অপরাজিতার জন্যই আমাকে সবাই চেনে

নুসরাত জাহান খান নিপা
| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১২:২৭ | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০১৮, ০৮:১৬

নুসরাত জাহান খান নিপা। মডেলিং ও অভিনয় দিয়ে অনেক আগেই নজর কেড়েছেন। বেসরকারি টেলিভিশন দীপ্ত টিভির মেগা সিরিয়াল ‘অপরাজিতা’য় অভিনয় করে চলে আসেন আলোচনায়। র‌্যাম্পের মতো মাত করেছেন টিভি পর্দায়ও। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স ডিপার্টমেন্টের মঞ্চ ছেড়ে হয়ে উঠেছেন বোকাবাক্সের সফল অভিনেত্রী। সে সব বিষয় নিয়ে তার মুখোমুখি হয়েছে ঢাকাটাইমস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ

‘অপরাজিতা’ নাটকটি তো আপনাকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তুলেছে।

আমি এর আগেও টুকটাক কাজ করেছি। আমার কাজের শুরুটা ২০১৩ সালের দিকে। সবারই একটা ব্র্যাকথ্রু লাগে। যেটার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে অতিক্রম কিংবা প্রমাণ করতে পারে। আমার লাইফে দীপ্ত টিভির ‘অপরাজিতা’ ধারাবাহিকটি সেরকমই একটি। আমি দীপ্তর সঙ্গে এই ধারাবাহিকে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হই। তাদের সঙ্গে আমার চুক্তি হয় ২০১৪ সালে। এটা প্রায় দুই বছর টিভিতে অন এয়ার। যার ফলে আমাকে দর্শক চিনেছে। প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এখন ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামে খুব সহজে ফিডব্যাক পাওয়া যায়। অনেকে মেসেজ করে।

‘একদিন প্রজ্ঞার দিন’ নাটকটিতেও দর্শক আপনার দারুণ অভিনয় দেখছে।

বাংলাভিশনে প্রচারিত এই নাটকটি আমার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিচালক ছিলেন গৌতম কৈরি। যেহেতু বাংলাভিশন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল, তাদের দর্শকদের বড় একটা অংশ মধ্যপ্রাচ্যের। যারা নিয়মিত টেলিভিশনে দেশীয় অনুষ্ঠান দেখে, তাদের কাছ থেকে এই নাটকের প্রচুর ফিডব্যাক পেয়েছি। গৌতম দা অসাধারণ একজন নির্মাতা। রাশেদ রাহার পরিচালনায় বাংলাভিশনে আরও একটি ধারাবাহিক চলছে ‘আকাশে মেঘ নেই।’ এটিএন বাংলায় আশিষ রায়ের ‘ভালোবাসার রং’ নামে একটি ধারাবাহিক করেছি।

নতুন আর কোনো নাটক এই মুহূর্তে কাজ করছে?

পান্থ শাহরিয়ারের রচনায় মানসুর আলম নির্ঝর ও সূর্য দীপ্ত সূর্যর পরিচালনায় এটিএন বাংলার জন্য ‘১০৩২’ নামে একটি মেগা সিরিয়াল করছি। এনটিভির জন্য ‘মায়া মসনদ’ নামে আরও একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছি। এই মাসেই এটি প্রচার শুরু হবে।
 
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স ডিপার্টমেন্টে পড়েছেন, এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল?

এটা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেও জানতাম না এমন একটি ডিপার্টমেন্ট আছে অথবা এই সাবজেক্টে পড়ব। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে যখন জানলাম এই সাবজেক্টে পড়াশোনা করা যাবে তখন এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। আব্বুর সঙ্গে কথা বলেই শিউর হলাম। এর আগে থিয়েটার কিংবা নাচ-গান বা সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খুব একটা সুযোগ ঘটেনি। ফলে এই ডিপার্টমেন্ট আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

থিয়েটারে পড়াশোনা করেছেন, সেই জায়গা থেকে অভিনয় বা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়তে হবে এ বিষয়ে পরিবার থেকে কোনো ধরনের আপত্তি ছিল।

পরিবার থেকে মিডিয়াতে কাজ করার ক্ষেত্রে কখনো বাধা আসেনি। তবে একেবারে শুরুর দিকে বলতো অভিনয় যেহেতু করবা তাহলে অন্য একটা চাকরিতে যোগ দাও। অন্তত একটা ফিক্সড ইনকামের ব্যাপার থাকবে। হয়তো স্বাচ্ছন্দ্যে অভিনয়টা করতে পারব। শুধু অভিনয় করলে তোমার প্রোপার সিকিউরিটি থাকবে কি না, লাইফটা সেট হবে কি না? এই ধরনের একটা চিন্তা পরিবার থেকে তো থাকেই। কিন্তু কখনো সেভাবে বাধা আসেনি।

নাটকের সেটে লেটনাইটে কাজ করতে হয়, আমাদের সমাজে একজন নারীকে ততটুকু স্বাধীনতা এখন দেওয়া হয় কি?

