মাদকের পেছনে খরচ বছরে ‘এক লাখ কোটি টাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৩ | প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:৪০

দেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অন্তত ৭০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে বলে ধারণা করছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। আর তারা বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মাদক সেবন করে বলে ধারণা তার।

র‌্যাব প্রধানের এই পরিসংখ্যান সত্য হলে সেটি বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের ২১ শতাংশেরও বেশি আর উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৫৬ শতাংশ।

রবিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে মাদকবিরোধী বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাদকের পেছনে খরচের একটি পরিসংখ্যন জানানো হয়।

মাদক বাংলাদেশে সব সময় একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে হাল আমলে ইয়াবার আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ আছে সরকারের মধ্যে। বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রধানত মিয়ানমার থেকে আসা এই বড়িতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। আর পুলিশ জানাচ্ছে, অপরাধের জন্য মাদকাসক্তি প্রধানতম দায়ী।

কারাগারে বন্দীদেরও একটি বড় অংশই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বাভাবিক সময়ে বন্দীদের তিন ভাগের এক ভাগ মাদক সংশ্লিষ্ট। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের পর সেটি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

তার চেয়ে বড় কথা, মাদকের মামলায় সাক্ষীর অভাবে বিচার করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। হাজার হাজার মামলা ঝুলে থাকা মামলার বিচার আদৌ শেষ হবে কি না, এ নিয়ে আশঙ্কার কথা বলাবলি হয় বরাবর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাগাদার পর গত মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব ও পুলিশ আর এই অভিযানে দুইশরও বেশি সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।

দেশে মাদকের ব্যাপকতা বুঝাতে গিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাদকসেবীদের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে প্রাপ্ত তথ্য মতে মাদকাসক্তের পরিমাণ ৭০ লক্ষের বেশি। সেখানে যদি ৬০ লক্ষ ইয়াবা খায় তাহলে বার্ষিক খরচ ৭২ হাজার কোটি টাকা। এর সাথে হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা যোগ করলে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বার্ষিক ইকোনমি।’

‘আমরা যেটা কাজ করছি সেটা মৌচাকে ঢিল না, ভিমরুলের চাঁকে ঢিল। এই যে ঢিল ছুড়েছি সেজন্য সকলের সহযোগিতা চাই, এদের কে পিষে মারার জন্য।’

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে তাদের গুলিতে মোট ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এবং কুখ্যাত মাদক কারবারি।

‘আমরা যে কাজটি করছি সেটা হলো সাপ্লাই কাট করা। সেটার পাশাপাশি রিমান্ড কাটের প্রয়োজন আছে। রিমান্ড কাট করা না গেলে কোনো না কোনোভাবে এই মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করবে।’

‘যার যে ভূমিকা সেটা তার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আমাদের র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশের ও ব্যাপক অভিযান হচ্ছে। সেখানেও তাদের বিপুল সাফল্য রয়েছে, সেটা আটক বা মাদক উদ্ধার সকল ক্ষেত্রে। তারপরও দেশে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে।’

বেনজীর অভিযান শুরুর পর পৌনে তিন মাসে তারা মোট এক হাজার ৭৯১টি অভিযান চালিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭টি অভিযান ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ৮০ দিনে ১০২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি লোক গ্রেপ্তার হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৮৭৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আরও এক হাজার ৭১৩টি নিয়মিত মামলা হয়েছে সেখানে দুই হাজার ৯৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযানে এক হাজার ৩৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ লাখ ৭২ হাজার নয়শ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান সব সময় ছিল জানিয়ে প্রতিষ্ঠার পর গত ১৪ বছরে গ্রেপ্তারের একটি পরিসংখ্যাও দেন বেনজীর। জানান, এই সময়ে ৮০ হাজার মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত এক বছরে র‌্যাব পাঁচশ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

ঢাকাটাইমস/২২জুলাই/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত