খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত বেড়ে ৭

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০৭ | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:২৯

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আর তিনজন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ, প্রসিত বিকাশ গ্রুপ) কর্মী। অন্য দুজনের একজন পথচারী স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী এবং আরেকজন গ্রামবাসী।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পৌনে নয়টার মধ্যে উপজেলার স্বনির্ভর এলাকায় এ হত্যাযজ্ঞ চলে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেনÑ ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা (২৩), সহ-সম্পাদক এলটন চাকমা (২৮), গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা (২৯), বরুন চাকমা (২৬), রুপন চাকমা (২৭), মহালছড়ি উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জিতায়ন চাকমা (৫২) ও শন কুমার চাকমা (৭০)।

আহতদের মধ্যে সমর বিকাশ চাকমা (৪৮), সুকিরন চাকমা (৩৫) ও সোহেল চাকমার (২২) নাম জানা গেছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা ও জেলা সমন্বয়কারী মাইকেল চাকমা এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (এমএন লারমা) দায়ী করেছেন।

তবে জনসংহতি সমিতি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের নেতা সুধাংকর চাকমা দাবি করেন, ‘ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই ঘটনা ঘটেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রামবাসীদের নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসিত বিকাশ গ্রুপ) সকালে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এ জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাশের রাস্তায় জড়ো হচ্ছিলেন। কর্মসূচি শুরুর আগে দুর্বৃত্তরা এসে ব্রাশফায়ার করে।

এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচ- গুলিবিনিময় হয়। ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। লাশগুলো উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, আনুমানিক সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শহরের অদূরে স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিকভাবে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত ও আরও  কয়েকজন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ইউপিডিএফ সমর্থক নেতা ও কর্মী বলে জানা গেছে।

ওসি জানান, পরে আহত শন কুমার চাকমা হাসপাতালে মারা যান। তবে সবার বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। গোলাগুলিতে স্বনির্ভর বাজারের পুলিশ বক্সেও গুলি লাগে বলে জানান ওসি।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, সকালে গুলিবিদ্ধ নয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close