টেলিভিশন বা ফিল্মের কাজগুলোই এমন। এখানে অনেক সময় কাজ করতে করতে দেরি হয়ে যায়। এটা সবাইকেই করতে হয়। প্রথম প্রথম পরিবার থেকে চিন্তা করতো। এত রাত করে ফিরছো। সকাল ৭টা-৮টায় কল থাকে। ফিরতে আবার মাঝ রাত। আমাদের এখানে কাজের ধরনটাই এমন। এখানে সবাই এই চাপটা নিচ্ছে হাসিমুখে। পরিবারও এখন বুঝে গেছে। আমাদের জীবন এমনই।

অনেক বড় সিরিয়ালে কাজ করেছেন, এক ঘণ্টার নাটকেও কাজ করছেন, গল্পের মান নিয়ে কিছু বলবেন।

আমাদের এখানে খারাপ গল্পগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। অথচ অনেক ভালো ভালো কাজ যে হচ্ছে সেগুলো নিয়ে কোনো কথা হয় না। এটা খুব খারাপ চর্চা আমি বলব। তবে ভালো কাজ সবাই যে করছে তাও না। যারা খারাপ কাজ করতে চাচ্ছে তারা খারাপ কাজই করছে। তাদের কাছে শিল্পের  তেমন কোনো মূল্য নেই। তবে অনেকেই ভালো কাজই করছে বেশি।

নতুন একজন মানুষকে এই সেক্টরে কাজ করতে গেলে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়?

নতুন মানুষকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা পীড়া দেবে সেটা হলো কাউকে না চিনতে পারার বিষয়টা। আর জুনিয়র আর্টিস্টদের সবাইতো ঠিক একভাবে মূল্যায়ন করতে চায় না। এই সময়টা খুবই অস্বস্তির ব্যাপার। তবে কাজ করতে করতেই এই সমস্যা চলে যায়। আর পরিচিত সেটগুলোতে কাজ করতে করতে সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে পেশাদার যেকোনো গ্রুপেই কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়। খুব সহজে নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চায় না। এটা একটা টিপিক্যাল ধারণা। তারা মনে করে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না। কিন্তু সব পুরনো অভিজ্ঞ মানুষই এক সময় নতুন ছিল, তাদেরকে কেউ না কেউ সুয়োগ দিয়েছে।

আপনার বেলায় সেই অভিজ্ঞতাটা কেমন?

আমি নাট্যকলা থেকে পড়ে এসেছি। মঞ্চেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে। আর একটু একটু করে কাজ করে নিজের পরিচিতি বাড়িয়েছি। থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ছোট ছোট কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও আমি যে পারি এই বিশ্বাস অর্জন করতেই আমার অনেক সময় লেগে গেছে। আর যারা বাইরে থেকে আসে তাদের জন্য তো আরও কঠিন। প্রতিটি নতুন মানুষের এই ঝামেলাটা ফেইস করতে হয়।

হুট করে এসে জনপ্রিয় হওয়াটাকে কিভাবে দেখেন।

আসলে হুট করে এসে জনপ্রিয় হওয়া যায় না। এভাবে যারা জনপ্রিয় হয়েছে তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম। আর যারা জনপ্রিয় হয়েছেও তারা খুব বেশিদিন টেকেনি। এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। যাদেরকে আপনি দেখেছেন তাদের অনেককে আবার ভুলেও গেছেন। কিন্তু আপনি তাদেরকেই মনে রেখেছেন যারা এখানে প্রাণপণে লেগে ছিল।

নাটকের অনেকেই চলচ্চিত্র করছে, আপনার ক্ষেত্রে এটা কেমন হবে?

একেকজন এই বিষয়টা একেকভাবে দেখে। আমিও চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। তবে আমাদের দেশের সাধারণত যে ধরনের চলচ্চিত্র তৈরি হয়, টোটাল বাণিজ্যিক ফিল্ম। হিরো-হিরোইন বেজড, তেমন কিছু করব না। ফিচার ফিল্ম বা আর্ট ফিল্ম টাইপের চলচ্চিত্র হলেই কেবল করব। এই ধরনের চলচ্চিত্র অবশ্যই করতে চাই। তবে আমাকেও তো সেটার উপযুক্ত মনে করতে হবে। তারপর না হয় ভাবা যাবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

এই মুহূর্তে শুধু একটাই পরিকল্পনা আরও অনেক অনেক কাজ করতে চাই।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকে ও ঢাকাটাইমসকে ধন্যবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত