জনগণ আমাদের সাথে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ২১:১৮ | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ২০:২৩

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘জনসমুদ্র’ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিলেন, জনগণ আছে তাদের সাথে। এর আগেও তারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল করেছে, আগামীতেও সমৃদ্ধির পথে সরকারের যাত্রা থাকবে।

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া গণসংবর্ধনায় এ কথা বলেন দলের সভাপতি।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সর্বশেষ ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা দেয় আওয়ামী লীগ।

বেলা দুইটার দিকে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হলেও নেতা-কর্মীরা আসতে থাকেন সকাল থেকেই।

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও আসে হাজার হাজার মানুষ। এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা উদ্যান ও আশেপাশের এলাকা।

নির্বাচনের বছরে বড় আকারের এই জনসভায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চেও ছিল বড় আকারের নৌকা। নেতা-কর্মীদের মুখেও ছিল তাদের প্রতীকের পক্ষে স্লোগান।

দীর্ঘ বক্তব্যে টানা নয় বছরের শাসনামলে দেশের কল্যাণে নেয়া নানা উদ্যোগ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আর জনগণের কল্যাণে নেয়া উদ্যোগে জনগণ খুশি বলেও মনে করেন তিনি।

এই গণসংবর্ধনার দিকে দৃষ্টি রাখার কথা জানিয়েছিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রধানের কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি।

তবে মওদুদকে হতাশ হতে হবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরাসরি কিছুই বলেননি প্রধানমন্ত্রী। সাধারণত বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তিনি যে ধরনের বক্তব্য রাখেন, সেই বিষয়টির বদলে তার নিজের জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের কথা উঠে আসে।

মওদুদ বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় আজকের জনসভায় নৌকায় ভোট চাইবেন। তবে আমরা কেন ধানের শীষে ভোট চাইতে পারব না?’

তবে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নৌকায় ভোট চাননি। যদিও অনেকে নৌকা ঠেকাতে চান উল্লেখ করে প্রশ্ন রেখেছেন কেন নৌকা ঠেকাতে হবে। নৌকায় ভোট দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন-সবই জনগণ পেয়েছে-এই বিষয়টিও তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল এবং এখনও পক্ষেই আছে, এই বিষয়টিও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন এবং পরের বছর সরকার পতনের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন।

নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকাতে হবে কেন? নির্বাচন ঠেকালে কে আসবে? অনির্বাচিত সরকার? আবার হত্যা, ক্যুর ষড়যন্ত্র?’

‘২০১৫ সালে চেষ্টা করেছিল সরকার উৎখাত করবে। জনগণ আমাদের সাথে ছিল। জনগণই তাদের বাধা দিয়েছে। উৎখাত করতে পারেনি, নিজেরা ঘরে ফিরে গেছে।’

‘এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই জনগণ কিছু পায়, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়, তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে।’

‘৭৫ থেকে ৯৬ দেশের মানুষ দেখেছে কী হবে। আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসন পেয়েছে, আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব, আমাদের সে লক্ষ্য আছে।’

‘দেশে গণতন্ত্র আছে’

দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপির যে অভিযোগ, তারও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আজকে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আমাদেরই দাবি ছিল, আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। ছবিসহ ভোটার তালিকা আমরাই দিয়েছি। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।’

‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ছয় হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটা নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের মন মতো প্রার্থী জয়যুক্ত করেছেন। গণতন্ত্র যদি না থাকবে তাহলে মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচন করল কীভাবে?’

দেশের উন্নয়নে কারও কারও আঁতে ঘা লাগছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন এরা কারা। পরে নিজেই বলেন, ‘আঁতে ঘাঁ লেগেছে তাদের যারা আমার বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষ, হাড্ডিসার, কংকালসার, বুভুক্ষু মানুষ; যাদের শুধু হাড় আর চামড়া আছে, সেই দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ এনে সেই অর্থ দিয়ে নিজেরা অর্থশালী, সম্পদশালী হয়; দেশ বিদেশে সম্পেদের পাহাড় তৈরি করে, তাদেরই আঁতে ঘা লেগেছে।’

কেউ কেউ নৌকা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রশ্ন তোলেন কেন নৌকা ঠেকাতে হবে। নৌকা ঠেকিয়ে তারা আবার রাজাকার আর স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে ক্ষমতায় আনতে চান কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত