‘লোকাল’ হয়ে যাওয়া বাসে সিটিংয়ের ভাড়া

কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫১ | প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১২:১৯

নগর পরিবহনের বাস শ্রমিকদের সঙ্গে দিনে নির্দিষ্ট টাকার চুক্তিতে নয়, নির্ধারিত বেতনে চলবে-মালিকদের এই ঘোষণার পর হঠাৎ করেই সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলা বেশ কিছু রুটের বাস লোকাল হিসেবে চলা শুরু করেছে। তবে তারা ভাড়া নিচ্ছে আগের মতোই। অর্থাৎ সিটিংয়ের ভাড়া দিয়েও গাদাগাদি করে যাত্রী তুলছে তারা।

যেসব বাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলে, সেগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কত, সেগুলো বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা হয় আর ওয়েবিল নামে একটি কাগজে কোম্পানির কর্মীরা কাগজে যাত্রী সংখ্যা লিখে দেন।

এই পদ্ধতি এখনও আছে। তবে ওয়েবিলে সই করার পরেই বাসগুলো যাত্রী তুলছে লোকাল বাসের মতো দাঁড়িয়ে।

মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রী রুটে চলাচলকারী স্বাধীন পরিবহন চলছে এভাবেই। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো নামানো, দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে পরিবহনটিতে। অথচ ভাড়া নেয়া হচ্ছে সিটিং সার্ভিসের।

মোহাম্মদপুর থেকে কারওয়ান বাজারের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। কারওয়ান বাজার সিগন্যাল পার হতেই ভাড়া বাড়ছে আরো পাঁচ টাকা। বাংলামোটর সিগন্যালে ভাড়া গুণতে হচ্ছে ১৫ টাকা। অথচ বাংলামোটর সিগন্যালে এই পরিবহনের কোনো স্টপেজ নেই।

এ রকম ঘটনা ঘটছে আরও বেশ কিছু বাসেই। এ নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন যাত্রীর। বাস শ্রমিকদের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে বাক-বিতণ্ডা।

স্বাধীন পরিবহনের নিয়মিত যাত্রী তোফায়েল হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একটি ওয়েবিল থেকে আরেকটি ওয়েবিল পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া নেবে। কারওয়ান বাজার থেকে বাংলামোটর কত দূর? এইটুকু জায়গার জন্য আমি পাঁচ টাকা কেন দেব?’

‘এরা একটা ফাজলামি পেয়েছে। মানুষকে জিম্মি করছে। আমার মনে হয় না গাড়ির মালিকদের এমন নিয়ম আছে। এটা ড্রাইভার হেলপাররা নিজেদের বাড়তি আয়ের জন্য করে।’

১৯৮৩ সালের গণপরিবহন আইন অনুযায়ী, কোনো গণপরিবহনে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না। কিন্তু রাজধানীতে সে চিত্র ভিন্ন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদে তিন দিনের অঘোষিত ধর্মঘটের পর সোমবার সকাল থেকে রাস্তায় নামে নগর পরিবহনের বাসগুলো। আর দুই দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির বদলে শ্রমিকদের নির্ধারিত বেতনের বিনিময়ে বাস চালানোর ঘোষণা দেয় মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার থেকেই এই ঘোষণা অনুযায়ী বাস চলার কথা ছিল। কিন্তু সিটিং সার্ভিসের বাসগুলো এভাবে চললেও যেগুলো লোকাল হিসেবে চলে, সেগুলো আগের মতোই চালক-শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তিতে চালাতে দেখা গেছে।

সারাদিনে মালিককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়ার বিনিময়ে বাস নামায় শ্রমিকরা আর এর বেশি যত টাকা আয় হয়, সেটিই তাদের লাভ। আর নগরীতে পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের জন্য এই বিষয়টিকেও দায়ী করা হয়।

এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বাবুল শেখ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বাসে যে কয়টি সিট আছে, সে কয়জন যাত্রী নেয়া হবে। একজন যাত্রী দাঁড়া করিয়ে নিলে আমি আমার ড্রাইভারকে ২০০ টাকা জরিমানা করি। কারণ, দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়ার কোনো নিয়ম নাই।’

তাহলে কীভাবে এটি ঘটছে, জানতে চাইলে এই পরিবহন মালিক বলেন, ‘অনেক সময় ড্রাইভার-হেলপাররা বাড়তি আয়ের জন্য দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়। কোনো মালিক চায় না, অনিয়মের সাথে জড়িত হতে। কারণ পরে ক্ষতি হলে মালিকের হয়, ওই বাসের হয়।’

ঢাকাটাইমস/১০আগস্ট/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত