নির্মাণ

বাথরুমে নান্দনিকতার ছোঁয়া

প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম
 | প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১০:৫৮

বাথরুম দৈনন্দিন জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। যেখানে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত বিষয় জড়িত। এছাড়া বাথরুমের মাধ্যমে বাড়ির লোকজনের রুচিরও প্রকাশ করে। আপনার সামাজিক-পারিবারিক সম্মান, মর্যাদা, অবস্থান, রুচি, স্ট্যাটাস প্রকাশ করবে বাড়িতে সুন্দর একটি বাথরুম। অনেক সময় জায়গা স্বল্পতার দরুন অনেকে সুন্দর বাথরুম তৈরি করতে পারেন না। তবে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে বাথরুম তৈরিতে জায়গাটি সঠিকভাবে হলে একটি ছোট বাথরুম সুন্দর, কার্যকরী এবং আরামদায়ক কক্ষের মধ্যে পরিণত হতে পারে। 

সাধারণত বাথরুমের লেআউটগুলো খুব আলাদা নয়। এক সারিতে মিলিত বাথরুমে একটি টয়লেট, একটি ওয়াশ বেসিন এবং একটি দীর্ঘ দেয়ালে ঝরনা এবং টয়লেট রাইজার কাছাকাছি হয়। বাথরুমের ফিকচারের হিসাব-নিকাশে এমন কিছু ব্যবহার করতে হবে, যা সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং ব্যবহার উপযোগী রাখা যায়। ফিকচারের দাম সাইজ, রং, আকৃতি, কি দিয়ে তৈরি এসবের ওপর নির্ভর করে। 

সাধারণত সাদার চেয়ে রঙিনগুলোর দাম বেশি হয়ে থাকে। আবার বড় 
হলে তার দাম বেশি হয়। বড় ফিকচার দাম বেশি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জায়গাও বেশি দখল করে এবং পানির অপচয় বেশি হয়। যার কারণে ফিকচার পছন্দ করার সময় এগুলো বিবেচনার মধ্যে রাখতে হবে। 

বাথরুমের সাধারণ মাপজোখ নিয়ে কিছু কথা বলা যেতে পারে। যেমনÑ গোসলের পাত্র বা বাথটাব: গোসল করার পাত্র তিন ধরনের হয়ে থাকে। বিল্ট-ইন, পায়ার ওপর, এবং বেইজ বা পাটাটনের উপর। 

সকল ক্ষেত্রেই এর আকার ৪ থেকে ৬ ফুট লম্বাটে এবং ২৬ থেকে ৩৬ ইঞ্চি পাশে হয়ে থাকে। সাধারণত উচ্চতা ১৬ থেকে ২২ ইঞ্চি হয়ে থাকে। তবে ৪ ফুটের বর্গাকার বাথটাবও পাওয়া যায়।

বিল্ট-ইন টাব বাথরুমের কোনাতে ব্যবহার করা হয়। এটি কম জায়গা দখল করে। এর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। তবে যেখানে আর্দ্রতা কম সেখানকার দেয়ালের সাথে এটি করা হয়। 

পায়ার ওপর বসানো টবের খরচ তুলনামূলক কম। কিন্তু দেখতে খুব ভালো লাগে না এবং পায়া থাকার কারণে এতে উঠা-নামা কঠিন/বিরক্তকর । সাধারণত এর পাইপগুলো দেখা যায়। বেইজের ওপর টব পায়ার মতোই তবে, এতে কোনো পায়া থাকে না, এর বদলে পাটাটন থাকে। যার কারণে এর তলের ফ্লোর দেখা যায় না। 

শাওয়ার বা ঝরনার খরচ টাবের চেয়ে অনেক কম। কম জায়গা দখল করে এবং পানির খরচ কম। শাওয়ারের মাথা বা মুখ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চিতে থাকে। স্টল শাওয়ার ৩২ ইঞ্চি থেকে ৪২ ইঞ্চি বর্গাকার ঘর এবং উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুট হয়ে থাকে। একে অনেক সময় জাকুজি বলা হয়ে থাকে। 

শাওয়ার হেড একটু বাঁকা থাকতে হবে যাতে করে সরাসরি মাথার ওপর পানি না পড়ে পাশ দিয়ে পড়বে। তিন ধরনের শাওয়ার হেড পাওয়া যায়। রেইন হেড সার্কুলার স্প্রে হেড লাভাটরী বড় আকারের বেসিনকে বলা হয়। লাভাটরী তিন ধরনের হয়ে থাকে। ওয়াল সংলগ্ন পায়ক্যাবিনেট। এদের কমন উচ্চতা ৩১ ইঞ্চি তবে বড় পরিবারের জন্য ৩৪ ইঞ্চি হলে ভালো হয়। ওয়াটার ক্লোসেট বা কমড: আমাদের দেশে প্যান এবং কমড উভয়কে কমড বলা হয়। প্যান বলা হয় লো-কমড এবং কমড বলা হয় হাই-কমড। 

এটি বসানোর পূর্বে অবশই প্রস্তুতকারীর নির্দেশনা দেখতে হবে। কেননা এর ওপর নির্ভর করে ছাদের ছিদ্র করতে হবে। পানির লাইন করতে হবে। টাওয়েল রড গামছা বা তোয়ালে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। ২১ ইঞ্চির নিচে ব্যবহার করা যাবে না। উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট। সাবানদানি বা কেইস বেসিনের কাছে রাখতে হবে এবং উচ্চতা বেসিনের সমান বা এর থেকে ১ ফুট পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

লেখক: প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম

স্টাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফ্রেম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেক্ট

(ঢাকাটাইমস/১৬আগস্ট/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত