‘স্বীকৃতি কওমি সন্তানদের অবদানের সুযোগ সৃষ্টি করবে’

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৯

ইসলামি শিক্ষা ও আদর্শের সূতিকাগার ‘কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি বিল’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতার প্রবাসী উলামা-মাশায়েখ ও কমিউনিটি নেতারা। তারা বলেন, এ স্বীকৃতি কওমি সন্তানদের জন্য মেধা ও জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাদের ব্যাপক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আলনূর কালচারাল সেন্টার কাতার আয়োজিত ‘কওমি সনদের স্বীকৃতি: প্রত্যাশা ও আশংকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মত দেন বক্তারা।

গত ১৪ আগস্ট দোহার দাওয়াত রেস্টুরেন্টে নির্বাহী সদস্য মুফতি আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এই সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন আলনূর নির্বাহী পরিচালক মাওলানা ইউসুফ নূর। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন কাতার শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কাতার শাখার (একাংশ) সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রধান, ইসলামী আন্দোলন কাতারের সেক্রেটারি মাওলানা তোয়াহা সিদ্দিকী, ঢাকা সমিতির সহসভাপতি প্রকৌশলী আলিমুদ্দিন, কফিল উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কাদের শাহীন ও প্রকৌশলী আবুল ওয়ালীদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রখ্যাত কারী হাফেজ নূর মুহাম্মদ, হাফেজ জুনাইদ, কারী মুস্তাফিজুর রহমান ও হাফেজ সাফওয়ান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাতার ইসলামি সেন্টারের গবেষক প্রকৌশলী মাওলানা সৈয়দ মাহবুব আলম, আলনূর শিক্ষা বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী সদস্য হাফেজ লোকমান, কারী ইব্রাহিম, রাকিবুল ইসলাম ও ফজলে রাব্বি প্রমুখ।

মাওলানা ইউসুফ নূর বলেন, ১৮৬৮ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপমহাদেশে ইসলামি রেনেসাঁর নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এই ধারাবাহিকতায় ১৯০১ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম হাটহাজারীর গোড়াপত্তনের মধ্য দিয়ে এ দেশে কওমি ধারার শুভ সূচনা হয়। আজ শুধু উপমহাদেশ নয় বরং দুনিয়াজুড়ে কওমি মাদ্রাসার জয়জয়কার। এক নিউইয়র্ক শহরেই রয়েছে কয়েকশ কওমি সেন্টার। কওমি মাদ্রাসার তুখোড় মেধাবী সন্তানেরা হিফজুল কুরআন, ইসলামী ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ছিনিয়ে এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। কাতারে প্রায় হাজারখানেক ইমাম-মুয়জ্জিন ও কোরআন প্রশিক্ষক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই কওমিপড়ুয়া।

তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতি আমাদের প্রত্যাশা ও আশংকা দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। এ স্বীকৃতির কারণে কওমি ছাত্ররা পৃথিবীর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়শোনা ও অধ্যাপনার সুযোগ পাবে। ইসলামি বিভাগসমূহ তাদের দ্বারা উপকৃত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কর্মপরিধি বৃদ্ধি পাবে। তবে সরকারি সংশ্লিষ্টতার কারণে অতীতে পৃথিবীর বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা হারানোর নজিরও কম নয়। তাই উলামা মাশায়েখদের সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

‘মনে রাখতে হবে কওমি মাদ্রাসা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ইসলামের দুর্গ, মানবতা ও নৈতিকতার পতাকাবাহী এবং জাতির অতন্দ্র প্রহরী। আল্লামা ইকবাল যথার্থ বলেছেন: এ মাদ্রাসাগুলো না থাকলে ভারত উপমহাদেশ বহু পূর্বেই স্পেন হয়ে যেত।’

মাওলানা ইউসুফ নূর আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর গতিশীল নেতৃত্ব স্বীকৃতি আন্দোলনকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছিয়েছে। মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমিন ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, মুফতি ফজলুল হক আমিনী ও মাওলানা আব্দুল জাব্বার সাহেবানদের অবদানও জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সকলেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্র। আমাদের ইসলামি চেতনার মূলেই রয়েছে কওমি মাদ্রাসা। কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রমাণ।

তিনি আরো বলেন, কওমি আলেমদের অগ্রসর চেতনার আরেক উদাহারণ আলনূর কালচারাল সেন্টার। কাতারে আমরা এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছি। নিউইয়র্কেও আলনূর সেন্টারের কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে।

মাওলানা তোয়াহা সিদ্দিকী বলেন, উলামা মাশায়েখ ও শাসকদের নেক ঐক্য ইসলাম ও দেশের জনকল্যাণ বয়ে আনে কওমি স্বীকৃতি এর উজ্জ্বল প্রমাণ।

প্রকৌশলী আলীম উদ্দিন বলেন, জাতির সবচেয়ে মেধাবী সন্তানেরাই কওমি মাদ্রাসায় পড়ে। কারণ আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ছাড়া ঐশী জ্ঞান লাভ সম্ভব নয়।

শফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, উলামা মাশায়েখ জাতির দরদি অভিভাবক। তারা আমাদের দূরে ঠেলে দিতে পারেননা। তারা কল্যাণের উৎস। প্রশাসন ও জাতীয় নেতারা এ উৎস থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখলে তা হবে দুঃখজনক। ইসলামের কথা বললেই জামায়াতি ট্যাগ লাগানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তৌহিদি জনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। সাধারণ শিক্ষিত ও ইসলামি বিশেষজ্ঞদের সেতুবন্ধন আলনূর সেন্টারের সফলতা কামনা করি।

(ঢাকাটাইমস/১৬আগস্ট/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত