শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৯শ মোবাইল চুরি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৪৬
ফাইল ছবি

হংকং থেকে আমদানি করা নয় শ স্যামসাং মোবাইলের হদিস পাচ্ছে না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেড। বাংলাদেশ  বিমানে আসা মোবাইলগুলো পণ্য সংরক্ষণাগার থেকে চুরি হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঁচটি প্যালেট (১ প্যালেট ৯’শ মোবাইল থাকে) আমদানি করা হয়েছে বলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দাবি করলেও বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ চারটি প্লেট আমদানি করার কথা বলছে। চুরি যাওয়া মোবাইলের মধ্যে তিনটি হ্যান্ডসেট বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে এমনটা জানিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলাও করেছে এক্সেল টেলিকম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মোবাইল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি গত মাসের ৬ জুলাই হংকং থেকে স্যামস্যাং SM-J600GZBGBNG মডেলের পাঁচটি প্যালেট মোবাইল আমদানি করে (ইনভয়েস নম্বর ৯০১২৫৩৬১৮৩)। ৮ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের ই-ওয়াই ৯৮০৭ বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায়। পরে তা বাংলাদেশ বিমানের তত্ত্বাবধানে ম্যানওয়ার হাউস-২ তে সংরক্ষিত ছিল।

১২ জুলাই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট মমতা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা কাস্টমসসহ আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম শেষে মোবাইল ছাড় করাতে গেলে সেখানে ৯শ মোবাইলের হদিস পায়নি। মোবাইলগুলো ৮ জুলাই থেকে ১২ জুলাই এর মধ্যে অজ্ঞাত চোরেরা ম্যানওয়ার হাউস-২ থেকে চুরি করে নিয়েছে।

দীর্ঘ এক মাস পর গত ৬ আগস্ট মোবাইলগুলোর নাম্বার (আইএমই) সংগ্রহ করে থানায় মামলা করা হয়। মোবাইলগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকমের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা (লজিস্টিক) সাইফুর রহমান ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘মোবাইল ফোনের পাঁচটি প্যালেট আমরা আমদানি করেছিলাম। চারটি বুঝে পেলেও একটি প্যালেট (৯শ মোবাইল) পাওয়া যায়নি। আমরা স্যামস্যাংয়ের মাদার অফিস থেকে জানতে পেরেছি তিনটি হ্যান্ডসেট দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশকে বলা হয়েছে সেই বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।’

সাইফুর রহমান আরও বলেন, ‘মোবাইল ফোনগুলোতে সিম ঢুকিয়ে সেট চালু করলে একটা মেসেজ আসে। সেই মেসেজ আমরা পেয়েছি এবং সেখানেই দেখা যাচ্ছে মোবাইলগুলো দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের আমদানি করা পাঁচটি প্যালটের সবগুলো কাগজপত্র আছে। সিওর ফোনগুলো চুরি হয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন ফকির ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরই মোবাইলের আইএমই নাম্বার পুলিশের বিশেষ শাখায় দেওয়া হয়েছে। সেগুলো দেশের কোথাও ব্যবহৃত হচ্ছে নাকি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের জন্য বাংলাদেশ বিমানের তত্ত্বাবধানে ম্যানওয়ার হাউস-২ গিয়ে তাদের কাছে বেশ কয়েকদিনের সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ বলছে তারা মোবাইলের চারটি প্যালেট পেয়েছে কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচটি প্যালেট রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে তবে সময় লাগবে আসল রহস্য উদঘাটনে।’

তবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশের কোনে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকাটাইমস/৯আগস্ট/এমএবি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত