ঈদের আমেজ নেই শপিংমলে

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৮:২৬

‘সকালে দোকান খুলছি, এখন পর্যন্ত একটা শাড়ি বিক্রি করতে পারি নাই। মনে হচ্ছে দোকান খোলাটাই লস হইছে। ঈদের বিক্রিতো দূরের কথা ঘর ভাড়াই উঠে না। কর্মচারীদের বেতন  দিমু কেমনে বুঝতে পারতাছি না। বিক্রি হোক আর না হোক হেগো বেতনতো দেওয়া লাগবে। খুব চিন্তায় আছি রে ভাই।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর চাঁদনী চকের শাড়ি বিতানের মালিক জুবায়ের মল্লিক। তার দোকানে জামদানি, কাতান, লেহেঙ্গা, গাউন থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের শাড়ি থ্রিপিসে ঠাসা।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশি-বিদেশি পোশাক ও প্রসাধনীতে সেজেছে রাজধানীর শপিং মলগুলো। কোরবানির ঈদের মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও এখনও জমে উঠেনি কেনাকাটা। স্বাভাবিক দিনের মতোই শপিং মলগুলাতে চলছে কেনাকাটা। ঈদের কোনো আমেজও নেই।

শুক্রবার চাঁদনী চকের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে একই চিত্র পাওয়া যায়। বেশিরভাগ দোকানি ও তাদের কর্মচারীরা বসে বসে অলস সময় পার করছেন। চাঁদনী চক মাড়িয়ে ধানমন্ডি হকার্স, নিউমার্কেট হয়ে এলিফ্যান্ট রোডে এসেও একই চিত্র দেখা যায়। 

এলিফ্যান্ট রোডের পাজ্ঞাবি বিতানে ঈদ কেনাকাটা নিয়ে কথা হচ্ছিল মালিক রজব আলীর সঙ্গে। আলাপচারিতার মাঝখানে তার দোকানে পাজ্ঞাবি কেনার জন্য এক ক্রেতা ঢুকলেন। রজব আলী ওই ক্রেতার কাছে একটি পাজ্ঞাবি বিক্রি করার জন্য কত অনুনয়-বিনয়ই না করলেন। শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য দাম কম রাখার প্রস্তাবও দেন রজব। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না।

রজব আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ভাই বিক্রি নাই। সকাল দশটায় দোকান খুলছি এখন আসরের আজানের সময় হয়ে আসছে, কিন্তু যাত্রা হয় নাই। তবে আশা করতেছি সন্ধ্যার দিকে কিছু কাস্টমার আসব। আর ঈদের কেনাকাটা করার মতো আরও সময় আছে, এখন সেই আশা দিয়েই মনেরে বুঝ দিচ্ছি।’

এলিফ্যান্ট রোডের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারাও একই হতাশার গল্প শোনান। তারা প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করেন, আশায় থাকেন, ক্রেতা আসবে। কিন্তু ক্রেতা আসে না। বিক্রিও হয় না।

সাধারণত ঈদুল আজহায় কেনাকাটা কোনো সময়ই তেমন জমে না।কারণ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম এই উৎসবে প্রধান আকর্ষণ থাকে কোরবানির পশু কেনা। পশু কিনতে মোটা অংকের টাকা লাগে বলেই কেনাকাটা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনাও কম থাকে। তবে সামর্থ্যবানরা কোরবানি ঈদেও যথারীতি নতুন জামা কিনেন। যদিও এই সংখ্যাটি খুব কম।

বসুন্ধরা শপিং মলের চিত্র

পণ্যের সংগ্রহ আর ডিজাইনের দিক থেকে বসুন্ধরা শপিং মল প্রত্যেক ঈদকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ে আসা হয় নিত্যনতুন পণ্য। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এখানেও জমেনি ঈদবাজার। স্বাভাবিক দিনের মতো করেই চলছে কেনাকাটা। শুধু তাই নয় ক্রেতা আকর্ষণের জন্য পণ্যভেদে মূল্যছাড় দিয়েও ক্রেতা ভেড়াতে পারেনি বিক্রেতারা।

সরেজমিনে রিচম্যান, স্মাটেক্স, আড়ং, ইজি,মনেরেখ শাড়িজ, জ্যোতিসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরে ঈদে বিক্রির যে আমেজ সেটা দেখা যায়নি। বসুন্ধরা সিটিতে ক্রেতা সংকট তা বলা যাবে না। তারপরও কেন বিক্রি হচ্ছে না জানতে চাইলে জ্যোতি শাড়ির সেলসম্যান মেহেদি হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই ঈদে প্রত্যেক বছরই কেনাকাটা কমই করে মানুষ। মূলত এই ঈদে পশু কেনায় মানুষের সব টাকা চলে যায়। যার কারণে জামাকাপড় কেনাকাটা করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। যারা স্বচ্ছল তারা সাধারণত এই ঈদে কেনাকাটা করে। আমাদের বিক্রি হচ্ছে, তবে ঈদে বিক্রির যে আমেজ সেটা নেই।’

মোহাম্মদপুর থেকে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সুমন তরফদারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আর বলেই না, এবার ঈদে ভাবছি পরিবারের কাউকে কিছুই কিনে দেব না। কারণ এই ঈদে গরু কিনতেইতো সব টাকা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু ছেলেটা জামা নিবে বলে বায়না ধরেছে, নতুন জামা না হলে সে ঈদই করবে না। তাই ওকে জামা কিনে দিতেই আসছি।’

বিক্রেতাদের মন্দা গেলেও ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মুখে একই সুর। কোরবানির ঈদের আনন্দ পশুর হাটে, শপিং মলে নয়।

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত