করমর্দনে অস্বীকৃতি, নাগরিকত্বের আবেদন বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৫০

নাগরিকত্বের জন্য সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন না করায় মুসলিম এক দম্পতিকে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

শুক্রবার সুইস কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তারা বলছে, এই দম্পতি লিঙ্গ সমতায় সংহতি ও শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

কয়েক মাস আগে এই দম্পতির সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল। বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তি কর্তৃক জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিতেও তারা কুন্ঠাবোধ করছিল।

কয়েক দিন আগে সুইডেনের এক মুসলিম নারী চাকরির জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিতে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানান। এই কারণে তাকে সাক্ষাৎকার কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি এই বিষয়ে সুইডেনের বৈষম্য বিষয়ক ন্যায়পালের কাছে অভিযোগ জানালে ছয় হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পান।

সুইস কর্তৃপক্ষ জানায়, নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের সুইজারল্যান্ডের সমাজের সঙ্গে অবশ্যই সংহতি এবং সুইজ্যারল্যান্ডের প্রতি আনুগত্য পোষণ করতে হবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।    

এই দম্পতিকে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে এসেছেন। লোজান শহরে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সুইস নাগরিক হতে সব শর্ত পূরণ না পারায় এই দম্পতির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

লোজানের মেয়র গ্রেগয়র জুনদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্থানীয় আইনে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি সন্নিবেশিত আছে। কিন্তু ধর্মীয় চর্চা এই আইনের বাইরে পড়ে না। 

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, এই দম্পতিকে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, তবে তাদের ধর্মীয় পরিচয় বুঝাই যাচ্ছিল।

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, তাদের ধর্মের কারণে নাগরিকত্ব প্রত্যাখান করা হয়নি। লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে তাদের অশ্রদ্ধার কারণে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

এই দম্পতির সাক্ষাৎকার নেয়া কমিশনের একজন পিয়েরে অ্যান্তোনি হিলব্র্যান্ড। তিনি জানান, ধর্মান্ধতার ঊর্ধ্বে সংবিধান এবং নারী-পুরুষের সমতা।   

করমর্দন প্রত্যাখানের কারণে সুইজারল্যান্ডে বিতর্কের ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কুলে একজন নারী শিক্ষকের সঙ্গে করমর্দন না করায় দুই মুসলিম ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে একজন আলজেরীয় নারী নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে হাত না মেলানোয় তাকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি।

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত