বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত জিয়া: কূটনীতিকদের আ.লীগ

তানিম আহমেদ
ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩৩ | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪০
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তৎকালীন উপসেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় শোক দিবস পালনের অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে ৩২ নম্বরের বাড়িতে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের এক বৈঠক হয়। এ সময় তারা এ কথা বলেন।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক উপকমিটির নেতারা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয় ও হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত থাকার বিষয়টি কূটনীতিকদের অবহিত করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু, তার তিন ছেলেসব পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদেরকে হত্যা করা হয়। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে ছিলেন বলে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই হত্যার বিচার করা যাবে না বলে পরের রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ যে অধ্যাদেশ জারি করেন, জিয়াউর রহমান তা সংবিধানে সংযোজন করেন ১৯৮১ সালে। সেই সঙ্গে খুনিদেরকে বিভিন্ন দূতাবাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে পাঠান।

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি আরদুর রশিদ এবং ফারুক রহমান ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থরি মাসকারেহানসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জাতির জনককে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তারা জিয়াউর রহমানকে আগেই জানিয়েছেন। আর সে সময়ে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ও পরে সেনাপ্রধান অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমান তাদেরকে এগিয়ে যেতে বলেন।

এই বিষয়টির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা নানা সময় বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন, আগস্টের শুরুতে এক আলোচনায় বলেছেন, জিয়াউর রহমানের বিচার করতে না পারায় তার দুঃখ রয়ে যাবে।

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল জিয়া। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছে জিয়া। আমরা এই হত্যার বিচার পাইনি। আমাকে দেশে ফিরতেও দেয়নি জিয়া।’

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘৪২টি দেশের কুটনীতিকদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। এই বৈঠকে রাজনৈতিক কোনো আলাপ হয়নি। ১৫ আগস্টের পুরো ঘটনা বিদেশি কূটনীতিকরা তেমন বেশি কিছু জানেন না। তাদের কাছে মূল ফ্যাক্ট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।’                                                                   

‘এই হত্যার সঙ্গে যে জিয়া জড়িত ছিল, খুনি ফারুক-রশীদ দেশি বিদেশি সাক্ষাৎকারে জিয়া জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন সেসব ডকুমেন্টস তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’

শাম্মী জানান, বঙ্গবন্ধু এই বাড়িতে থাকতেন তা জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন কূটনীতিকরা।

বৈঠকে সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনীতিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনিও ঘটনার পরম্পরায় বিশ্লেষণ করে বিদেশিদের বলেন, এই ঘটনায় কীভাবে জিয়া জড়িত ছিলেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, ‘ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাযজ্ঞ এটি। এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করাই ছিল এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য।’

১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাপস বলেন, ‘মাত্র তিন বছর বয়সে আমার মা আরজু মনি, বাবা শেখ ফজলুল হক মনির রক্তাত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান কূটনীতিকদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘এই হত্যার পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কারা করেছিল, কেন করেছিল এগুলো বিশ্লেষণ করলে পরিস্কার হয়ে যায় এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী?’

বৈঠকে ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের সুবিধাভোগী কারা তা তুলে ধরেন শাম্মী আহমেদ।

                                                                       জিয়াউর রহমান (ডান থেকে প্রথম)

পরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কূটনীতিকদের ঘুরে দেখান উপকমিটির নেতারা। বৈঠকে ১৫ আগস্টের উপর নির্মিত বিভিন্ন ভিডিও চিত্র, এই হত্যাযজ্ঞের উপর দেশি বিদেশি বিভিন্ন লেখা, তদন্ত রিপোর্ট কূটনীতিকদের হাতে তুলে দেন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মান, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান, ভারত, চীনসহ ৪২ টি দেশের কূটনীতিক ও তাদের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/টিএ/ইএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত