মতো। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ, দুর্দান্ত গতিময় ফুটবল। ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত ফাইনালটা অনেক দিন মনে থাকবে সবার।

অতি অর্জন যাঁদের

স্বাগতিক রাশিয়া এতটা ভালো খেলবে তা কেউ আশা করেননি বিশ্বকাপের আগে৷ তাই তারাই এ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ৷ বিশ্বকাপে সবচেয়ে নিচু র‌্যাংকিংয়ের দেশ হয়েও যেভাবে উঠে এসেছে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত, তা স্বাভাবিক ছিল না৷ দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনকে হারানোর পর ক্রোয়েশিয়াকেও টাইব্রেকার পর্যন্ত আটকে রেখেছিল তারা৷

(ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/এইচএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত