কবে ঘুচবে গাজীপুরবাসীর দুঃখ?

আবুল হাসান, গাজীপুর
| আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৪২ | প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১১:১৯

গাজীপুর শহরে দিনদিন প্রকট আকার ধারণ করছে যানজট সমস্যা।    রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথ, শিল্পায়ন আর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। আর এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।   

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা জয়দেবপুর রেলক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও হাসপাতালে গমণকারী জনসাধারণ ও স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই যানজটে নাকাল হচ্ছে প্রতিদিন।

সংকট নিরসনে প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি দীর্ঘ ৪০ বছরেও। জাইকা প্রজেক্টের আওতায় লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা থাকলে সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয়  সাংসদ ও মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। খুব শিঘ্রই এ সংকটের সমাধান হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল কিংবা স্কুল কলেজে ঢুকতে গেলে লেভেলক্রসিংয়ের বাঁধা পার হতে হয় প্রতিদিন।

শহরের প্রবেশমুখেই রেলগেট, যেখান দিয়ে সারাদেশব্যাপী অন্তত ৬৫ জোড়া ট্রেন আসা যাওয়া করে। আর একবার ওই ক্রসিং একটি ট্রেন আসা মানেই কম করে হলেও ২০ মিনিটের অপেক্ষার ভোগান্তি। তার ওপর রেলগেটের দুই পাশে সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের  আধিক্য থাকায় দীর্ঘ সময়েও যানজট সমস্যার সমাধান হয় না।

১৯৮৬ সালে জেলা গঠিত হওয়ার পর গাজীপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়। তবে যানজট সমস্যা সমাধানে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও রেলক্রসিং এ ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ দীর্ঘ ৪০ বছরেও হয়নি। গাজীপুর এখন সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও রেলক্রসিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট মূল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেয়া দরকার এবং এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাসের অভিযোগ, রেল আসার ২০-২৫ মিনিট আগে রেলক্রসিংটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এখানে মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে যে রোগী হাসপাতালে নেয়ার পথে যানজটের কারণে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এজন্য আমদের এমপি, মন্ত্রী এবং সিটি করপোরেশন মেয়র দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নিবে এটা আমাদের দাবি।

গাজীপুর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে গাজীপুরবাসীর একটাই দু:খ যে এখানে রেলক্রসিংয়ের ওপর কোন ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়নি। এখানে সব সময় তীব্র যানজট লেগে থাকে। মানুষ বলে, চীনে দু:খ যেমন হুয়াংহো নদী তেমন গাজীপুরের দু:খ হচ্ছে জয়দেবপুরের রেল ক্রসিং। আমরা আশা করব, সরকার এখানে একটি ওভার পাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করবে।

দিনে বিভিন্ন রুটে আন্ত:নগর, কমিউটারসহ অন্তত ৬৫টি ট্রেন চলাচল করে জানিয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মনিরুল ইসলাম বলেন, রেল গেইটে ৪৪০ গজ দূরে থাকতে চালককে সিগন্যাল দেখতে হবে। এজন্য গাড়ি আসার ৫মিনিট পর সিগন্যাল দিলেও রেলক্রসিংয়ের গেইট ৫ মিনিট বন্ধ থাকে। লেভেল ক্রসিং বন্ধ এবং খোলতে অন্তত ১০ মিনিট প্রয়োজন হয়। ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। কেবল ফ্লাইভার নির্মাণই এই রেলক্রসিংয়ের যানজট লাঘব করতে পারে।

জাইকা প্রজেক্টের আওতায় লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা থাকলে এখানে ডাবল রেললাইনের নকশা নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।

সঙ্কট নিরসনে অতি দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, এখানে ডাবল রেল লাইন হবে। সেক্ষেত্রে ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে গিয়ে সেটির পিলার কোথায় বসবে সেই জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে মেয়র, সংসদ সদস্য, গাজীপুরের মন্ত্রী, সড়ক মন্ত্রণালয়সহ সবার সহযোগীতায় ২০১৯ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

(ঢাকাটাইমস/১০আগস্ট/প্রতিনিধি/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত