হঠাৎ ড. কামাল ঘিরে আ.লীগের আক্রমণ

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৩ | প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৫৮

গত এক সপ্তাহে আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনীতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে আক্রমণ করে যত না বক্তব্য রাখছেন, তার চেয়ে বেশি কথা বলছেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন, কামাল হোসেন সরকার পতনের চক্রান্ত করেছিলেন। গণফোরাম নেতার কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ এমনকি ছাত্রলীগ নেতারা।

গণফোরাম রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো শক্তি নয়। তারা ক্ষমতায় আসবে বা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমন কোনো অবস্থানেও নেই। আবার বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিরাট কিছু করে ফেলবে, তেমন সম্ভাবনাও আপাতত নেই।

বরং তাকে সামনে রেখে দুই প্রধান শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠার বাসনায় যে যুক্তফ্রন্ট করা হয়েছে, সেটি কামাল হোসেনকে কেন্দ্র করেই ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে। তিনি জোটে আসবেন না জেনে যুক্তফ্রন্ট ছেড়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী।

এর মধ্যে কামাল হোসেন আবার জনতার ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য করতে চান না। যুক্তফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, কামাল হোসেনকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার আলোচনা তারা করেছিলেন, কিন্তু গণফোরাম নেতা আসতে রাজি নন।

তাহলে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এত দুশ্চিন্তা কেন, হঠাৎ কেন তাকে আক্রমণ করে নানা বক্তব্য আসছে? –এই প্রশ্ন নিয়ে বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, গত ৫ আগস্ট রাতে সুশানের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলমের বাসায় কামাল কথিত নৈশভোজে হোসেনের অংশ নেয়াটাকে ঘিরেই তাদের যত সন্দেহ।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কয়েকজন যারা ইদানীং আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক হয়ে উঠেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী কূটনীতিকদেরকে কোথাও যেতে হলে সরকারকে আগে জানিয়ে যাওয়ার নিয়ম। তবে ওই বৈঠকের বিষয়ে আগেভাগে কিছু জানানো হয়নি বলেই জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আর গভীর রাতের এই বৈঠকের কথা জানতে পেরে বদিউলের বাসা ঘিরে রাখে একদল মানুষ। সেই রাতে বার্নিকাট ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়িতে ঢিলও ছোড়া হয়।

আওয়ামী লীগের আশঙ্কা, ওই বৈঠকেই সেখানেই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ‘গোপন ষড়যন্ত্র’ হয়েছে।

এককালে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কামাল হোসেন দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতি ঘটান ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর। গঠন করেন গণফোরাম। সে সময় বেশ আলোড়নও তুলেছিল দলটি। বলাবলি হচ্ছিল, এটিও মূলধারার একটি দল। হবে। কিন্তু পরে মাঠের রাজনীতিতে গুরুত্ব পাওয়ার মতো কিছুই করতে পারেননি তিনি। তারপরও কামাল হোসেনকে ফেলনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কামাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ওই সময় তার ‘ডকট্রন অব নেসেসিটি’ তত্ত্ব সাংবিধানিক শাসনহীনতাকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কামাল হোসেনের ভূমিকা, দুই নেত্রীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কামাল হোসেনের বলে যাওয়া ছাড়াও আরও ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামী লীগের।

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘কামাল হোসেন সাহেব সবসময়ই ষড়যন্ত্রতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তাঁর কোন ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি, এবারও তিনি ব্যর্থ হবেন।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী ভূমিকা হতে শুরু করে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ে ওনার যে রোল এর সবগুলো বিবেচনায় নিলে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ তিনি রাজনীতির যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তিনি সফল হতে পারেন না, তাই তিনি অবৈধ শক্তির সঙ্গে চুক্তি করে তিনি ক্ষমতায় আসতে চান। তাই ওনাকে সন্দেহ করাটা অমূলক না।’

কামাল হোসেন কী করেছেন, এমন প্রশ্নে নওফেল বলেন, ‘বাংলাদেশের বিষয়ে বিদেশে গুজব রটনাকারী কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে উনি যেভাবে উঠে পড়ে লাগছেন। এখন তিনি বলছেন দেশে গুন্ডাতন্ত্র চলছে বলেছেন। তিনি তো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময় যখন দেশে গণতন্ত্র ছিল না, তখন তো তিনি কিছুই বলেন নাই।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘যখন দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ হয়, তখনই হঠাৎ তাঁর নড়াছড়া শুরু হয়। উনি তখনই সরকারকে আক্রমণ করে বিভিন্ন কথা বলেন। এ শ্রেণির মানুষরাই সুযোগ সন্ধানী, তারা ভাবে যে যেকোন অস্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমে তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তা পেতে পারে। সেই স্বপ্ন থেকেই তারা ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটে।’

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উনি (কামাল হোসেন) তো ১/১১ সময়েও তৃতীয় শক্তি আনার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এখন আবারও সেই প্রক্রিয়াই আছেন তিনি।’

‘একবার তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে করেছিলেন সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।  কামাল হোসেনদের সকল ষড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব। তাঁরা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছিলো, এবারও তাঁরা ব্যর্থ হবে।’

ঢাকাটাইমস/১২আগস্ট/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত