হুলস্থুল হলো, মিলল না সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ১৭:৩২ | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ১৭:১৬

মিরপুরে এক বাড়ির নিচে দুই মণ সোনা আছে, এই তথ্যে হুলস্থুল। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ির মালিক। থানায় করলেন সাধারণ ডায়েরি। আর ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হলো বাড়ি খনন।

না, অন্তত প্রথম দিন গুঞ্জনের সত্যতা মেলেনি।  সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বাড়ির দুটি ঘরের মেঝে পাঁচ ফুটের মতো খুঁড়েও পাওয়া যায়নি কথিত গুপ্তধন।

কথিত গুপ্তধনের খোঁজে দুনিয়া জুড়েই নানা সময় নানা অভিযান হয়েছে। আর সেই কাহিনি লেখে বিখ্যাত হয়ে গেছেন বহুজন। মিরপুরে কী হবে, সেটি জানতে এখনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। কারণ, আজকের মতো খনন স্থগিত হয়েছে, কাল আবার হবে।

খনন কাজ তদারকি করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বাড়িটির গঠন দুর্বল। সেজন্য আগামীকাল আবার নির্ধারিত সময়ে আধুনিক টেকনিক্যাল টিম দিয়ে পুনরায় খনন শুরু করা হবে।’

‘আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত দুইটা রুমের প্রায় পাঁচ ফুট খনন করা সম্ভব হয়েছে।’

‘অল্পের জন্য সোনা মেলেনি ভাই। তবে মাটি বেশ জমেছে বাড়ির সামনে। আজকের মতো খোড়ার কাজ শেষ। কাল আবার আসেন মিলতেও পারে’- রসিকতা করে সাংবাদিকদের তথ্য দিচ্ছিলেন মিরপুর জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

বাড়িটি ঘিরে প্রশাসনের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল গত কয়েকদিন। সেখানে বসানো হয়েছিল পুলিশ। যারা সার্বক্ষণিক বাড়িটি ঘিরে রেখেছিল।

সকালে মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়ির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র থাকতে পারে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেঝে খুঁড়ে সেই কথিত মূল্যবান ধাতু বের করে আনতে মেঝেতে খননকাজ চালায় প্রশাসন।

এ সময় পুলিশ বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রাখে আর বাড়ির নিচে গুপ্তধনের খবর পেয়ে উৎসুক লোকজন ভিড় করেন সেখানে।

খবর পেয়ে উৎসুক জনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ভিড় জমে। লাইভ দিতে দেখা যায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলে।

ওই বাড়ির মালিকের নাম মনিরুল আলম। গত ১৪ জুলাই তিনি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বলা হয়, বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে এলাকার লোকজন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ কারণে বাড়িটির সামনে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়িটি খননে কোনো আপত্তি নেই। খননের খরচও বহন করবেন জানিয়ে মনিরুল বলেন, যদি সত্যি সত্যি গুপ্তধন পাওয়া যায়, তাহলে তা বেওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া বিধি মোতাবেক তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

জিডির কথা উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের বাসিন্দা তৈয়ব নামে এক ব্যক্তি মিরপুর থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনিও ওই বাড়িতে গুপ্তধন থাকার কথা জানান।

এই ডায়েরিতে বলা হয়, বাড়ির মূল মালিক দিলশাদ খান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। দিলশানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আলমও পাকিস্তানে থাকেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। আলম তাকে তথ্য দেন, মিরপুরের ওই বাড়িটির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র রয়েছে।

পাকিস্তানে থাকাকালে আলমকে ওই তথ্য দেন দিলশাদ। এরপর আলমকে নিয়ে তৈয়ব মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা এ সম্পদ দখলে নিতে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার পর তৈয়বকে আড়ালে রেখে গোপনে বাড়িটির বর্তমান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আলম। তারা মাটির নিচের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করেন।

বিষয়টি টের টেয়ে তিনি মনিরুল পূর্ব পরিচিত রাবেয়া চৌধুরী নামে এক নারীকে নিয়ে থানায় যান। তারা বিষয়টি জানিয়ে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেন।

যিনি গুপ্তধনের গুজব ছড়িয়েছেন তার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাদন ফকির বলেন, ‘খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।’

ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত