‘ক্রিসক্রস’: পাঁচ মেয়ের লড়াইটা যেমন

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১১:১৮ | প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১০:৪২

পাঁচ লড়াকু মেয়ে জয়া আহসান, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, প্রিয়াংকা সরকার ও সোহিনী সরকারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ক্রিসক্রস’ ছবিটি। ছবি সম্পর্কে এতদিন শুধু এটুকুই জানা গেছে। কিন্তু পর্দায় এই পাঁচ মেয়ের লড়াইটা কেমন হবে সম্প্রতি সেটাও জানিয়ে দিলেন ছবির পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত। ১০ আগস্ট রূপালী পর্দায় দেখা যাবে সেই লড়াইয়ের পুরো চিত্র। তার আগে জেনে নেয়া যাক পাঁচ লড়াকু মেয়ের সংক্ষিপ্ত চরিত্র সম্পর্কে।

জয়া আহসান: ছবিতে বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসানকে দেখা যাবে মিস সেন চরিত্রে। ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য একটা সময় যিনি সংসার ছাড়তেও দ্বিধা করেন না। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটাও ভাবেন যে, ভালো সময়টা বদলাতেও সময় লাগে না। তাই তিনি এমন কিছু একটা করতে চান যাতে ভালো সময়টা ধরে রাখা যায়। উচ্চপদে থাকা অনেকের চরিত্রে উদ্ধত ভাব থাকে। কিন্তু সেই উদ্ধত আচরণের পেছনে তারা কী লুকোতে চান সেটার উত্তরই জানা যাবে মিস সেনের দিকে নজর রাখলে।

মিমি চক্রবর্তীঃ তিনি এই ছবিতে রয়েছেন ইরা চরিত্রে। পেশায় ফটোগ্রাফার। তবে তিনি যেকোনো ওয়ার্কিং মেয়ের প্রতিনিধি। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সংসার জীবনের জন্য তার চুক্তি হয়, তিনি ইলেকট্রিকের বিল জমা দেবেন আর বয়ফ্রেন্ড রান্না করবেন। বাড়িতে সাধারণত নারী ও পুরুষের মধ্যে কাজের যে ভাগ থাকে এখানে তার উল্টো।

একটা জরুরী কাজের দিনে ইরার এনগেজমেন্টের তারিখ পড়লে তিনি বলতে পারেন, কাজটা আজ সেরে নিই, এনগেজমেন্টটা প্রয়োজনে একদিন পিছিয়ে দিই। কিন্তু সমাজ এটা মানবে না। এই একই সিদ্ধান্ত একজন পুরুষ নিলে সমাজ সেটাকে ভালো চোখে দেখবে। অন্যদিকে একজন মেয়ে করলে কিন্তু কিন্তু ভাব শুরু হয়ে যায়। সেই সমস্যাই ইরার অর্থাৎ মিমি চক্রবর্তীর চরিত্রের মধ্যে উঠে আসবে।

নুসরাত জাহান: ‘ক্রিসক্রস’-এ নুসরাত জাহানের চরিত্রের নাম মেহের। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এমন কিছু মেয়ে আছে যাদেরকে দেখলে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে আঁচ করা যায় না। তারা জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে, ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে ও মডেল হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন। কিন্তু সবকিছুর পেছনে তাদের একটাই লক্ষ্য থাকে, ভালো চরিত্রে অভিনয় করা। এদেরকে কাজ দেয়ার ক্ষমতা যারা রাখেন, অধিকাংশ সময়ই তারা কাজের বিনিময়ে এমন কিছু চেয়ে বসেন, যেটা মোটেই সম্মানজনক নয়। মেহেরকেও বলা হয় জামার বোতাম খুলে ফেলতে। কিন্তু মেহের কাজ পাওয়ার জন্য এমন নোংরা আপসে রাজি হয় না। বাকিটা পর্দায়।

প্রিয়াংকা সরকার: ছবিতে এই নায়িকা রয়েছেন সুজি চরিত্রে। তিনি একজন চিত্রশিল্পী। তার কাজ মূলত ফ্রিল্যান্সিং করা। এই সমস্ত শিল্পীদের কাজ আছে তো টাকা আছে। কিন্তু একটা কাজের পরে আরেকটা কাজ কখন আসবে সেটা অনিশ্চিত। সুজি একজন সিঙ্গল মাদার। তাই সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্ব তাকে বেশি ভাবায়। সুজি যে সিঙ্গল মাদার, এটা অনেকেই ভালো চোখে দেখে না। তারা নানা ভাবে তাকে উত্যক্ত করে। এসব কারণে সুজির যে লড়াই সেটাই রয়েছে ছবিতে।  

সোহিনী সরকার: ‘ক্রিসক্রস’-এ তিনি আছেন রূপা চরিত্রে। এমন অনেক গৃহিণী আছেন যারা মা হতে পারছেন না। এ ব্যাপারে স্বামীর দিক থেকে সমস্যা আছে জেনেও তারা মুখ খোলেন না। স্বামীর সম্মান বাঁচানোই তাদের লক্ষ্য। সন্তান না হাওয়ার কারণে শাশুড়ি সব সময় খিটিখিট করে। ছবিতে সোহিনীর চরিত্রটা এমনই। তার দেবর এটা জানে বলে সে ভাবীকে প্রস্তাব করে, তুমি যেটা চাও সেটা তো আমিই দিতে পারি। পরিবারের মানুষদের মন সংকীর্ণ হওয়ার কারণে এই ধরণের সমস্যায় অনেক গৃহিণীর জীবনই দুর্বিসহ হয়ে যায়। সোহিনী সেই মেয়েদেরই প্রতিনিধি।

ঢাকাটাইমস/৮ আগস্ট/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত