‘কোনো সরকারই মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমাতে চাইবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৭ | প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪২

কোনো সরকারই মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমাতে চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা কমানো হয়েছে এটা শুনতেই তো ভয়াবহ লাগে। যত যুক্তিসঙ্গতই হোক, কোনো সরকারই এটা করতে চাইবে না।’

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসিতে আয়োজিত টক শো ‘সংবাদ সম্প্রসারণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনায় নাঈমুল ইসলাম ছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ অংশ নেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে, এ ছাড়া বাকি কোটাগুলো বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। আদালতের রায়ের কারণেই মূল্যায়ণ কমিটি কোনো সিদ্ধান্তে অগ্রসর হতে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে কি না উপস্থাপিকার এমন প্রশ্নের জবাবে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘কমিটিকেও আমি দোষারোপ করবো না, কিংবা আদালতকেও না। এটি হাইলি পলিটিক্যালি সেনসিটিভ একটি ইস্যু। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা কমানো হয়েছে এটা শুনতেই তো ভয়াবহ লাগে। যত যুক্তিসঙ্গতই হোক, কোনো সরকারই এটা করতে চাইবে না।’

‘প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন পার্লামেন্টে, তিনি সেটা রাগের বসেই দিয়েছিলেন যে কোটাই থাকবে না। কিন্তু তার আগে গত তিনটি বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছিলেন। যেখানে দেখা যায় কোটা যাই থাকুক, যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা কোটা কখনোই পূর্ণ ছিল না। তার মানে ওই শূন্য আসনগুলোতে মোধাবীদের নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওনার দেয়া হিসেবে ৭০ বা ৭৫ শতাংশই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।’

নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে সন্তান এবং নাতি নাতনি দিয়েও মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ হচ্ছে না। তাই এখানে গত তিন বছরের হিসেবটা যদি সরকার কোর্টে উপস্থাপন করে তাহলে কোর্টও কনভিন্সড হবে। সুতরাং আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটাটা ১৫ শতাংশ করে ফেলি। একইসাথে অন্যান্য কোটাগুলো কমিয়ে দিয়ে মেধার কোটাটা বাড়িয়ে দিতে পারি।’

কোটা বাতিলের জন্য আদালতে যখন রিট করা হয় তখন আদালতের বক্তব্য অনেকটা এরকম ছিল, যে বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, এখানে আদালতের কোনো বিষয় না।-এ বিষয়ে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক বলেন, ‘সরকার তো এখানে মতামত চাইবে। কিন্তু আরেকটা কারণে সরকার এখানে মতামত দিতে চাইবে না। কারণ, সরকার মানেই একটি কাঠামো, আবার সরকার মানেই রাজনৈতিক দল। সামনে নির্বাচন। তাই সরকার বিষয়টি নিজের কাঁধে রাখতে চাইছে না।’

আলোচনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন যে কোনো কোটাই থাকবে না এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হবেন তারা। এখানে প্রশ্নটা সোজা। যারা কোটা আন্দোলন করেছে তারা কিন্তু কোথাও বলেনি কোটা বাদ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা থাকবে না যেটা বলেছেন সেটা রাজনৈতিক বিতর্ক।’

বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের নেতারা একটা হুমকি দিয়েছে যে ৩১ আগস্টের মধ্যে যদি কোটা নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে তারা বড় ধরণের আন্দোলনে নামবে। এটা সরকারের অনেক পুরানো পদ্ধতি। কখনো কমিটি করে সরকার সময়ক্ষেপণ করে। আবার সাম্প্রতিক সময়ের নতুন প্রবণতা হয়েছে যে এটা আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যখন আদালতে পাঠানো হয় তখন হয়তো বলতে পারি না যে এটা কবের মধ্যে সমাধান হবে।’

‘এটার অর্থ সম্ভবত এটা হতে পারে যে ডিসেম্বর মাসের জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার হয়তো কোনো বিক্ষোভের সৃষ্টি করতে চাইছেন না। আর এটা আদালতের কাছে যাওয়া মানে সরকার কোটা আন্দোলনকারীদের বলতে পারবে যে বাবা তোমারা বিক্ষুব্ধ হয়োনা, আদালতের আদেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।’

সম্প্রতি সাফ অনুর্ধ ১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের যত্ন নেয়া ও সঠিক অনুশীলন ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন নাঈমুল ইসলাম।

বলেন, ‘বর্তমানে তারা যেমন খেলছে যুক্তিসঙ্গতভাবেই আমরা আশা করছি তারা ভবিষ্যতে সাফ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং অন্যান্য দিক দিয়েও এগিয়ে যাবে। এজন্য তাদরে প্রতি যত্নশীল হতে হবে। যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/১৪আগস্ট/এএকে/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত