ফল প্রত্যাখ্যান করে আগেও জিতেছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:০৫ | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০১৮, ০৮:০৪

ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রত্যাখ্যান, কিন্তু সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পাচ্ছে বিএনপি, এটি এখন নিশ্চিত প্রায়।

এই বিষয়টি চমকপ্রদ বটে তবে এর আগে ঘটেনি এমনটা নয়। বর্তমান সরকারের আমলেই একাধিক নির্বাচনেই এমনটি ঘটেছে।

২০১০ সালের ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটের রাতে ফলাফল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে অভিযোগ করে প্রতিবাদ কর্মসূচিও ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু পরে জানা যায় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র হয়েছেন বিএনপির এম মনজুর আলম। আর এরপর নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তাও দেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

২০১৩ সালে বর্তমান সরকারের আগের আমলে এক দিনে চার মহানগর রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিনও ভোটকেন্দ্র দখল, সিল মারা, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ করে গেছে বিএনপি। কিন্তু চারটি শহরেই বেশ বড় ব্যবধানে জেতার পর দলটি বলেছে, কারচুপি না হলে আরও বড় ব্যবধানে জিতত।

একই বছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের দিনও দিনভর ভোট ডাকাতির অভিযোগ করে রাতে জিতে যাওয়া বিএনপিও একই বক্তব্য দিয়েছে, ‘সুষ্ঠু’ হলে আরও বড় জয় হতো তাদের।

২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম তিন পর্বে বিএনপির একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েও জিতে যান। সে সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নে বলেন, সরকারকে চাপে রাখতে তারা আগাম অভিযোগ করেন।

সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে ভোটে বিএনপির জয় এখন নিশ্চিত, সেটি দুপুরে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন দলটির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নিজে। বেলা একটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে এই দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন দেন তিনি।

আর ভোট শেষে বিকাল চারটায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ফলাফল যাই হোক, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সিলেটে কোনো ভোট হয়নি, এমন অভিযোগ করে আরিফুল বলেন, ‘এটা ভোট চুরি না, দিনে-দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এবং তাদের সহায়তায় ভোট ডাকাতি হয়েছে।’

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে বিএনপির নেতা বলেন, ‘এই জয়, জয় না। এটা মীর জাফরের জয়। এই জয়ের মাধ্যমে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমার পরাজয়টা বড় ব্যাপার না, এ নির্বাচনের ফলে নতুন প্রজন্ম একটি ভুল জিনিস শিখছে।’

অর্থাৎ সিলেটের ভোটের ফল নিয়ে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী ছিল না মোটেও। কিন্তু কিন্তু ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রথমে আসা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের কেন্দ্রে নৌকার তুলনায় ধানের শীষে দ্বিগুণ ভোট পড়া আর আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের নিজ কেন্দ্রে হেরে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একবার কামরানের এগিয়ে যাওয়া আর পরক্ষণে আরিফুলের এগিয়ে যাওয়া-এই পরিস্থিতিতে আরিফুল হক চৌধুরী ছুটে যান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

শেষমেশ জানা যায়, জয় হতে যাচ্ছে তারই। স্থগিত দুই কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা চার হাজার ৭৮৭ আর দুই জনের পার্থক্য চার হাজার ৬২৬। ফলে দুই কেন্দ্রে ভোট হলেও তার জয় নিশ্চিত-এটা বলাই যায়।

ভোটের ফল নিশ্চিত হওয়ার পর এই জয় সিলেটবাসীকে উৎসর্গ করে আরিফুল।

নির্বাচনকে ঘিরে যা কিছু হয়েছে তা ভুলে গিয়ে সবার সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান ধানের শীষের প্রার্থী।

বিএনপি অবশ্য কেবল সিলেট না, চলতি বছর হওয়া বাকি চার সিটি নির্বাচন খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী ও বরিশালের নির্বাচনকে ‘ভোট ডাকাতি’ এবং ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছিল।

তার আগে গত ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃতীয় হওয়ার পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেন। তবে পরদিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে স্বীকৃতি দেন।

২০১৭ সালের ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিনও কেন্দ্র দখল করে সিল মারার অভিযোগ করেন রিজভী। তবে দলের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু প্রায় ১১ হাজার ভোটে জয় পান।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবার উল্টো ঘটনা ঘটে। দিনভর নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলা বিএনপি প্রায় ৮০ হাজার ভোটে হেরে যাওয়ার পর কারচুপির অভিযোগ তোলে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচনটা ফেয়ার, কিন্তু ফলটা আনফেয়ার।’

ঢাকাটাইমস/৩১জুলাই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত